বিবেক একটি নীতিবোধক নৈর্ব্যক্তিক শব্দ। বাংলা ভাষায় বিবেক শব্দটি নীতিশাস্ত্রের কাছাকাছি। আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান যখন স্বাধীনতার সাথে বিবেককে সংযোগ করে তখন তা অন্য রকম তাত্পর্য ধারণ করে। ইংরেজী ‘কনশান্’ শব্দটি বিবেক, নীতিবোধ, চেতনা ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ করে। স্বাধীনতা সংযোগে তা হয়ে দাঁড়ায় বিবেকের স্বাধীনতা, নিজ মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিবেক দংশনের বহি:প্রকাশ, বিবেকের প্রতিবাদ ইত্যাদি। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় (মদীনা সনদ ৬২২, ম্যাগনাকার্টা ১২১৫, গৌরবময় বিপ্লব ১৬৮৮, আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রাম ১৭৭৬, ফরাসি বিপ্লব ১৭৮৯, বলশেভিক বিপ্লব, ইরান ইসলামী বিপ্লব ১৯৭৯) বিকশিত রাজনৈতিক সংগ্রামে এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে বিবেকের স্বাধীনতা পরিব্যাপ্ত হয়েছে ব্যাপকভাবে। রাজনৈতিক অধ্যয়নে এখন বিবেকের স্বাধীনতা মানে নিজ বিবেক মতো মত প্রকাশের স্বাধীনতা। বিবেকের স্বাধীনতা মানে কথা বলার স্বাধীনতা। বিবেকের স্বাধীনতা মানে গমনাগমন, সংগঠন, সমাবেশের স্বাধীনতা। বিবেকের স্বাধীনতা মানে নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী ধর্মাচরণের স্বাধীনতা।
সে কারণে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য বিবেকের স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা এবং ধর্মাচরণের মত মৌলিক স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রে নানারকম বিধি ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। প্রতিটি রাষ্ট্র তার প্রণীত সাংবিধানিক কাঠামোতে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। একটি সুনির্দিষ্ট নীতি, আদর্শ, বিধিব্যবস্থা নিয়ে “An autobiography of power relationship ” হিসেবে সংবিধান প্রণীত হয়। প্রণীত সংবিধানে বর্ণিত নাগরিক অধিকার সমূহকে নিশ্চিত করার জন্য গড়ে ওঠে জুডিসিয়ারী বা বিচার ব্যবস্থা। ক্ষমতা কাঠামোর এই পারস্পরিক সম্পর্ক বিন্যাসে নির্বাহী কর্তৃত্ব যাতে স্বৈরাচারী না হয়ে উঠে সে জন্য মন্টেস্কু ‘Seperation of power’ তত্ত্বদ্বারা বিচার বিভাগকে নির্বাহী কর্তৃত্বের বাইরে রাখেন।
এই সব তত্ত্বকথার বিশ্লেষণের মর্মার্থ হচ্ছে এর আলোকে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখা। বাংলাদেশ রাষ্ট্র চার দশক অতিক্রম করেছে। সফলতা-ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। সেখানে স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে তা একটি বিবেচ্য বিষয়। স্বাধীনতা মানে একটি মানচিত্র অর্জন নয়। স্বাধীনতা মানে একটি পতাকা মাত্র নয়। স্বাধীনতা মানে শুধু ভূখণ্ড নয়। স্বাধীনতা মানেই নাগরিক স্বাধীনতা। দেশের মানুষেরা যদি স্বাধীনতা অনুভব না করে স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন না করতে পারে তাহলে তা নিশ্চয়ই সত্যিকার স্বাধীনতা নয়। স্বাধীনতা শুধু কোন ধনিক বণিক শ্রেণীর জন্য নয়। স্বাধীনতা শুধু হিন্দু বা মুসলমানের জন্য নয়। স্বাধীনতা শুধু একটি বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়। ‘আমার এদেশ সব মানুষের’। সুতরাং সকল মানুষ সব প্রাণ খুলে কথা বলবে, সব মানুষ তার বিবেকের ভাষায় কথা বলতে পারবে, সব মানুষ নিষ্ঠার সাথে যার যার ধর্ম অনুশীলন করবে, মতদ্বৈধতা সত্ত্বেও একজন আর একজনের মতকে সম্মান করবে, সমঝোতা সহযোগিতার মাধ্যমে শাসক এলিটরা দেশকে পরিচালনা করবে এটাই হচ্ছে নাগরিক সাধারণের কামনা।
আমাদের এ জাতির যাত্রাপথ শুরু হয়েছিল নাগরিক সাধারণের কাম্য পথেই। অতি অল্প সময়ের মধ্যে আমরা একটি সংবিধান লাভ করি। বাংলাদেশের সংবিধান প্রাথমিক অবস্থায় যেভাবে রচিত হয়েছিল সেটি ছিল একটি আদর্শ সংবিধান। বিশেষভাবে মৌলিক মানবাধিকারের অনুসঙ্গ: বিবেকের স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সেখানে সুসংহতই ছিল। বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ২৬ অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ এ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারের বিবরণীতে ঠাসা। সেখানে আইনের দৃষ্টিতে সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য তিরোহিত করা হয়েছে। সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা বিধান করা হয়েছে। আইনের আশ্রয় লাভের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ দেয়া হয়েছে। চলাফেরার যথার্থ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সংগঠনের স্বাধীনতা গুরুত্বের সাথেই স্বীকৃত হয়েছে। ৩৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্ স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট ধারা নিম্নরূপ: ১. চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল ২. ক. প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং ৩. খ. সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
সংবিধানের প্রাথমিক প্রণয়ন থেকে এ পর্যন্ত নাগরিক অধিকার সংরক্ষণের ধারাগুলো এক রকমই আছে, যদিও ইতোমধ্যে ১৫টি সংশোধনীর পরে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে যথেষ্ট পরিবর্তন পরিবর্ধন পরিমার্জন হয়েছে। মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের পর মৌলিক নাগরিক অধিকারগুলো আরও সুদৃঢ় হওয়ার কথা। মানুষ তো আগায়। পিছায় না। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় চতুর্থ সংশোধনী যেমন মৌলিক মানবাধিকারের কবর রচনা করেছিল তেমনি ২০১১ সালের ৩০ জুলাই প্রবর্তিত গৃহীত ১৫ সংশোধনী প্রকারান্তরে মৌলিক মানবাধিকার হরণ করেছে। পঞ্চদশ সংশোধনীতে ইতিপূর্বে ৭ অনুচ্ছেদে সংবিধানের প্রাধান্যের কথা বলা হয়েছিল। এবারে ৭ ক এবং ৭ খ সংশোধন করে মৌলিকত্ব নিশ্চিতকরণের নামে প্রকারান্তরে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পরবর্তী সংশোধনী অসম্ভব করে তোলা হয়েছে। যেমন এখন কেউ যদি ‘আল্লাহর প্রতি আস্থা বিশ্বাস’ এর ধারাটি পুন:স্থাপন করতে চায় তাহলে তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে গণ্য হবে এবং সর্বোচ্চ দণ্ড অর্থাত্ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে। পঞ্চদশ সংশোধনী জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করে গোটা জাতির জন্য সাংবিধানিক সংকট, সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সংঘাতময় অবস্থা নাগরিক সাধারণের মৌলিক মানবাধিকার চর্চা, প্রকাশ ও প্রয়োগে অস্বাভাবিক বিঘ্নের সৃষ্টি করেছে।
প্রধান ইসলামী দল যখন কোথাও কোন সমাবেশ জমায়েত মিটিং মিছিল অথবা মানববন্ধন করে তখন ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশ। প্রধান নির্বাহী বলেছেন তিনি রক্ত ঝরাতে চান না। তাহলে কে এই মধ্যস্বত্বভোগী অপেশাদার কর্তৃত্বধারী? যিনি বিবেকের স্বাধীনতাকে পদদলিত করছেন। যার কাছে মানুষের জীবন, সম্মান ও সম্পদ কোনটাই নিরাপদ নয়। তিনি কি করে গোটা জাতির জিম্মাদার হতে পারেন?
মূল প্রতিপাদ্য বিষয় বিবেকের স্বাধীনতা। বিবেকের স্বাধীনতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সমূহের মৌলিক ভিত্তি বলে গণ্য করা হয়। বিবেকের স্বাধীনতার ব্যাপ্তি অনেক বিস্তৃত। বলার স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা, মতামত প্রকাশের স্বধীনতা, ইচ্ছামত গমনাগমনের স্বাধীনতা ইত্যাদি হচ্ছে বিবেকের স্বাধীনতার বহি:প্রকাশ। এমনকি নিজের খুশিমতো কাপড় চোপড় পরা, নিজ ইচ্ছামত শখের কাজটি করতে পারা, মনের মত সঙ্গীত শোনা অর্থাত্ ব্যক্তির নিজস্ব বা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়সমূহ স্বাধীনমত করতে পারা বিবেকের স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। সহজভাবে, স্বাভাবিকভাবে, নিজের কাজটি নিজে করায় কোন বাধা থাকার কথা নয়। যখন সমাজতান্ত্রিক বা স্বৈরাচার নিয়ন্ত্রিত সমাজে নিজের খেয়ালখুশি মত চলা যায় না তখনই মুক্ত সমাজের সাথে এর পার্থক্য বোঝা যায়। মুক্ত সমাজ মানেই গণতান্ত্রিক সমাজ। সুতরাং বাক বিবেকের স্বাধীনতার সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই বলা যায়: “Free speech requires democracy and democracy requires free speech” (Stansley C. Brulaker, 1195:506) স্বৈরাচার বা ব্যক্তিতন্ত্র বাক বিবেকের স্বাধীনতাকে অবদমন করে। তার কারণ এটা তাদের স্থায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ করে। ব্যক্তিতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্রের প্রবণতাই হচ্ছে ক্ষমতার মসনদকে চিরস্থায়ী করা আর না হলেও দীর্ঘায়িত করা। সেক্ষেত্রে গণতন্ত্র ব্যক্তিতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্র স্থায়িত্বকে হ্রাস করে।
১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হলেও ঐসব আদর্শের প্রেতাত্মারা ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। কোন কোন দেশে এর অপভ্রংশ এখনও লক্ষ্য করা যায়। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নাগরিকের মত প্রকাশের সুযোগে গণতন্ত্রবিরোধী বামরা এর সদ্ব্যবহার করে। সমাজকে বিপথগামী করে। যেমন করেছিল হিটলার। জাতীয় মুক্তির অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে ইহুদী বিদ্বেষ তুঙ্গে তুলে হিটলার জার্মান জনগণকে ভাবাবেগে তাড়িত করে জার্মান জাতির সর্বনাশ সাধনে সক্ষম হয়। একবার হিটলার তন্ত্র, নািসবাদ বা ফ্যাসিবাদ কায়েম হলে মুক্তির পথ অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। অপরদিকে মুক্ত বিশ্বে যেখানে মানুষ সতত স্বাধীন সেখানে ব্যক্তি তার মেধা মনন আচরণ বিশ্বাস দ্বারা একটি মর্যাদাকর অবস্থান তৈরি করে। ব্যক্তি যখন সমষ্টি হয়ে দাঁড়ায় তখন গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকতা অর্জন করে। বলা হয় ব্যক্তির বিবেক পুণ্যময় সমাজ তৈরী করে, পুণ্যময় সমাজ গণতন্ত্রকে পরিপূর্ণতা দান করে। যখন গণতন্ত্র পরিপূর্ণতা পায় রাষ্ট্রে তা প্রতিফলিত হয়। এভাবে অতীতে “Virtue and religious salvation-laid the foundation for liberal democracy and aligned it with freedom of speech” (পূর্বোক্ত: ৫০৬)।
এ ধরনের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিবেকের স্বাধীনতা সৃজনশীলতার পরিবেশ পায়। ব্যক্তির উত্কর্ষের সাথে সামাজিক উত্কর্ষ সাধিত হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাণ পায়। এমনকি কবিতা কাব্য-থেকে আবিষ্কার-অর্জনে উত্সাহিত হয় মানুষ। অন্যথায় মানুষ হয়ে উঠে প্রাণহীন বস্তুর মত: ষ্টেরিও টাইপ। বাক ব্যক্তির স্বাধীনতা মানুষকে সত্যান্বেষণে সাহায্য করে, আর তা গণতন্ত্রেরই অনুষঙ্গ। বাক বিবেকের সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে। যখন ‘Absolute power corrupts absolutely’ তখন বিবেক তার লাগাম টেনে ধরে। গণতন্ত্র স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। গণতন্ত্র বাক বিবেকের স্বাধীনতার পূর্ব শর্ত। গণতান্ত্রিক সমাজেও বাক স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত, নিয়ন্ত্রিত, এমনকি নির্বাসিত হতে পারে। কর্তৃত্বের উপর নির্ভর করে যেমন জাতির ভবিষ্যত্ (তেমনি বাক বিবেক ব্যক্তি স্বাধীনতা) নেতৃত্ব যদি হয় স্বৈরতান্ত্রিক, আবার তা যদি হয় বিকারগ্রস্ত তাহলে সে জাতির বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ, সমাবেশের স্বাধীনতা পরিত্যাজ্য, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পরিত্যক্ত হতে বাধ্য।
মানুষ বেঁচে থাকলেই তো বিবেকের স্বাধীনতা? গোটা বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাসমূহ: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস সকলেই বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ উত্কণ্ঠা প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থাসমূহ বিশেষত: অধিকার দায়িত্বশীলতার সাথে প্রামাণ্য তথ্য দিয়ে ভয়ংকর অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছে অথচ তাদের রাটি পর্যন্ত নেই। যে যাই বলুক না কেন তাদের ‘সোনার হরিণ চাই’। রক্তনদী বইয়ে দিয়ে যারা সোনার হরিণ চান তারা তো চেঙ্গিস, হালাকু খান, ইয়াহিয়ার উত্তরাধীকারী। ক্ষমতার দাপটে যারা ক্ষমতা ধরে রাখতে চান ক্ষমতা তাদের ছেড়ে যায়। ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা এই যে, ইতিহাস থেকে কেউ শেখে না। গোটা দেশে তারা পুলিশী রাজত্ব কায়েম করেছে। গোটা দেশকে তারা জেলখানায় পরিণত করেছে। গোটা দেশের সকল মানুষ নির্ভয়ে বিবেকের ভাষায় কথা বলতে পারছে না। হিটলার লেনিন স্ট্যালিনের নিকৃষ্ট স্বৈরাচার কায়েম হয়েছে দেশে। মানুষের বিবেক ভিতরে ভিতরে গুমরে গুমরে মরছে। তারা বলতে পারছে না। তারা লিখতে পারছে না। দানবীয় এক দেয়াল তৈরী করেছে ‘প্রতারণা প্রচারণার’ মাধ্যমে। নিকৃষ্ট কর্তৃত্ববাদের নিপীড়ন নির্যাতন গোটা দেশের উপর পারমাণবিক বোমার ধূম্রকুণ্ডলীর মত ছেয়ে আছে। একটি বহুল কথিত উদ্ধৃতি এ রকম: “When government fears the people there is democracy, when people fears the government there is tyranny.” দেশে গণতন্ত্র না স্বৈরতন্ত্র কায়েম রয়েছে সেটি জনগণই ভাল জানেন।
লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
