ইটভাটাকে আইনের আওতায় আনিতে হইবে

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৩
সমপ্রসারণশীল নগরায়ণের কারণে প্রতিনিয়ত গড়িয়া উঠিতেছে নূতন নূতন অট্টালিকা-দালানকোঠা, নির্মিত হইতেছে রাস্তাঘাট। এই নির্মাণকর্মের অন্যতম রসদ হইতেছে ইট। তাই দেশের বৃহত্তম নগর ঢাকার আশপাশে গড়িয়া উঠিয়াছে প্রচুর ইটের ভাটা। ইটের ভাটাগুলি সমপ্রসারণশীল নগরের চাহিদা মিটাইয়া যাইতেছে। কিন্তু ইটের ভাটার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০), পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ (সংশোধিত-২০০২) এবং ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ —এই তিনটি আইনে ইটের ভাটা স্থাপনের বেশ কঠোর পূর্বশর্ত রহিয়াছে। আইনে বলা হইয়াছে, ইটভাটার কোনো কর্মকাণ্ড ও উত্পাদন-প্রক্রিয়া দিয়া কোনোক্রমেই পরিবেশ দূষণ করা যাইবে না। উর্বর কৃষি জমি বা তিন ফসলি জমিতে এবং বসতবাড়ির তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইটের ভাটা স্থাপন করা যাইবে না। শর্তের মধ্যে আরও রহিয়াছে, ইট পরিবহনের ক্ষেত্রে কাভার্ড ভ্যান ব্যবহার করিতে হইবে এবং ধুলা নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত পানি ছিটাইতে হইবে। ইটভাটার জন্য দুই একরের বেশি জমি এবং ইট পোড়ানোর কাজে কাঠ বা কাঠ জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা যাইবে না। উর্বর কৃষি জমি, দোফসলি, তিন ফসলি জমি হইতে ইট তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করা যাইবে না। ভাটার চারিপাশে গাছপালার সবুজ বেষ্টনী গড়িয়া তুলিতে হইবে। কিন্তু খবরে প্রকাশ পাইয়াছে, ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১৫৯টি ইটভাটার মধ্যে ৮৭টিরই লাইসেন্স বা অনুমতি নাই। পরিবেশ ও কৃষির ক্ষতি করিয়া পোড়ানো হইতেছে ইট। অনুমতি পাওয়া ভাটাগুলির প্রায় সবকয়টিই শর্ত লঙ্ঘন করিতেছে। অন্যদিকে মালিকরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হইতে শুরু করিয়া পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনের একশ্রেণির কর্মকর্তাকে অর্থ দিয়া ইট পোড়াইবার অনুমতি তাহারা সংগ্রহ করিতেছেন। আর বৈধ ও অবৈধ ইটভাটাগুলির ব্যবসা টিকাইয়া রাখিতে লাখ লাখ টাকা তাহারা চাঁদা দিতেছেন মালিক সমিতিকে। ধামরাইয়ের প্রায় প্রতিটি ইটভাটাই গড়িয়া উঠিয়াছে বসতবাড়িঘেরা তিন ফসলি জমির উপর। সকলেই দুই একরের বেশি জমি ব্যবহার করিতেছে। চারিপাশে গাছপালার সবুজ বেষ্টনীরও ব্যবস্থা নাই। খোলা ট্রাক ব্যবহার করা হইতেছে। ধুলা-ধোঁয়া উড়িতেছে। বোঝা যাইতেছে, পরিবেশ দূষণকে তোয়াক্কা না করিয়াই ইটভাটাগুলি তাহাদের কার্যক্রমকে পরিচালনা করিতেছে। উপরন্তু ঘুষের বিনিময়ে স্থানীয় প্রশাসন হইতে শুরু করিয়া পরিবেশ অধিদফতর সকলকেই হাতে রাখিয়া এই বেআইনি কাজ চলিতেছে। চাঁদাবাজি করিতেছে মালিক সমিতিও। সমপ্রসারণশীল নগরায়ণে ইটের তীব্র চাহিদা থাকায় মুনাফামুখী ভাটাগুলি যথেচ্ছভাবে স্থাপিত হইতেছে এবং অর্থের বিনিময়ে আইনগত ঘাটতিগুলি পূরণ করা হইতেছে। বায়ু দূষণ, ফসলি জমি ধ্বংস এবং লোকালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করিতেছে ভাটাগুলি। নগরের চাহিদা মিটাইতে আমাদের ইটের ভাটা রাখিতেই হইবে, কিন্তু যতটা সম্ভব পরিবেশ দূষণ এড়াইয়া এই ব্যবসাকে বাড়িতে দিতে হইবে। যথেচ্ছাচার যাহার বরাতে চলিতেছে সেই মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের, ঘুষখোর কর্মকর্তাদের শনাক্ত করিতে হইবে এবং যেরূপ আইনে রহিয়াছে সেইরূপ শর্ত পূরণ করিতে মালিকদের এবং তাহাদের সমিতিকে বাধ্য করিতে হইবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন