শ্রীলংকার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ড্র; এরপর শেষ ওয়ানডে ম্যাচ জয়; সব মিলিয়ে বাংলাদেশের জন্য বেশ সফল একটি সিরিজ। আজ সফরের শেষ ম্যাচ, সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি। শেষটাতেও বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তির বাতাস! স্বস্তির কারণ? বিশ্রামে আছেন গোটা সফরে বাংলাদেশের বোলারদের রাতের ঘুম হারাম করা দুই ব্যাটসম্যান তিলকারত্নে দিলশান ও কুমারা সাঙ্গাকারার অনুপস্থিতি। বাংলাদেশের জন্য খুশির সংবাদ আছে আরো। আঙ্গুলের ইনজুরিতে থাকা মাহেলা জয়বর্ধনেকেও টি-টোয়েন্টির জন্য পাওয়া যাচ্ছে না। আর অধিনায়ক মুশফিকও চান এই সুযোগকে কাজে লাগাতে। সফরকারীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সাঙ্গাকারা ও দিলশান না থাকায় মুশফিকের জন্য কাজটি সহজ হয়েছে বলে জানালেন অধিনায়ক নিজে। তাই গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এটিই অনেক বড় সুযোগ’।
পাল্লাকেলের মাঠটি বাংলাদেশের জন্য মোটেও ‘পয়া’ নয়। এই মাঠেই গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল মুশফিকরা। এবার তাদের লড়তে হবে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে। লড়তে হবে টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দলের বিরুদ্ধে। তবুও বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে আজকের ম্যাচটি অনেক বড় সুযোগ, ‘টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে থাকা শ্রীলংকার বিরুদ্ধে লড়াইটা আমাদের কাছে বড় সুযোগ। সুযোগটা তৈরি হয়েছে সাঙ্গাকারা ও দিলশান দলে না থাকায়। এই দুইজন এই সফরে আমাদের বেশ ভুগিয়েছে’।
টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য বাংলাদেশকে সাহস দিচ্ছে এই সফরের ইতিবাচক দিকগুলো। প্রথম টেস্ট ড্র করা, দ্বিতীয় টেস্টে ভালো করা। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচটি জিতে ওয়ানডে সিরিজও ড্র করা। এতগুলো ইতিবাচক দিক যাদের নামের পাশে রয়েছে, তারা তো শেষ ম্যাচটি নিয়ে আশা করতেই পারে। মুশফিকও সেই আশা করছেন, ‘অতীতে এরকম হয়েছে যে সফরের শেষটা আমরা খারাপ করেছি। এবার সুযোগ এসেছে, পুরানো ঐতিহ্যকে বদলে দিতে। এই সফরে আমাদের অনেক বেশি ইতিবাচক দিক রয়েছে। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই আরো একটি জয় নিয়ে। যদিও আমাদের টি-টোয়েন্টির রেকর্ড ভালো নয়। আমাদের মূল ভিত্তিটা আগে তৈরি করতে হবে। ফলাফল যাই হোক পরে দেখা যাবে। আমরা দু’হাত ভরে এই সুযোগটা নিতে চাই’।
দেশের বাইরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টির রেকর্ড অবশ্য ভালো নয়। এ পর্যন্ত ২৩টি ম্যাচ খেলে ছয়টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ মুশফিকরা গত বছর ইউরোপে খেলেছে। সফরের শেষ ম্যাচটি নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে যায় তারা। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। শ্রীলংকার মাটিতে প্রথম ওয়ানডে জয় এবং টেস্ট ম্যাচ ড্র করায় নিজেদের ভেতরের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। মুশফিক তার ব্যাখ্যাও দিলেন এভাবে, ‘টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আমাদের দক্ষতার বড় অভাব। অন্য দলগুলোর সাথে তুলনা করেন, দেখবেন আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তবে গত দু্ই বছর ধরে আমরা মানসিক ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছি। দলের সেরা খেলোয়াড়দের ছাড়াই আমরা পারফর্ম করছি, এটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া’।
শ্রীলংকার তিন ব্যাটসম্যান না থাকায় বাংলাদেশ স্বস্তিতে থাকলেও ইনজুরির দুশ্চিন্তাও কম নয় তাদের। আঙ্গুলে ব্যথা পাওয়ায় ওপেনার তামিম ইকবাল নেই। এইচএসসি পরীক্ষার কারণে আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয় দেশে ফিরে এসেছেন। পেসার নাজমুল হাসানও দলে নেই। সবকিছু মিলে টি-টোয়েন্টির জন্য দল গোছাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সফরকরীদের। তামিমের পরিবর্তে আজ শামছুর রহমানকে জহুরুল ইসলামের সাথে ওপেন করাতে পারে টিম ম্যানেজম্যান্ট। এছাড়া তৃতীয় ওয়ানডে’র দলটির উপরই আস্থা রাখা হচ্ছে।
পাল্লাকেলের উইকেট দেখেছে দুই দলই। পিচ নিয়ে মুশফিকের কোন অভিযোগ নেই বরং এই পিচে রান হবে বলে তার ধারণা। তাই পিচ নিয়ে কাল খুশির কথাই জানালেন তিনি, ‘তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে আমরা টি-টোয়েন্টির মতই চেজ করে জিতেছি। বলতে পারেন এই ম্যাচে আমাদের টি-টোয়েন্টির প্রাকটিসও হয়েছে। এটাই আমাদের কাছে ইতিবাচক দিক। অন্য দলগুলোর চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে আমরা কিছুটা হলেও পিছিয়ে। তবে গত দু’বছর আমরা বেশ ফর্মে আছি। দলের পারফরমারদের ছাড়াই আমরা ভাল খেলছি। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক।’
