[ রা জ নী তি ]

শান্তির প্রশ্নে এবার কী ওবামা আন্তরিক?

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৩, ২১:০২
প্রথম দফার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নোবেলজয়ী বারাক ওবামা ইসরাইল ও ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে কেন কোন সিদ্ধান্ত দেননি তা নিয়ে বিশ্ববাসীর বিস্ময়ের অন্ত ছিল না। ওবামা এ ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখবেন এই প্রত্যাশাও ছিল বিশ্ববাসীর। কায়রোতে প্রদত্ত ওবামার ভাষণ শেষে এই প্রত্যাশা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ওবামা কিছুই করেননি। ২০১২ সালের নির্বাচনের পর সবাই অনুমান করেছিলেন যে, দীর্ঘদিনের ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সংকট নিরসনে তিনি পূর্ণ মনোযোগ দেবেন এবং তার তত্পরতা সাফল্যের মুখ দেখবেই। দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে ওবামা প্রত্যাশিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অনেকেই তার এই প্রত্যাশিত ভূমিকা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা যেমন শুরু করেন; তেমনি নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলও লক্ষ্য করা যায়। উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের প্রফেসর আরন ডেভিড মিলারের ভাষ্য হল, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থেই ওবামার উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি ছিল। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের মনে হচ্ছিল, ইসরাইল ফিলিস্তিন দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকটের ক্ষেত্রে তারা ট্রাপে পড়ে যাচ্ছে এবং যা একদিন বড় ধরনের অনর্থপাত ঘটাবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দুটি প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দেয়, তারা কী ইরানে বোমা ফেলতে শুরু করবে, না ইরানের পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ প্রত্যক্ষ করবে। একথা অনস্বীকার্য, ইরান যদি পারমাণবিক দেশের মর্যাদা পেয়ে যায় তাহলে তার অর্থ দাঁড়াবে ফিলিস্তিন-ইসরাইল দুই রাষ্ট্রের ফর্মুলা ভেস্তে যাওয়া। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরাইলও অনুরূপ মনোভাব ব্যাপকভাবে পোষণ করে। এ ক্ষেত্রে যে বিষয়টির ওপর জোর গুরুত্ব দেয়া হয় তাহল, ওবামা নিজেই উপলব্ধি করতে সমর্থ হয়েছেন যে, ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকট নিরসনে তাকে নেতানিয়াহু ও ইসরাইল সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে। এই কাজের ধরন কী রকম হবে তাও ওবামাকে আবিষ্কার করতে হবে। বিষয়টি খুবই প্রাসঙ্গিক যে, ১৯৪৮ সালে ইসরাইলের প্রতিষ্ঠার পর নিক্সন, কার্টার, ক্লিনটন ও জুনিয়র বুশ-মাত্র এই ক’জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট সে দেশ সফর করেছেন কিন্তু একমাত্র কার্টারই উল্লেখ করার মত একটা সাফল্য অর্জন করেছিলেন। সময়কাল ১৯৭৯ সালের মার্চ। ঐ সময় ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও মিশরের মধ্যে একটা শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। আর কার্টার তখন প্রেসিডেন্ট। ওবামা দেশের মধ্যেও নানা সমস্যা মোকাবিলা করছেন। স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন নীতির সংস্কার, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে তাকে কম গলদঘর্ম হতে হচ্ছে না। একই সাথে তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, অকার্যকর ও ক্ষয়িষ্ণু মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে তার গভীর মনোযোগ প্রদান জরুরি। ওবামা ইসরাইলের পুনঃনির্বাচিত নেতা নেতানিয়াহুর সাথে তার সম্পর্ক ঝালাই করে নেয়ার ক্ষেত্রেও উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ সম্পর্কোন্নয়নে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ ওবামার জন্য সহজ হবে। কেননা আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচন। বারাক ওবামার টিম জানে যে, সর্বশেষ ইসরাইলি নির্বাচনে নেতানিয়াহু আরো দূর্বল হয়ে পড়েছেন। তাকে কোয়ালিশন গঠন করে সরকার চালাতে হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা আরো মনে করেন যে, ল্যাপিড এবং কাকতালি বেনেট নতুন নেতা হলেও নেতানিয়াহুর চেয়েও তারা জনপ্রিয়। খোদ নেতানিয়াহুও সেকথা জানেন এবং চিন্তিত। পর্যবেক্ষকদের ঐ গ্রুপটির বিশ্বাস ফিলিস্তিনি সংকট নিরসনে নেতানিয়াহু পূর্বেকার মত পাষাণ হূদয়ের পরিচয় দেবেন না। তিনি অনেক বেশি নমনীয় আচরণ করবেন। একথা স্বীকার্য যে, ওবামা ফিলিস্তিনের সাথে বিদ্যমান সংকট নিরসনে এবং একই সাথে দুই রাষ্ট্রের ফর্মূলা বাস্তবায়নে জোরালো বক্তব্য অত্যন্ত হূদয়গ্রাহী করে তুলে ধরেছেন। ওবামার উদ্যোগ যেমন স্পষ্ট একই সাথে ওবামার বক্তৃতা যারা লেখেন তাদের ভূমিকাও অনবদ্য। ওবামাকে সরবরাহকৃত তাদের আবেগপূর্ণ রচনার মাধ্যমে ইসরাইলি জনগণকে ফিলিস্তিনিদের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টি যে কতটা জরুরি তা বোঝানো হয়েছে। এই বক্তৃতা জনমত তৈরিতেও প্রভাব ফেলেছে। মিডিয়ার বিশ্লেষণ হল, ওবামা খুব সতর্কতা এবং কৌশলের সাথে তার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন। স্বাধীনতার পক্ষে ওবামা বর্ণনা প্রদানকালে ইহুদি ধর্মের অনেক পবিত্র বিষয়াদির সাথে যোগসূত্র দেখিয়ে হূদয়গ্রাহী উপস্থাপনা উপহার দিয়েছেন। তিনি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনিবার্যতা যেমন তুলে ধরেছেন একইসাথে ফিলিস্তিনিদের অধিকার সম্পর্কেও আলোকপাত করেছেন। ওবামা একজন মুক্ত মানুষের নিজ বাসভূমে থাকার অধিকারের কথা বলেছেন। আর একথা বলেছেন ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করেই। ওবামা উভয় পক্ষকে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেয়ার কথা বলেছেন। তাঁর ভাষ্য হল, দু’জন মানুষের জন্য দুটি রাষ্ট্রের প্রয়োজন। এভাবেই ওবামা শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে এজেন্ডায় ফিরিয়ে এনেছেন। ওবামা আরো উল্লেখ করেছেন, জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে এবং স্বাধীন কার্যকর ফিলিস্তিনের বাস্তবতা মেনে নেয়ার মধ্যেই ইহুদিদের সম্পদশালী হওয়ার ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র কার্যকর করা সম্ভব। ওবামা আরো উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হতাশা দূর করতে ইসরাইলকে নিবৃত্ত থাকার মনোভাব পরিত্যাগ করতে হবে। ইসরাইলি জনগণের সত্যিকারের নিরাপত্তা বিধান হবে যুদ্ধের অনুপস্থিতির মাধ্যমে। কেননা কোন প্রতিরক্ষা বুহ্যই যথেষ্ট উঁচু হয় না। ওবামা আরও বলেন, এটা খুব দুঃখজনক যে, একটি ফিলিস্তিনি শিশু তার নিজ দেশে বড় হয়ে উঠতে পারবে না। কেন ঐ শিশুকে বিদেশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে বসবাস করতে হবে। কেন ঐ শিশুর বাবা-মার প্রতিটি গতিবিধি বিদেশি সৈন্যরা প্রতি মুহূর্তে নজরদারির মধ্যে রাখবে। ওবামা ফিলিস্তিনিদের ওপর সেটলারদের নিপীড়ন সত্ত্বেও কোনরূপ শাস্তির মুখোমুখি হতে না হওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন। এ ক্ষেত্রে ইসরাইলের বিদ্যমান নীতির সমালোচনা করে ওবামা বলেন, এমনকি ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজ জমিতে চাষাবাদ করা থেকে নিবৃত্ত রাখা হচ্ছে। ওবামা পশ্চিম তীরের মধ্যেই ফিলিস্তিনি ছাত্রদের যাতায়াতে বাধা দেয়ার ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে বলেন, বাসু্তভিটা থেকে পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের উত্খাত করে তাদের উদ্বাস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। ওবামা বলেন, ফিলিস্তিনিদের বহিষ্কার অথবা তাদের উত্খাতে সমস্যার সমাধান হতে পারে না। ইসরাইলিরা যেমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে, ফিলিস্তিনিদেরও অনুরূপ মুক্ত মানুষ হওয়ার ও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের অধিকার রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আরব দেশসমূহ ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলের সাথে শুধুমাত্র স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপরই তাগিদ দেয়নি, ইসরাইল যাতে তাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে সেদিকেও গুরুত্ব আরোপ করেছে। ওবামা আরও বলেন, অব্যাহত বসতি স্থাপন ফিলিস্তিনিদের সাথে শান্তি স্থাপনের পথে যে অন্তরায় তা ইসরাইলকে অনুধাবন করতে হবে। তিনি বলেন, একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রকৃত সীমান্ত চিহ্নিতকরণের কাজও নিশ্চিত করতে হবে। ওবামা কর্তৃক ইসরাইলিদের প্রতি এই মৃদু কনুর গুতায় ফিলিস্তিনিরা কিছুটা অনুপ্রাণিত হলেও অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলিদের ক্রমবর্ধমান বসতি সম্প্রসারণে ওবামার লঘু চাপে তারা তেমন উত্সাহিত হয়নি। ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাশা ছিল, ওবামা এক্ষেত্রে আরও কঠোর হবেন। ফিলিস্তিনি সংসদ সদস্য ও এ্যাক্টিভিস্ট মুস্তাফা বারখোতি বলেছেন, অধিকৃত অঞ্চলে অব্যাহত ইসরাইলি বসতি স্থাপন প্রকৃত পক্ষে দুই রাষ্ট্র গঠন পরিকল্পনার অপমৃত্যুর কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ওবামা প্রদত্ত ২০০৯ সালের আহবানে যেভাবে ফিলিস্তিনিরা ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়েছিল এই দফায় ওবামার আহ্বান তেমনি জোরালো অনুভূত হয়নি। ওবামার দ্ব্যর্থহীন ভাষাভক্তির অনুপস্থিতি সংশয়ের সৃষ্টি করতে পারে। মঞ্চে ওবামা এবং নেতানিয়াহুকে খুবই হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের জন্য ওবামা প্রণীত দৃষ্টিভঙ্গি নেতানিয়াহু কিন্তু প্রকাশ্যে সমর্থন করেননি। নেতানিয়াহুর আচরণে এমনটাও মনে হয়নি যে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়াদকে তিনি ‘প্রকৃত অংশীদার’ মনে করে আসছেন। একথা অনস্বীকার্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আঞ্চলিক জটিল বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হতে ইরানের প্রচেষ্টা এবং প্রতিবেশী সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ সম্পর্কিত। ওবামা ইরান ইস্যুতে আরও কূটনীতির অপরিহার্যতার কথা বলেন। ওবামা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ইসরাইলের অধিকারের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি অবশ্য ইরানকে পারমাণবিক শক্তি অর্জনে বাধা দিতে সব পথ খোলা থাকার এমনকী সামরিক অভিযানেরও ইংগিত দেন। ওবামার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দ্রুততার সাথে হুঁশিয়ারি ও প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনী। খামেনী বলেন, ইসরাইল যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করে তাহলে তেলআবিবকে ধ্বংস করে ফেলা হবে। বিরোধীদের নিধনে সিরিয়া সরকারের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ওবামা বলেন, যদি সন্ত্রাসীদের হাতেও এই অস্ত্র এসে যায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিরোধে জড়িয়ে পড়া রোধ করা যাবে না। এতে বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয় যে, যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে আগাম হুঁশিয়ারি জারি করে রাখল। এ সিদ্ধান্ত মূলত ওবামা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ওবামা প্রশাসন সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সামরিক সহায়তা প্রদান করতে পারবে। উল্লেখ্য ওবামার ইসরাইল ফিলিস্তিন জর্ডান সফর আরেকবার ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো কর্তৃক গুরুত্ব প্রদানের কথাই মনে করিয়ে দেয়। প্রফেসর মিচায়েল চোসুডোভস্কাই ইতিমধ্যেই মন্তব্য করেছেন যে, পশ্চিমা বিশ্ব ইসরাইলকে ন্যাটোর ‘ডি-ফ্যাক্টো’ সদস্য হিসাবে বিবেচনা করে। একথার প্রতিধ্বনি মিলবে ৭ই মার্চ ন্যাটোর সদর দফতর ব্রাসেলসে ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজকে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল এন্ডার্স ফগ রাসমুসেন কর্তৃক সাদর অভ্যর্থনা জানানোর মধ্য দিয়া পরবর্তীতে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসরাইল ও আটলান্টিক পাড়ের দেশসমূহের সন্ত্রাস বিরোধী ভূমিকা পালনে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উভয়পক্ষ ব্যাপক আলোচনা করেছেন। এখানে উল্লেখের দাবি রাখে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সহযোগিতায় ইসরাইল ইতিমধ্যেই উল্লেখিত যুদ্ধে লিপ্ত। ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট ন্যাটো কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠককালে নানা ধরনের আশ্বাসও প্রদান করেন। ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট এই আশাও প্রকাশ করেন যে, তার দেশের অধীত জ্ঞান বিশেষ করে তার কারিগরি সক্ষমতা ন্যাটোর সাথে শেয়ার করতে পারলে তিনি খুশীই হবেন। ন্যাটোকে বহুমুখী সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে হয় বিশেষ করে আফগানিস্তানে। এক্ষেত্রে ইসরাইল ন্যাটোকে সাহায্য করতে সানন্দে রাজি। ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের এই আশ্বাসে ইসরাইলের সাথে ন্যাটোর সম্পর্ক আরও গভীরতর হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মার্চে স্বাক্ষরিত ইসরাইল ন্যাটো ব্রাসেলস চুক্তিকে খুবই গুরুত্ববহ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সমষ্টিগত নিরাপত্তা বিধানের ব্যানারে এই চুক্তিকে ইসরাইলকে রক্ষার উদ্যোগ বলে অনেকে মনে করছেন। ইসরাইলের সাথে ন্যাটোর এহেন সংশ্লিষ্টতা মধ্যপ্রাচ্যের আলোকে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করছে। এই দহরম মহরম ইসরাইলকে আরো বেশি আত্মপ্রত্যয়ী করে তুলেছে। ফিলিস্তিনিদের সাথে দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনায় ইসরাইল এতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এখন ইসরাইল তাদের নিরাপত্তায় শুধুমাত্র তাদের ট্রাডিশনাল মিত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই সাহায্য সহযোগিতা পাবে তাই নয়- ন্যাটোও প্রয়োজনে ইসরাইলের পাশে দাঁড়াবে। এ কারণে আশা করা হচ্ছে যে, নেতানিয়াহু হয়তোবা ফিলিস্তিনি সমস্যার সমাধানের দিকে আরেক পা এগুতে পারে। অনুবাদ: কায়কোবাদ মিলন লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক, তথ্য অধিকার ও সুশাসন সম্পর্কিত বিশ্লেষক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন