প্রিয় শিক্ষার্থীরা তোমাদের প্রতি রইল শুভ কামনা। আজ তোমাদের নতুন সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত জীববিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব, যা তোমাদের চূড়ান্ত পরীক্ষাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
দ্বিতীয় অধ্যায়
১৪। প্র:কোষ কাকে বলে?
উ: অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা আবৃত সজীব আত্মপ্রজননশীল প্রোটোপ্লাজমিক গঠনকে কোষ বলে।
১৫। প্র: আদিকোষ কাকে বলে?
উ: যে কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয় তাকে আদিকোষ বলে।
১৬। প্র: প্রকৃত কোষ কাকে বলে?
উ: যে কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাকে প্রকৃত কোষ বলে।
১৭। প্র: জাইগোট কাকে বলে?
উ: মাতৃ ও পিতৃ জনন কোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনকারী প্রথম কোষকে জাইগোট বলে।
১৮। প্র: প্রোটোপ্লাজম কাকে বলে?
উ: কোষের ভিতরে যে অর্ধস্বচ্ছ থকথকে জেলির ন্যায় বস্তু থাকে তাকে প্রোটোপ্লাজম বলে। অর্থাত্ কোষঝিল্লী দ্বারা ঘেরা সমুদয় বস্তুই প্রোটোপ্লাজম।
১৯। প্লাস্টিড কাকে বলে?
উ: কোষের সর্বাপেক্ষা বৃহত্ অঙ্গানু যা বিভিন্ন ধরনের বর্ণ কণিকা ধারণ করে তাকে প্লাস্টিড বলে।
২০। ক্রোমোপ্লাস্ট কী?
উ: যে প্লাস্টিড সবুজ নয় এবং জ্যান্থফিল ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকো সায়ানিন ইত্যাদি বর্ণের কণিকা ধারণ করে তাকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলে।
২১। রাইবোজোম কাকে বলে?
উ: যে পর্দাবিহীন কোষীয় অঙ্গানুটি প্রধানত আমিষ সংশ্লেষণে সাহায্য করে এবং প্রোটিনের প্রয়োজনী উেসচক সরবরাহ করে তাকে রাইবোজম বলে।
২২। লাইসোজোম কাকে বলে?
উ: যে কোষীয় অঙ্গানু তার উেসচকের সাহায্যে আগত জীবাণুগুলোকে হজম করে ফেরে তাকে লাইসোজোম বলে।
২৩। প্র: জিন কাকে বলে?
উ: একটি বিস্তৃত DNA অণুর নির্দিষ্ট খণ্ডাংশ যা জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে তাকে জিন বলে।
২৪। প্র: টিস্যু কাকে বলে?
উ: একই ভ্রূণস্তর থেকে সৃষ্ট কতগুলো কোষ যখন একটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে তখন ঐ কোষগুচ্ছকে টিস্যু বলে।
২৫। প্র: সরল টিস্যু কাকে বলে?
উ: যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন তাকে সরল টিস্যু বলে।
২৬। প্র: পরিবহন টিস্যু কাকে বলে?
উ: যে টিস্যু উদ্ভিদের মূল হতে খনিজ লবণ ও পানি পরিবহন করে পাতায় নিয়ে যায় এবং পাতায় উত্পাদিত খাদ্য দেহের বিভিন্ন অংশে নিয়ে যায় তাকে পরিবহন টিস্যু বা ভাস্কুলার বান্ডল বলে।
২৮। প্র: যোজক টিস্যু কাকে বলে?
উ: যে টিস্যুতে মাতৃকার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম তাকে যোজক টিস্যু বলে।
২৯। প্র:লসিকা তন্ত্র কাকে বলে?
উ: মানবদেহে বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে যে জলীয় পদার্থ জমা হয় সেগুলো কতগুলো ছোট নালির মাধ্যমে সংগৃহীত হয়ে একটি স্বতন্ত্র নালিকা তন্দ্র গঠন করে তাকে লসিকা তন্ত্র বলে।
৩০। প্র: পেশি টিস্যু কাকে বলে?
উ: ভ্রূণ মেসোডার্ম থেকে তৈরি সংকোচন প্রসারণশীল বিশেষ ধরনের টিস্যুকে পেশি টিস্যু বলে।
৩১। প্র: স্নায়ু টিস্যু কাকে বলে?
উ: যে টিস্যু পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা যেমন তাপ, স্পর্শ, চাপ ইত্যাদি গ্রহণ করে দেহের ভিতরে মস্তিষ্কে পরিবাহিত করে এবং মস্তিষ্কের বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপযুক্ত কাজ করে তাকে স্নায়ু টিস্যু বলে।
৩২। সিনাপস কী?
উ: পরপর দুটি নিউরনে প্রথমটির অ্যাক্সন এবং পরেরটির ডেনড্রাইটের মধ্যে যে স্নায়ুসন্ধি গঠন করে তাকে সিনাপস বলে।
৩৩। রেচন কী?
উ: শারীর বৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে উপজাত দ্রব্য হিসেবে যে বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয় তা দেহ থেকে নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন বলে।
৩৪। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি কাকে বলে?
উ: প্রাণী দেহে যে সকল নালিহীন গ্রন্থি থেকে হরমোন বা প্রাণরস নিঃসৃত হয় তাকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে।
৩৫। হরমোন বা প্রাণরস কী?
উ: নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে শারীর বৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে হরমোন বলে।
৩৬। শ্বসন কী?
উ: যে প্রক্রিয়ায় প্রাণী দেহে সঞ্চিত খাদ্য পরিবেশ থেকে গৃহীত অক্সিজেনের সাহায্যে জারিত হয়ে শক্তি উত্পাদিত হয় তাকে শ্বসন বলে।
৩৭। রক্ত কাকে বলে?
উ: অল্প লবণাক্ত, ক্ষারীয় ও লাল বর্ণের তরল যোজক কলাকে রক্ত বলে।
৩৮। ত্বক কাকে বলে?
উ: দেহের বাইরের দিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রন্থিগত যে আচ্ছাদনকারী আবরণ থাকে তাকে ত্বক বলে।
