রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর চারদিন হয়ে গেছে। তিনি এখন বনানীতে করবে শায়িত। তিনি ক্যারিসমাটিক নেতা ছিলেন না। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর জানাজায় লক্ষ মানুষের ঢল নামায় প্রমাণিত হয়েছে এই স্বল্পবাক, নিভৃতচারী মানুষটি দেশবাসীর কতোটা অন্তরের লোক ছিলেন। দলমত-নির্বিশেষে সকল মানুষের ভালোবাসায় তিনি আপ্লুত হয়েছেন। রাজনীতিতে অনেক সময় ক্যারিসমার চাইতেও কমিটমেন্ট যে মানুষের চোখে বড় হয়ে দেখা দেয় জিল্লুর রহমান তার প্রমাণ রেখে গেলেন।
তিনি হাই প্রোফাইল রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। কিন্তু রাজনীতিতে নিজের অবস্থানের কথা কখনো আমলে আনেননি। তাঁর নীতিনিষ্ঠা ও কমিটমেন্টের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রাজনীতি করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্ব মেনে নিতে কিছুমাত্র দ্বিধা দেখাননি। এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখিয়ে কোনো কোনো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হাই প্রোফাইল নেতা আজ ইতিহাস এবং জনগণ দুইয়ের দ্বারাই প্রত্যাখ্যাত। হারাধনের একটি ছেলের মতো বনে বনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ এই সর্বোচ্চ পদে তাঁদেরই আগে বসার কথা।
গণনার দিক থেকে জিল্লুর রহমান সম্ভবত বাংলাদেশের ঊনিশতম রাষ্ট্রপতি। কিন্তু দুটি কাজের জন্য তিনি বাংলাদেশের সবচাইতে সফল রাষ্ট্রপতি হিসেবে ইতিহাসে স্বীকৃতি পাবেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে আমি এই হিসেবের মধ্যে আনছি না। তাঁর এই দুটি কাজের একটি হলো, তিনি যখন রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন তখন অনেকেই ঠোঁট বেঁকিয়ে বলেছিলেন, তিনি একেবারেই একজন দলীয় ব্যক্তি। আব্দুর রহমান বিশ্বাস ও ইয়াজউদ্দীন আহমদের মতো ‘দলদাস’ রাষ্ট্রপতি হবেন।
জিল্লুর রহমান এই সন্দেহকে অমূলক ও অসত্য প্রমাণ করেছেন। যার বড় প্রমাণ তাঁর জানাজায় দলমত নির্বিশেষে লক্ষ মানুষের ঢল এবং এই প্রথম আওয়ামী লীগ মনোনীত একজন রাষ্ট্রপতির প্রতি বিএনপি— বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন। সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীনের বঙ্গভবনে থাকার শেষদিকে বেগম জিয়া তাঁর প্রতি বিশেষ কারণে আগের বিরূপ মনোভাব পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু এবার খালেদা জিয়ার বঙ্গভবনে গমন, জানাজায় বিএনপি নেতাদের যোগদান এবং সরকার কর্তৃক ঘোষিত তিনদিনের শোক দিবস পালনের পাশাপাশি বিএনপিরও তিনদিন শোক দিবস পালনের ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা নতুন দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। এই শোক দিবসে একদিনের হরতালের ডাকও বিএনপি প্রত্যাহার করেছে।
এই যে সংঘাত থেকে দেশের রাজনীতিকে সমঝোতার পথে টেনে আনা এটাকে আমি প্রয়াত রাষ্ট্রপতির সবচাইতে বড় সাফল্য মনে করি। তিনি জীবিত থাকতেই এই সমঝোতার প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন, এখন সেই প্রচেষ্টার সাফল্য তাঁরই মৃত্যু দেশবাসীকে তাঁর শেষ উপহার হিসেবে দিয়ে গেল। এখন রবীন্দ্রনাথের সেই বহু উদ্ধৃত কবিতাটি তাঁর বেলাতেও উল্লেখ করা যায়ঃ “এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ/মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।” রাষ্ট্রপতি হয়ে জিল্লুর রহমান প্রমাণ করে গেলেন, দলের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি হয়েও দলীয় ভূমিকা ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠা যায়।
আশিঊর্ধ্ব বয়সের মৃত্যু অকাল মৃত্যু নয়। কিন্তু জিল্লুর রহমানের এই মৃত্যু অসময়ের মৃত্যু। দেশে চলছে রাজনৈতিক সংঘাত। সাধারণ নির্বাচন দ্রুত এগিয়ে আসছে। তা নিয়েও চলছে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা। এই বিতর্কেরও একটি সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা ও চূড়ান্ত দণ্ডদান নিশ্চিত করার ব্যাপারেও রাষ্ট্রপতির একটা ভূমিকা থাকে। এই ব্যাপারে জিল্লুর রহমানের মতো একজন প্রকৃত নিয়মতান্ত্রিক এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য (যা এখন প্রমাণিত হয়েছে) একজন রাষ্ট্রপতিই পারতেন একটি ইতিবাচক ভূমিকা নিতে। যে ভূমিকা হয়তো তিনি নিয়েছিলেনও। যার সাফল্য আমরা দেখছি তাঁর এই অসময়োচিত মৃত্যুবরণের সময়ে।
এখন সংবিধানের বিধান অনুযায়ী স্পিকার আবদুল হামিদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। নব্বই দিনের মধ্যে একজন স্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে, যিনি পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। ইত্যবসরে যদি নির্বাচনে সরকার বদল হয়, তাহলেও এই রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন পুরো সময়। এবং এই রাষ্ট্রপতিকে একটি স্বাভাবিক সময়ের নয়, ক্ষমতায় বসেই একটা অশান্ত, অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। তার পূর্বসূরির মৃত্যু অপ্রত্যাশিতভাবে দেশে রাজনৈতিক সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি করে গেছে। তিনি তা ধরে রাখতে পারবেন কিনা, তাঁকে স্থায়ী সাফল্য দিতে পারবেন কিনা তার উপরেও দেশের ভবিষ্যত্ অনেকটা নির্ভর করছে। সুতরাং এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগের চাইতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির জন্য শোকের অবসান না হতেই জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। কে হতে যাচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকার এবার কী সিদ্ধান্ত নেবেন? সংসদের ডেপুটি স্পিকারকে স্পিকারের পদে বসিয়ে স্পিকার আব্দুল হামিদকেই কি আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে। না কোনো নতুন মুখ খুঁজে নব্বই দিন পর তাঁকে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা করা হবে?
বাজারে অনেক গুজব। বড় গুজবটি হলো, রাষ্ট্রপতি করা হবে বেগম সাজেদা চৌধুরীকে, যিনি বর্তমান সংসদে উপনেতা। এই গুজবটি বাজারে প্রথম ছড়িয়েছে একটি নিরপেক্ষ বাংলা দৈনিক। যাদের কাছে নিরপেক্ষতার সংজ্ঞাই হলো, শেখ হাসিনা সম্পর্কে মাঝে মাঝেই গুজব ছড়ানো। যা প্রায়শই সত্য বলে প্রমাণ হয় না। যেমন কিছুদিন আগে দেশে যখন জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি তুঙ্গে, তখন কাগজটি আগেভাগেই লিখে দিলো, আওয়ামী লীগ জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণার কথা ভাবছে না।
কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হলে তার অগ্রপশ্চাত্ বিবেচনা করা দরকার এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা না করেই যদি দলটির সন্ত্রাসী তত্পরতা দমন করা যায় তাহলে আরও ভালো। আওয়ামী লীগ সরকার নিশ্চয়ই জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার কথা ভাবছে। কিন্তু কখন কিভাবে করা যায় এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা না করেই তাদের বেআইনি কার্যকলাপ ও সন্ত্রাস দমন করা যায় কিনা তাও সরকার বিবেচনা করে দেখছেন। সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনো আছে। কিন্তু সে সময় না যেতেই রটনা করে দেয়া হলো, জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। এই রটনার উদ্দেশ্য, সরকারের ইচ্ছা সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং সরকার গণদাবি মানতে চায় না এটা প্রচার করে তার বর্তমান অবস্থানকে দুর্বল করা।
এখন সাজেদা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করা সম্পর্কেও গুজবটির ইনিসিয়েটর এই নিরপেক্ষ দৈনিকটি। সাজেদা চৌধুরী যে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন না তা নয়। প্রতিভা পাতিলের মতো প্রায় অপরিচিত মহিলা যদি ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়ে পুরো মেয়াদ কাটাতে পারেন, তাহলে সাজেদা চৌধুরী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না কেন? তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক বেশি পরিচিত এবং তারও রাজনৈতিক প্রতিভার কমতি নেই। কিছু কিছু বাস্তব কারণেই শেখ হাসিনা বা তাঁর সংসদীয় দল সাজেদা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেবেন তা আমার মনে হয় না। এই বাস্তব কারণগুলো কি তা নিয়ে আমি এই মুহূর্তে আলোচনা করতে চাই না এজন্যে যে, সাজেদা চৌধুরী নিশ্চিতভাবেই রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন না এটা স্বচ্ছন্দে বলতে পারি। সুতরাং তাঁর রাষ্ট্রপতি না হওয়ার বাস্তব কারণগুলো নিয়ে এখানে আলোচনা করা অপ্রাসঙ্গিক।
গুজবে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আরো অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। আমি সেসব নাম নিয়েও আলোচনা করতে চাই না। কারণ, গুজবের ঘুড়ি উড়িয়ে লাভ নেই। দেশে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করলে আমিও দু’জন অরাজনৈতিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করতাম। একজন সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক এবং অন্যজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর এবং সাবেক কূটনীতিক অধ্যাপক সাইদুর রহমান। ভারতের বিজ্ঞানী আবুল কালামের মতো কাউকে খুঁজতে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাউকে খুঁজতে গেলে জেনারেল (অব.) সিআর দত্তের নাম বলতে হয়। কেউ কেউ বলেন, বর্তমান মুহূর্তে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো গেলে দাঙ্গাপীড়িত সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের ভাব ফিরে আসবে।
কল্পনার ফানুস উড়িয়ে লাভ নেই। বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রয়াণের পর দেশে যে সংঘাতের রাজনীতির অবসানের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে ধরে রাখা এবং সফল করার মতো সকল দলমতের মানুষের আস্থাভাজন এবং রাজনৈতিক চিন্তাভাবনায় বিচক্ষণ এক ব্যক্তিকে বঙ্গভবনে বসানো। বিএনপিও আগের সর্বাত্মক বিরোধিতার মনোভাব ত্যাগ করে একজন নিরপেক্ষ ও সমদর্শী ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানোর অনুরোধ জানিয়েছে। শেখ হাসিনা এই ধরনের এক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে নয়া রাষ্ট্রপতি পদে বসাতে পারলে এবং বিএনপি তাঁর প্রতি আস্থাশীল হলে মনে হয়, সেই রাষ্ট্রপতির তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি দ্বিধা করবে না এবং পুরনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জেদ তারা ত্যাগ করবে। রাজপথে জামায়াতকে সন্ত্রাস সৃষ্টিতে সাহায্য দানেও তারা বিরত হবে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার ও দণ্ড যেমন বিএনপি মেনে নিয়েছে, তেমনি ’৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ডও বিএনপি মেনে নেবে। এটি অবশ্য একটি অসম্ভব আশা। কিন্তু আশা পোষণে দোষটা কি?
আমার ক্ষুদ্রবুদ্ধির ধারণা, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদকেই যদি নব্বই দিন পর রাষ্ট্রপতি পদে বসানো হয় তাহলেই সম্ভবত সব কূল রক্ষা পাবে। সংসদের স্পিকার হিসেবে গত চার বছর তিনি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারও আগে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার। তাঁর নিরপেক্ষতা কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। প্রয়াত জিল্লুর রহমানের মতো তিনি একই এলাকার লোক। তাঁরই মতো হাই প্রোফাইলের নেতা নন এবং দলের প্রতি অকুণ্ঠ কমিটমেন্ট থাকা সত্ত্বেও দল-নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণের অভিজ্ঞতাও তাঁর আছে। তিনি পরবর্তী মেয়াদের রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপি’র আপত্তি করার কোন যথার্থ কারণ থাকবে না।
এখন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ কাকে নব্বই দিন পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেবেন তা আমি জানি না। আমার ধারণা, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সামনের রাজনৈতিক ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ দিনগুলোর কথা তিনি স্মরণে রাখবেন এবং হয় আব্দুল হামিদ অথবা এমন এক ব্যক্তিকে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা করবেন, যিনি অতীতের দুই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহম্মদ অথবা ইয়াজউদ্দীন আহমদের ভূমিকা অনুসরণে আগ্রহী হবেন না, বরং প্রয়াত জিল্লুর রহমানের ভূমিকা অনুসরণ করে জাতির মনে নতুন করে আস্থা ও আশা জাগিয়ে তুলতে পারবেন। এই আস্থা ও আশাই বর্তমানে সংঘাতের পরিবর্তে যে সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে ধরে রাখতে পারবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিপদমুক্ত করতে পারবে।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদর্শিত পথের অনুসরণই হবে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দার সবচাইতে বড় দায়িত্ব।
লন্ডন ২৩ মার্চ, শনিবার, ২০১৩
