সিরিয়ায় বিরোধী ন্যাশনাল কোয়ালিশনের (এসএনসি) প্রধান মোয়াজ আল খতিব রবিবার পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে সমস্যায় পড়েছে দেশটির বিরোধ গোষ্ঠী। দেশটির বিদ্রোহীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যাপ্ত সমর্থন না থাকায় অনেকটা আশাহত হয়েই তিনি এ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে ইসরাইলি বাহিনী এদিন গোলানে সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে সিরিয়ার সেনাবাহিনী গুলি ছোঁড়ার পর দেশটি পাল্টা হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে।
ফেইসবুক পাতায় এক বিবৃতিতে তিনি লিখেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে থেকে যে পরিবেশে কাজ করতে হয় তার চেয়েও বেশি অবাধ এবং মুক্তভাবে কাজ করার জন্যই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তিনি আরো বলেন, সিরিয়ার জনগণের কাছে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা আসলে তিনি পদত্যাগ করবেন। আর এখন সে সময় এসেছে বলেই তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে পদত্যাগ করলেন বলে জানিয়েছেন। খতিবের এক মুখপাত্র তার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু ঠিক কী সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি পদত্যাগ করলেন সে ব্যাপারে খতিব কিছু বলেননি। এদিকে বিরোধীদলের সদ্য নিয়োগ পাওয়া ঘাসান হিত্তোকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মেনে নেয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি বা এফএসএ। আর্মির রাজনৈতিক ও মিডিয়া সমন্বয়কারক লুয়ে মুকদাদ বলেন, তাকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয় বরং কোয়ালিশনের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ওফির জান্দালমান বলেন, ইসরাইলি বাহিনী পর পর দুইবার হামলার শিকার হওয়ার পর পাল্টা হামলা চালিয়ে সিরিয়ার একটি মেশিনগান মোতায়েন থাকা অবস্থান ধ্বংস করেছে। ঐ অবস্থান থেকেই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ওপর গত ২৪ ঘণ্টায় দুইবার গুলি চলেছে বলে দাবি করেন তিনি। জান্দালমান বলেন, অধিকৃত ঐ অঞ্চলে ইসরাইলি টহল সেনাদের ওপর ভুলবশত নয় বরং ইচ্ছাকৃতভাবেই হামলা করা হয়েছে। তবে এ হামলা সিরিয়ার সরকারি বাহিনী নাকি বিদ্রোহীরা চালিয়েছে তা স্পষ্ট করেনি ইসরাইল। তাছাড়া ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করছে, গত শনিবারও ইসরাইল-সিরিয়া যুদ্ধবিরতি অঞ্চল থেকে গোলা এসে তাদের একটি সেনাযানে আঘাত করে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র পিটার লার্নার বলেন, আমাদের বক্তব্য হচ্ছে সিরিয়া থেকে ঐ হামলা কোন ‘ভুলবশত আক্রমণ’ ছিল না। তাছাড়া, গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের অংশে গুলি চললে তত্ক্ষণাত্ তার জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল ইসরাইল। ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরাইল সিরিয়ার কাছ থেকে গোলন মালভূমির দখল নিয়েছিল। ১৯৮১ সালে দখলকৃত ঐ অঞ্চলকে ইসরাইল নিজেদের বলে দাবি করলেও বিশ্ব মহলে তা স্বীকৃতি পায়নি।
