অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির উপযোগী আজকের ভাব-সমপ্রসারণ করেছেন
আব্দুল্লাহ আল মামুন
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
মানবিক চরিত্রের সবচেয়ে বড় গুণ হলো ক্ষমা। ক্ষমার মাধ্যমেই মানুষ মহত্ হয়ে ওঠতে পারে। ক্ষমাই মনুষ্যত্বের লক্ষণ। মহত্ মানুষেরা শত্রুর দ্বারা নির্যাতিত হয়েও শত্রুকে ক্ষমা করেন।
“ Forgiveness is the noblest form of revenge” অর্থাত্, “ক্ষমা মহত্ গুণ; মনুষ্যত্বের লক্ষণ।” মানুষের যাবতীয় গুণাবলীর মধ্যে ক্ষমাই সর্বোত্কৃষ্ট। ক্ষমার মাধ্যমেই সকল অন্যায় প্রতিরোধ করা সম্ভব। একটি অন্যায়ের প্রতিরোধ কখনো আর একটি অন্যায় হতে পারেনা। কারণ প্রতিশোধস্পৃহা মানুষকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দেয়। আর ক্ষমা এই প্রতিশোধস্পৃহাকে দমন করে। উদার ও মহত্ মানুষেরা কোনদিন প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে না। কেউ ক্ষতি সাধন করলে প্রতিশোধ না নিয়ে বরং ক্ষমা করে দেন। হযরত মুহম্মদ (স:) এর দৌহিত্র ইমাম হাসান (রা:) ক্ষমার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। ইমাম হাসান (রা:) বিষপ্রয়োগকারী স্ত্রী জাএদাকে ক্ষমা করেছেন। এছাড়াও মহানবী হযরত মুহম্মদ (স:) তায়েববাসীদের ক্ষমা করেছেন এবং ঈসা(আ:) তাঁর শত্রুদের ক্ষমা করেছেন। জগতের সকল মহামানবেরা ক্ষমার যে সাক্ষর রেখে গেছেন তা অতুলনীয়। ক্ষমার মধ্য দিয়েই মানুষের গৌরব ও মহত্ত্ব বৃদ্ধি পায়। ক্ষমার মাঝেই মানুষ অমরত্ব লাভ করতে পারে। ক্ষমাশীল মানুষকে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেন। কারণ আল্লাহতায়ালা নিজে ক্ষমাশীল। আল্লাহতায়ালা কুরআন মাজীদে বলেছেন,‘ ক্ষমা হলো মহত্ত্বের লক্ষণ।’ ক্ষমার মধ্য দিয়ে শত্রুর মনও জয় করা যায়। শত্রুর সকল অত্যাচারেও মুখ বুজে থাকলে, একদিন সে নিজেই লজ্জিত হবে। নিজের ভুল নিজে বুঝতে পেরে অনুতাপ করবে। কোন দন্ডিতকে শাস্তির বদলে ক্ষমা করে ভাল হওয়ার সুযোগ দিলে সে অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হবে। তার জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ হবে। ক্ষমাশীল মানুষ সকলের অনুসরণীয়। মানুষের শ্রদ্ধা যদি মানুষের প্রাপ্য হয়, সে শুধু ক্ষমার গুণেই। বর্তমান বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থায় ক্ষমার খুবই অভাব। জগতের সকল মানুষ আজ প্রতিহিংসাপরায়ণ। তারা একে অপরকে হত্যা করছে, জুলুম করছে। কেউ সামান্য অপরাধেও কাউকে ক্ষমা করছে না। হিংসা মানুষের পরম শত্রু। হিংসা মানুষের মনুষ্যত্ব নাশ করে। যে লোমহর্ষক কাজগুলো পৃথিবীকে নরকে পরিণত করেছে, তার মূলে রয়েছে হিংসা। পৃথিবীতে সবাই যেন প্রতিহিংসার খেলায় মেতে ওঠেছে । ক্ষমার কথা মানুষ এখন ভুলেই গেছে। সৃষ্টিকর্তা সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু মানুষ আজ এই শ্রেষ্ঠত্ব ভুলে পশুত্বের খেলায় মেতে আছে। ক্ষমার আদর্শ অনুসরণ করলে জগতে কোন অনাচার সংঘটিত হবে না। তাই প্রতিহিংসার অনলে ক্ষমার অমিয়ধারা ঢেলে জীবন ও জগতকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ী হতে হবে। তবেই এ পৃথিবীটা স্বর্গের মতো সুন্দর হয়ে ওঠবে।
ক্ষমার পথ অনুসরণ করাই শ্রেষ্ঠত্বের লক্ষণ। ক্ষমাশীল ব্যক্তি সমাজজীবনে শ্রদ্ধাভাজন ও সমাদৃত হয়ে থাকেন। ক্ষমাশীল মানুষ নিজের স্বকীয়তায় সমাজে আত্মপ্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকেন। তাই আমাদের সকলের মধ্যেই এ গুণটি থাকা একান্ত জরুরি।
