আগামী সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে কিনা
তা নিয়ে সন্দেহ আছে
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ। যে কোন গণতান্ত্রিক দেশের জন্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অপরিহার্য। তবে আমাদের দেশে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এক সংঘাতময় বিব্রতকর অবস্থা চলছে। এই সংঘাত চলতে থাকলে আগামী সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা অনেকটা অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। অর্থাত্ আগামী নির্বাচন নিয়ে দু’দলের মধ্যে এক ধরনের পাঁয়তারা চলছে। কিন্তু এই পাঁয়তারা বা সংঘাত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ফলপ্রসূ বয়ে আনতে পারবে না। আর এমতাবস্থা চলতে থাকলে বসন্তের কোকিলেরা যেকোন সময় সুযোগ বুঝে কোপ মারতে পারে। আর সেজন্য প্রয়োজন বড় দু’টি দলের মধ্যে সমঝোতা। তা না হলে আগামী সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ জাগতে পারে।
এস.এম. শাহীন আলম
অনার্স (১ম বর্ষ), বাংলা বিভাগ সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা
দেশের স্বার্থে জনগণের কল্যাণে সমঝোতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই
বর্তমানে দেশ এক অশান্ত, অরাজকতা ও প্রতিহিংসার আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলছে। দেশের বর্তমান রাজনীতি এক জটিল অবস্থার মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতা লাভের অন্যতম মাধ্যম হলো নির্বাচন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর বেশি সময় হাতে নেই । নির্বাচন হলো ক্ষমতা পালাবদলের এক অন্যতম হাতিয়ার। যতই দিন অতিবাহিত হচ্ছে ততই সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। দেশ অনিশ্চয়তার পথে, দেশের সর্বস্তরের মানুষ সর্বদা আতঙ্কের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। লাগাতার হরতাল, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভাংচুর, জ্বালাও, পোড়াও ইত্যাদি প্রতিদিনের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতিবাচক সংলাপ প্রয়োজন। সরকার এবং বিরোধী দল এক টেবিলে বসে দেশের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সচল রাখার স্বার্থে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকায় মানুষের জান-মালের কোন নিরাপত্তা নেই। সকল মানুষের একটাই দাবি- শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। সরকারি এবং বিরোধী দল উভয়পক্ষকে উদার মানসিকতার অধিকারী হতে হবে। আর সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন, পরিবহন সমিতিসহ সকল পেশাজীবী লোক যদি এ বিষয়টা মাথায় নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে উভয়পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করা যায়। যে দেশে এক নেত্রী অন্য নেত্রীকে বিমুখ ভূমিকা পালন করছেন সেখানে সমঝোতা ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করা যায় না ।
মোছা. ছাবিনা ইয়াসমিন
ইসলামের ইতিহাস বিভাগ
অনার্স (৩য় বর্ষ) এন এস কলেজ,
নাটোর
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সংলাপের বিকল্প নেই
সবার মনে একটি প্রশ্ন, দেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে তাতে আগামী সংসদ নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণ হবে বা নিরপেক্ষ হবে? দেশের সবাই কম-বেশি চাচ্ছে, প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা সংলাপে বা আলোচনায় বসুক। কিন্তু সেটা যে সম্ভব হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। সবার মাঝেই কেমন যেন একটা দায়সারা ভাব !! নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে জনমনে ততই একটা আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে,সবাই ভাবছে এটাই বুঝি হবে সবচেয়ে বেশি সংঘাতময় নির্বাচন!! কিন্তু বড় বড় নেতাদের এ নিয়ে যেন কোন মাথাব্যথা নেই। জনগণের স্বার্থে হলেও তো অন্তত একবার সংলাপে বসা উচিত। এটা একটা গণতান্ত্রিক দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হতে পারে না। নির্বাচন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হতে হবে, আর এর সব দায়িত্ব নিতে হবে বর্তমান ক্ষমতায় থাকা সরকারকে। আগামী নির্বাচনের আগেই একটা শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। কেননা একটা শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনই পারে একটি সুন্দর ও শান্তিময় নির্বাচন উপহার দিতে,আর তা না হলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করা হবে আকাশকুসুম কল্পনা মাত্র !!
কবির খন্দকার
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
চাই প্রধান দুই দলের মধ্যে আলোচনা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ
আমরা যদি অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করি তবে দেখা যায়, অতীত নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতায় যাওয়া দলটি ছাড়া আর অন্য কোন দল নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলতে দেখা যায় না। নির্বাচনে হারার সাথে সাথে নানা রকমের অভিযোগ করে বসে। এই স্বভাব শুধু একটি দল নয় আমাদের দেশের যত রাজনৈতিক দল রয়েছে সবার মধ্যে লক্ষণীয়। যেন এটা একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি। আর এই অপ-রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেশের সাধারণ জনগণ ও বাইরের দেশগুলোর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। কারণ সবাই মোটামুটি বুঝে গেছে এই দেশের রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের অধিকারের চেয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার আলোচনা বেশি করে। দেশের সাধারণ জনগণ বাঁচল কি মরল এই নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই। পারলে মরা মানুষকে রাজনীতির মধ্যে ঢুকিয়ে স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টায় মাতে।
রাজনৈতিক দলগুলোর এমন নোংরা আচরণ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সংঘটিত হওয়ার পেছনে প্রধান এক অন্তরায়। এই মুহূর্তে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন প্রধান দুই দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ও আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সমাধান করা। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এর কোন বিকল্প নেই।
সনেট দেব
সম্মান (৩য় বর্ষ), অর্থনীতি বিভাগ
চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম
