আগামী ২০১৩-১৪ অর্থবত্সরের বাজেটে ব্যক্তি-খাতের করমুক্ত আয়ের সীমা চল্লিশ হাজার টাকা বাড়াইয়া বর্তমানের দুই লাখ টাকা হইতে দুই লাখ চল্লিশ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দিতে যাইতেছে বাংলাদেশ শিল্প বণিক সমিতি (এফবিসিসিআই)। ব্যক্তি-শ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর দাবি উঠিয়াছে আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হইতেও। সার্বিক বিবেচনায় এই সীমা বাড়ানো উচিত। আমরা জানি, বাংলাদেশে মাঝারি আকারের একটা পরিবারের ক্ষেত্রে দুই লাখ টাকা দিয়া ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান ধরিয়া রাখা সম্ভব হয় না।
আমাদের অর্থনীতির উন্নয়ন বিবেচনায় দারিদ্র্য বিমোচন একটা আলাদা গুরুত্ব পাইয়া আসিতেছে। কিন্তু কোন একটা মাঝারি আকারের পরিবার, যে ঢাকার মতো শহরে বসবাস করিতেছে, তাহার পক্ষে দুই/তিন লাখ টাকায় চলিতে হইলে সেই পরিবার একটা গরীব পরিবার হিসাবেই গণ্য হইবে। ফলে সেই ধরনের পরিবারের উপর হইতে আমরা কিছুতেই কর আদায় করিতে পারি না। তাই একটা স্বাভাবিক আকারের পরিবারের জীবনযাত্রার ন্যূনতম ব্যয় নির্বাহের হিসাব করিয়া ব্যক্তি-শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা উচিত।
তবে ব্যক্তি-শ্রেণীর আয়ের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিবারের আকারের উপর জোর দেওয়া উচিত। উন্নত বিশ্বে, এমনকি অনেক অনুন্নত দেশেও ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা পরিবারপ্রতি না করে মাথাপিছু করা হয়। ফলে যেই সব পরিবারের আকার ছোট তাহারা অনেক কম আয়ের ক্ষেত্রেও কর দিয়া থাকে। অন্যদিকে, যেসব পরিবারের আকার বড় তাহাদের পরিবারের করমুক্ত আয়সীমা অনেক উপরে থাকে। ফলে ঐ পরিবারের আয় অনেক বেশি হলেই কেবল আয়কর দিতে হয়।
পরিবারের আকারের উপর নির্ভর করিয়া আয়কর সীমা নির্ধারণ করা হইলে নিম্নআয়ের মানুষজন আয়করের বিরূপ প্রভাব হইতে মুক্তি পাইবে। তবে কেহ কেহ অবশ্য দাবি করিতে পারেন যে, ইহাতে মানুষের সন্তান বেশি নেওয়ার প্রবণতা বাড়িয়া যাইতে পারে। কিন্তু আমরা জানি, বাংলাদেশের যে বাস্তবতা তাহাতে সেই রকম কিছু ঘটিবে না। তাহার কারণ সন্তান বেশি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আদৌ এসব বিষয়ের উপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে শিক্ষা আর সচেতনতার উপর। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের মানুষজনের কর দেয়ার তেমন একটা অভ্যাসও নাই। করমুক্ত আয়ের সীমা যৌক্তিক হইলে নিম্ন আয়ের সচেতন মানুষকে কর দিতে উদ্বুদ্ধ করা সহজ হইতে পারে।
