জীববিজ্ঞান
মহসিন হোসেন
সহকারী শিক্ষক (জীববিজ্ঞান)
শহীদ বীর উত্তম লে: আনোয়ার গার্লস কলেজ, ঢাকা
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের জীববিজ্ঞান বইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হবে, যা চূড়ান্ত পরীক্ষাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
১। প্র: জীববিজ্ঞান বলতে কী বুঝ?
উ: বিজ্ঞানের যে শাখায় পৃথিবীর সকল স্থানে বসবাসকারী সকল ধরনের অনুজীব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর উত্পত্তি, গঠন, স্বভাব বসতি, বিবর্তন, বংশগতি, পরিবেশের সাথে সম্পর্ক ও মানবকল্যাণে এদের ব্যবহার সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয় তাকে জীববিজ্ঞান বলে।
২। প্রশ্ন: ক্যারোলাস লিনিয়াসকে ট্যাক্সোনমি বা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক বলা হয় কেন?
উ: সুইডিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম পৃথিবীর সকল জীবের দ্বিপদ নাম তথা বৈজ্ঞানিক নামকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং বৈজ্ঞানিক নামকরণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। এছাড়াও তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জীবের বৈজ্ঞানিক নাম প্রণয়ন করেন। তাই ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক বলা হয়।
৩। প্রশ্ন: শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।
উ: প্রেণিবিন্যাসের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করা। জীবজগতের ভিন্নতার প্রতি আলোকপাত করে আহরিত জ্ঞানকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা, সর্বোপরি জীবজগত্ ও মানবকল্যাণে প্রয়োজনীয় জীবসমূহকে শনাক্ত করে তাদের সংরক্ষণ অথবা প্রবর্তনগত সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেয়া।
৪। প্রশ্ন: জীবজগতের “পাঁচরাজ্য ধারণা” ব্যাখ্যা কর।
উ: ক্যারোলাস লিনিয়াসের সময় জীবজগেক দুটি রাজ্যে শ্রেণিবিন্যাস করা হতো। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে আর এইচ হুইটেকার DNA ও RNA-এর প্রকারভেদ, কোষের বৈশিষ্ট্য ও কোষের সংখ্যার ভিত্তিতে জীবজগেক পাঁচটি রাজ্য বা ফাইভ কিংডমে ভাগ করার প্রস্তাব করেন এবং ১৯৭৪ সালে সমস্ত জীবজগেক দুটি সুপার কিংডমে ভাগ করেন এবং পাঁচটি জগেক দুটি সুপার কিংডমের আওতাভুক্ত করেন। এটিই জীবজগতের পাঁচরাজ্য ধারণা।
৫। আদি কোষ ও প্রকৃত কোষের মধ্যে পার্থক্য লিখ।
পার্থক্যের বিষয় আদি কোষ (Prokaryotic cell) প্রকৃত কোষ (Eukaryotic cell)
১. নিউক্লিয়ার মেমব্রেন নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন থাকে না। নিউক্লিয়ার মেমব্রেন দ্বারা নিউক্লিও বস্তু পরিবেষ্টিত।
২. কোষীয় অঙ্গানু মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না। মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু উপস্থিত।
৩. নিউক্লিওলাস নিউক্লিওলাস থাকে না। নিউক্লিওলাস থাকে।
৪. অবস্থান নীলাভ সবুজ শৈবাল, ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ থাকে। শৈবাল থেকে শুরু করে সপুষ্পক উদ্ভিদ এবং উন্নত প্রাণী দেহে এ ধরনের কোষ থাকে।
৬। মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয় কেন?
উ: শক্তি উত্পাদনের প্রায় সকল প্রক্রিয়া যেমন ক্লেবসচক্র, ফ্যাটি এসিডচক্র, ইরেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়া ইত্যাদি মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত হয় এবং শক্তি সঞ্চিত হয়। তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা Power house বলা হয়।
৭। প্র: কার্ডিয়াক পেশি বা হূদপেশিকে বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি বলা হয় কেন?
উ: হূদপেশির টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি শাখান্বিত ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত, যা অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো দেখতে। এদের সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। অর্থাত্ কার্ডিয়াক বা হূদপেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো; কিন্তু কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো। তাই হূদপেশিকে বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি বলা হয়।
ছাত্রসমাজকে অবশ্যই দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সভ্যতা ধরে রেখে যে মাধ্যমেই পড় না কেন জ্ঞান চর্চায় ব্রতি হতে হবে
ড. অগাস্টিন ক্রুজ
অধ্যক্ষ
সেন্ট জুডস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা
বিবর্তনের ধারায় সমাজের পরিবর্তন ঘটছে। তাছাড়া জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন চলছে। এর ফলে শিখন প্রণালী ও পরিবর্তিত হচ্ছে। সময়োপযোগী শিক্ষা প্রদান ও গ্রহণই কেবল জাতিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষে নিয়ে যেতে পারে। কর্মমুখি ও জীবনধর্মী শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধের জাগরণ ঘটাতে হবে । ছাত্রসমাজকে অবশ্যই দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সভ্যতা ধরে রেখে যে মাধ্যমেই পড় না কেন জ্ঞান চর্চায় ব্রতি হতে হবে। পড়াশোনাটা শুধুমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না। পড়ালেখার মাধ্যমে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে হবে যার মাধ্যমে নিজের উন্নতির পাশাপাশি উন্নয়ন হবে পরিবার ,প্রতিবেশি, সমাজ আর রাষ্ট্রের । তাই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও দলগত কাজে নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। মাতৃভাষার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে আধুনিক কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে দক্ষতা অর্জনে পারষ্পরিক যোগাযোগে তোমাদের ইংরেজির মৌলিক বিষয়াবলি শিখনে মনোযোগী হতে হবে। পরিবর্তিত সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে চলতে আমাদের বিজ্ঞান মনষ্ক শিক্ষায় দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে।
গাণিতিক যুক্তি,পদ্ধতি ও প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তাতে করে আত্মবিশ্বাসী, উত্পাদনশীল ও সৃজনশীল হতে পারবে। আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে প্রকৃত শিক্ষার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মুখস্ত নির্ভরতা পরিহার করতে হবে না বুঝে পড়া কোন শিক্ষা নয়। ছাত্র শিক্ষক সমন্বয়ে গড়ে তুলতে হবে এ শিক্ষা। শিক্ষার গুনগত মানের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে সর্বাগ্রে। শিক্ষকগণ সযত্ন লালনে গড়ে তুলবেন তাদের। এজন্যে আদর্শ শিক্ষকের গুনাবলিতে সমুন্নত থাকতে হবে এ সমাজকে। স্নেহ, আদর, ভালবাসায় সিক্ত রাখতে হবে তাদের। শিখনকে স্থায়ীকরণে বারবার অনুশীলনের মধ্যে রাখতে হবে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষক অত্যন্ত সহানুভুতিশীল হবে শিক্ষার্থীদের নিকট।
শুধু পড়াশোনা নয় ব্যক্তিগত,পারিবারিক সমস্ত বিষয়ে যেন খোলামেলা আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থী সেই আচরণ প্রদর্শন করতে হবে শিক্ষকদের । শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী যেন সকল প্রকার ভয়ভীতির উর্ধ্বে থাকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষকদের।
