শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৩, ২১:০২
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করা যায় না বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে এক সংকটময় অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এই বিপজ্জনক ভয়াবহ পরিবেশের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন সংবেদনশীল ইস্যু প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরাসরি জড়িত। এগুলোর মধ্যে যুদ্ধাপরাধ ও তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুটি বেশি সংবেদনশীল। আর এই উভয় সংকটের মধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। নির্বাচন সম্পর্কে বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল তো বলেই দিয়েছে যে, কোন অবস্থাতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হবে না। আবার বিরোধীদলও বলছে, তারা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে এবং এ অবস্থা না হলে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। আবার বিদেশি কূটনীতিকগণও পরামর্শ দিয়েছেন তারা সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন দেখতে চান। সব মিলিয়ে দেখা যায়, সরকার যেমন চাপ ও বিপাকে আছে, তেমনি বিরোধীদলও হতাশা ও ক্ষোভে আছে। আর এমন অবস্থায় সরকার নির্বাচন দিতে চাইলে সংকট আরো ঘনীভূত হবে, পরিবেশ আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। আর তাই সকলকেই ‘সংক্রামকের পূর্বে প্রতিষেধক’ এই কথাটি বুঝতে হবে, তাহলেই সমস্যার আশু সমাধান ও উত্তরণ হতে পারে। মো. সাইদুল ইসলাম তড়িত্ কৌশল বিভাগ (বিএসসি ইন ইইই), ৪র্থ বর্ষ ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর ---- ফলপ্রসূ আলোচনার মধ্যেই লুকিয়ে আছে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বর্তমানে দেশের রাজনীতি একটি কঠিন সংকটময় পরিস্থিতি পার করছে। যেখানে খুন, মারামারিসহ নানা সংঘাতময় পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন দেশের আপামর জনতা। আর ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। খালি হচ্ছে অনেক মায়ের বুক। অবস্থা যখন এই, সেখানে শুধু অভিজ্ঞমহল নয় দেশের সকল স্তরের মানুষ আশা করছেন একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কিভাবে সম্ভব? দুই প্রধান রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা এবং ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারলেই মনে হয় দূর হবে এই অসম সংঘাত আর জাতি থাকতে পারবে শান্তিতে। আর সত্, যোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে আমার মনে হয় কারো কোনো রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকবে না। তাই সরকারকে বলব আপনারা সবার সাথে আলোচনা করে, সবার মতামতকে প্রধান্য দিয়ে তবেই সিদ্ধান্ত নিন। তাহলেই দেশের রাজনীতি হবে অস্থিরতামুক্ত। শুধু তাই নয় নির্বাচন কমিশনও যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সেদিকে সরকারকে দৃষ্টি রাখতে হবে। তবেই নির্বাচন আর নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠবে না এবং নির্বাচন নিয়ে দূর হবে সব উত্কণ্ঠা এবং দেশ পাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান। মো.মাইনউদ্দিন সোহাগ শিক্ষার্থী, বিবিএ, লেভেল-৩, সেমিস্টার-২, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর ---- রাজনৈতিক দলগুলোকে সংঘাতময় রাজনীতি পরিহার করে নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক সহিংসতা চলছে ভবিষ্যতে তা হয়তো গৃহযুদ্ধের রূপ নেবে। কিন্তু এটা কারও কাম্য নয়। সবাই এই সংঘাতময় রাজনীতির অবসান চায়, চায় শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনীতি, যাতে সোনার বাংলা নামকরণের সার্থকতা বজায় থাকে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এমতাবস্থায় রাজনীতিবিদ হতে শুরু করে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ পর্যন্ত আগামী নির্বাচনের কথা ভাবছে। সবাই তাকিয়ে আছে আগামী নতুন সরকারের অপেক্ষায়, যাতে থাকবে না কোন রাজনৈতিক সহিংসতা। ছাত্রসমাজ, চাকরিজীবী, কৃষক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ আশায় বুক বেঁধে আছে হয়তো তাদের জীবনধারা তথা পুরো দেশ পাল্টে যাবে আগামী নতুন সরকারের সময়। কিন্তু এমতাবস্থায় সবার মুখে একটাই প্রশ্ন-শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি? শান্তিপূর্ণ নির্বাচন তখনই সম্ভব যখন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব অপরিসীম। নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। বর্তমানে দেশে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। এক্ষেত্রেও দলমত নির্বিশেষে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই হোক আর বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হোক সেটা হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। এই সংকটময় মুহূর্ত হতে উত্তরণের একমাত্র মাধ্যমে হচ্ছে- আগামী নির্বাচনের জন্য আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া। মো. শহীদুজ্জামান লিমন এমএস ইন একুয়াকালচার ১১৩, শাহজালাল হল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ। ---- নির্বাচন কি আসলে হবে? মনে হয় হবে না বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনই ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য। কিন্তু স্বাধীনতার চার দশক পরও আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি নাই। তাহলে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যারা স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছেন তাদের আত্মত্যাগই কি বৃথা? নাকি স্বাধীন দেশের মানুষের কথা বাদ দিয়ে যারা নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত, তারাই গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার পথে কণ্টক হয়ে দাঁড়িয়েছে? একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার তা করতে আমাদের সরকারি দল ও বিরোধী দল অনেকখানিই ব্যর্থ। তারা সব সময়ই দলীয় বা ব্যক্তিস্বার্থের জন্য রাজনীতি করে, দেশের মানুষের জন্য ভাববার অবকাশ তাদের নাই। তারা ক্ষমতায় আসার জন্য বা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সব সময় মরিয়া থাকে। যেভাবে দেশ সংঘাতের দিকে যাচ্ছে তাতে নির্বাচন নিয়ে আরও সংশয় দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় বলা যায় নির্বাচন কি আসলে হবে? মনে হয় হবে না। মারুফ আহমেদ ৭ম ব্যাচ, ১ম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন