শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৩, ২১:০২
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে না মূলত আগামী সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে সে বিষয়টি নির্ভর করছে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের তীব্রতা কেমন তার ওপর। বিরোধী দল যদি নির্দলীয় সরকারের দাবিতে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়, তাহলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ শেষ মুহূর্তে হলেও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। আর যদি বিরোধী দলের আন্দোলনে তীব্রতা না থাকে এবং গণআন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম না হয় তবে ক্ষমতাসীন দল দলীয় সরকারের অধীনেই পাতানো নির্বাচন সম্পন্ন করবে। এতে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলেও আওয়ামী লীগ তাদের বিরোধী দল দাঁড় করাতে সক্ষম হবে। আমার কাছে মনে হয় বর্তমান সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের মাথায় ১৯৯৬ সালের মত দলীয় সরকারের অধীনে একটি পাতানো নির্বাচনের চিন্তা কাজ করছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিরোধী মতকে দমনে সরকার যেকোন কিছু করতে প্রস্তুত। চলমান এ অস্থিরতা নিরসনে সরকার যদি বিরোধী দলের সাথে সংলাপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে তাহলে আরেকটি এক-এগার’র হাত থেকে রক্ষা পাবে দেশ। প্রতিষ্ঠিত হবে গণতন্ত্র। দেশের মানুষ সব সময় যে কোন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সামাধান কামনা করে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল যদি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে, তাহলে বিরোধী দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আগামী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে তা নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সামাধানে পৌঁছাবে বলে আমি মনে করি। তাতেই বরং দেশের এবং দেশের মানুষের উপকার হবে। আনিছুর রহমান শিশির শিক্ষার্থী, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ স্নাতক সম্মান ২য় বর্ষ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। গণহত্যা এবং গণতন্ত্র একসাথে চলতে পারে না বর্তমানে আমাদের দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো লাখো শহীদের পবিত্র রক্ত, শত সহস্র মা-বোনের হারানো ইজ্জত এবং কষ্টার্জিত লাল-সবুজ পতাকার সাথে বেঈমানি করতে দ্বিধাবোধ করছে না। বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নস্যাত্ করে ছলে-বলে-কৌশলে যেভাবেই হোক ক্ষমতার মসনদে আজীবন থেকে যেতে চায়। বিরোধী জোটের উচিত রাজনৈতিক সংকট রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা। জনদুর্ভোগ বাড়ায় এমন কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজেদের সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়ার কোন অধিকার তাদের নেই। আর টেকসই গণতন্ত্রের জন্যই এমনটি হওয়া উচিত। হরতাল বা অন্য যেকোন কর্মসূচি আহ্বান করা যেমন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ঠিক তেমনি হরতালের মধ্যে রাস্তায় নির্বিঘ্নে চলাচল করার নিশ্চয়তা পাওয়া ও প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। কেননা জনগণ আপনাদের কর্মসূচি সফল করতে বাধ্য নয়। তাই আপনাদের সকল দাবি-দাওয়া সংসদে গিয়ে পেশ করুন। আলোচনার মাধ্যমেই বর্তমান রাজনৈতিক মহামারী থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। আর এতেই জনগণের সহানুভূতি বেশি পাওয়া যাবে। তাদেরকে অবশ্য বুঝতে হবে “এক হাতে কখনোই তালি বাজে না”। বাংলাদেশের জনগণ এখনও আশাবাদী যে, প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট অতীতের সকল ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে আলোচনা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আহসান হাবীব কামরুল কামিল (মাষ্টার্স ), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে উত্কণ্ঠা রয়েছে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে উত্কণ্ঠা রয়েছে। প্রতিটি দল যখন নির্বাচনে যায় তখন তাদের প্রতিশ্রুতির ফুল জুড়িতে মানুষ মুগ্ধ থাকে। তখন রাজনৈতিক দলগুলো এমন আচরণ করে যে মায়ের পেটের এক ভাই। আর নির্বাচন শেষে জনসাধারণের কথা মনেও রাখে না। যে দলই ক্ষমতায় থাকে সেই দলই তাদের শক্তি আরো বেশি বাড়ানোর জন্য আরেকবার ক্ষমতায় আশার জন্য মরিয়া হয়ে পড়ে। যার খেশারত দিতে হয় সাধারণ জনগণকে। গণতান্ত্রিক দেশের মতো লাভের প্রধান মাধ্যম হলো নির্বাচন। কোন পন্থা অবলম্বন করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। দেশে বর্তমান রাজনীতি এক জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে অস্থিরতা এবং অস্থিতিশীলতা। এ অবস্থা থেকে জাতি মুক্ত হতে চায়। দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকায় গণতন্ত্র চর্চা সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা বন্ধ করে অবিলম্বে প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহকে আলোচনার টেবিলে বসে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের পথ বের করার জোর আবেদন জানাচ্ছি। তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশে শুধু নির্বাচন কমিশনের দ্বারা জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা এখনো কম। সকল দলের সাথে আলোচনা করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি সরকারের নিকট সকলের কাম্য। নতুবা মানুষের মনের উত্কণ্ঠা শেষ হবে না। আতঙ্ক বিরাজ করছে নির্বাচন নিয়ে। আবদুর রহমান শিক্ষার্থী মেনেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ (এমবিএ), প্রথম ব্যাচ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা। নির্বাচন হবে এবং একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হবে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা উত্তর সময় থেকে এখন অনেক বেশি সচেতন। একটা নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে দেখা যাবে যে জনগণ যেটা চাচ্ছে সেটাই হচ্ছে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে এক বিন্দু পরিমাণ বিশ্বাস করে না। এমনকি একটি দল বক্তব্যের শেষে খোদা হাফেজ বললে, অন্য দল বলে আল্লাহ হাফেজ। এরকম একটি আস্থাহীন পরিবেশে একটি দল অন্য দলের অধীনে সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে এটা ভাবাটা অনেকটা কল্পনাতীত বা স্বর্গ রাজ্যের মতো মনে হয়। আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের বোধোদয় ঘটে তবে একটু দেরিতে, মাঝে মাঝে অনেক দেরিতে। কিন্তু তাদের এই বোধোদয় ঘটাতে বিসর্জন দিতে হয় অনেক তাজা প্রাণকে, বিপুল পরিমাণ সম্পদকে। আমাদের গণতন্ত্র যে এখনও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি বা পরিপক্ব হয়নি সেটা সবাই অকপটে স্বীকার করবেন। আবার বেশির ভাগ সময় আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসারও আভাস পাই দলগুলোর আচরণে। আমাদের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং আগামীতে সেটা করতে অবশ্যই একটি নিরপেক্ষ সরকার বা প্রশাসন দরকার যার নাম তত্ত্বাবধায়ক হোক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হোক। উদ্দেশ্য একটাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। আবার নির্বাচন যদি কোনো দলীয় সরকারের অধীনে হয় সেটা হয়তো একটা প্রহসনের নির্বাচনেও পরিণত হতে পারে। মোল্যা শিহাব উদ্দিন পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ এম, এ (মাস্টার্স, দ্বিতীয় সেমিস্টার) ৫০৮, স্যার এ এফ রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন