শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৩, ২১:৩০
অনিবার্য সংঘাত অপেক্ষা করছে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিতি পেলেও এখন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নাই বললেই চলে। বিরোধী দল দমন-নিপীড়ন এখন সরকারি দলের প্রধান এজেন্ডাতে পরিণত হয়েছে। এমন হতে থাকলে আগামী নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে তা দেখার বিষয়। বিরোধী দল সরকারি দলের গঠনমূলক সমালোচনা করবে এটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য। কিন্তু বিরোধী দলের মিছিল, মিটিং, সভা-সমাবেশে নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টো সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে। দেশের অভিজ্ঞমহল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে বললেও এদিকে সরকারের কোন কান নেই। তাই আগামীতে অনিবার্য সংঘাত অপেক্ষা করছে। অবশ্যই এ সংঘাতের দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। আমরা সংঘাত কিংবা গৃহযুদ্ধ চাই না। দেশে সরকারি ও বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুষ্ঠু গণতন্ত্র ফিরে আসুক এবং গণতন্ত্রের চর্চা হোক এটাই আমরা চই। তাই আর হিংসা নয়, দেশকে এগিয়ে নিতে উভয় দলকে আরও দায়িত্বশীলের ভূমিকা পালন করতে হবে। মো. শাহাদাত হোসেন শিক্ষার্থী, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ---- শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম দেশের চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না তা নিয়ে দেশবাসীর মাঝে রয়েছে উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠা। কারণ দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কেননা, বিরোধীদল দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। অন্যদিকে বর্তমান মহাজোট সরকারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা না দেয়ার পক্ষে। এ ব্যবস্থা সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার বাতিলও করেছে। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে দেশের মানুষের মাঝে যথেষ্ট সংশয় এবং সন্দেহ রয়েছে। মনে হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা করতে পারি যে, প্রধান বিরোধীদলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপে বসে দেশের সঙ্কট নিরসন করবে। যেহেতু বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েকমাস বাকি। এ সময়ের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য সরকারকেই পথ সুগম করতে হবে। কারণ দেশের সব দায়-দায়িত্ব এখন সরকারের ওপরই বর্তায়। সরকারকেই সঙ্কট সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। তা না হলে দেশের মানুষের মাঝে যে উদ্বেগ তা বাস্তবে পরিণত হবে। দেশ একটি সংঘাতের পথে এগোবে। যা আমাদের কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে বলে মনে হয় না। শফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থী, মাস্টার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ---- আবার দেখি ওয়ান ইলেভেনের পূর্বাভাস বাংলাদেশ এখন চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ফলে সন্দেহ দেখা দিয়েছে দেশের ভবিষ্যত্ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে। বিরোধী দলীয় নেত্রী ইতিমধ্যে সরকারকে এ বলে হুঁশিয়ার করেছেন যে, পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে সেনাবাহিনী বসে থাকবে না। এর মাধ্যমে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। তিনি কি প্রয়োজনে গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ চান? এর আগেও তিনি এ সরকারের বিরুদ্ধে পরাশক্তির হস্তক্ষেপ চেয়ে বিদেশি একটি পত্রিকায় নিবন্ধ লিখেছিলেন। আসলে বিরোধী দলীয় নেত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যতিরেকে তাদের ভবিষ্যত্ অন্ধকার আর নিজ দলের বিশৃঙ্খল অবস্থার কথা বিবেচনা করেই মাঝে মাঝে এমন সর্বনাশা প্রলাপ বকছেন। নতুবা কেন তিনি একটি স্বাধীন দেশে বিদেশি হস্তক্ষেপ চান, আবার কেনইবা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ চান। সুতরাং বিরোধী দল সরকারের কর্মকাণ্ডের যথাযথ সমালোচনা করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। মূলত এটাই তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর গণতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা। এসব দেশের সরকাররা জনগণের নিকট দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয় না, আবার বিরোধী দলও সরকারকে জনগণের নিকট দায়বদ্ধ করে তুলতে পারে না। তবে এর মধ্যদিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য অবশ্যই নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষের নিকট বর্তমান সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত। সকলের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে না পারলে আবার আমাদেরকে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মত অবস্থা দেখতে হবে। মো. মেফতাউল ইসলাম চতুর্থ বর্ষ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় --- তৃতীয় কোন অশুভ শক্তির উত্থানের পথ সুগম হচ্ছে আগামী নির্বাচন কার অধীনে হবে, এবিষয়ে প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল এখনও কোন ঐকমত্যে আসতে পারেনি। পূর্বে যারা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তারাই আজ শুধুমাত্র ক্ষমতার নেশায় এর বিরোধিতা করছে। জনগণের দুর্ভোগ ও সমস্যা নিয়ে বিরোধী দলকে মাঠে দেখা যায়নি। তাদের লক্ষ্য একটাই— ক্ষমতা। আর এর জন্য তারা মনে করছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহাল দরকার। অন্যদিকে সরকার বলে আসছে দেশের জনগণ এখনও তাদের পক্ষে আছে। জনগণ তাদের পক্ষে থাকলে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে তাদের অসুবিধাটা কোথায়। সরকার যদি তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে এবং বিরোধীদল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে তৃতীয় কোন অশুভ শক্তির উত্থানের পথ সুগম হবে। তাই জাতি আজ চেয়ে আছে রাজনৈতিক দলগুলোর পদক্ষেপের দিকে। তারা কি কোন ঐকমত্যে পৌঁছবে, নাকি উভয়ে্ সম্মিলিতভাবে অগণতান্ত্রিক শক্তিকে আহবান করবে? মানুষের আকাঙ্ক্ষা দলগুলো গণতান্ত্রিক পথকেই বেছে নিবে। আলাদ্দিন রফিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, অনার্স ১ম বর্ষ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন