মাগুরা জেলার ৪টি উপজেলায় বারি-২ জাতের উচ্চ ফলনশীল রসুন চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষি বিভাগের সহায়তায় চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় একশ’ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল এ জাতের রসুনের চাষ হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি-২ জাতের এ রসুনচাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে জেলার প্রতিটি উপজেলায় আদর্শ কৃষকদের মাধ্যমে প্রদর্শনী ক্ষেত করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,বারি-২ রসুন সাধারণ জাতের রসুনের তুলনায় দেড় থেকে দুইগুণ বেশি ফলন পাওয়া যায়। বারি-২ জাতের রসুন চাষ করে হেক্টর প্রতি ফলন পাওয়া যায় ১০ থেকে ১২ মে. টন সেখানে সাধারণ জাতের রসুন আবাদে ফলন হয় ৫ থেকে ৬.মে. টন। এ জাতীয় রসুন স্বাদে ও গন্ধে দেশি জাতের রসুনের ন্যায় তবে দেখতে আকারে একটু বড়। তাছাড়া সংরক্ষণ ক্ষমতাও বেশি। এ কারণেই মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের আধুনিক চাষ পদ্ধতিসহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনাও দিচ্ছেন কৃষি বিভাগ। শ্রীপুর উপজেলার ঘসিয়াল গ্রামের কৃষক চণ্ডিপদ বিশ্বাস জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তিনি ১২ শতাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীন বারি-২ জাতের রসুনের একটি প্রদর্শনী ক্ষেত করেছেন। যা থেকে তিনি ১২ মণ-১৩ মণ রসুন পাবেন বলে আশা করছেন। মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে মাগুরা জেলায় ৮৮৫ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদ করা হয়েছে। যা থেকে ৫ হাজার ৭৭৯ মে.টন রসুন উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের মধ্যে রসুনের চাহিদা পূরণ করতে উচ্চ ফলনশীল বারি-২ জাতের রসুন আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণে কৃষি বিভাগ থেকে তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মো. রুহুল কবির বলেন, রসুন মসলা ছাড়াও ভেজষ ঔষধি কাজে যথেষ্ট ব্যবহার হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় দেশে প্রচুর রসুনের ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণ করতে কৃষি বিভাগ দেশীয় জাতের রসুনের পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল বারি-২ জাতের রসুন আবাদ করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ভাল ফলন পাওয়া যাবে মর্মে কৃষকদের উত্সাহিত করতে এ উপজেলার বেশকিছু কৃষককে প্রদর্শনী প্লট দেয়া হয়েছে। তারা যদি এ চাষে ভাল ফলন পায়, তাহলে ভবিষ্যতে উদ্যমী হয়ে তারা আরোও ব্যাপকভাবে এ চাষে মনোনিবেশ করবে।
