সময়ের দিক থেকে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ এই ম্যাচে দু’জনের দারুণ কিছু ব্যাকহ্যান্ড, ফোরহ্যান্ডের পাশাপাশি দর্শকরা উপভোগ করেছেন কোর্টের বেস লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দুই খেলোয়াড়ের পরস্পরেকে র্যালি করানোর দৃশ্যও।
অ্যান্ডি মারে দারুণ এক লড়াই শেষে ডেভিড ফেরারকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মিয়ামি মাস্টার্স টেনিসের শিরোপা জিতে নিলেন। টুর্নামেন্টের ফাইনালে মারে গতকাল রোববার ২-৬, ৬-৪,৭-৬ (৭-১) গেমে হারান ফেরারকে।
রজার ফেদেরার এবং রাফায়েল নাদাল টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। আর আরেক ফেভারিট নোভাক জোকোভিচও বিদায় নেন কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ফলে শিরোপা জেতার লড়াইয়ে বাকিদের চেয়ে কিছুটা হলেও এগিয়েছিলেন মারে। তবে ফাইনালটা মোটেই সহজ হলো না তার জন্য। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দারুণ খেলতে থাকা ফেরার গতকালের ফাইনালে কঠিন এক লড়াই উপহার দিলেন তার স্কটিশ প্রতিপক্ষকে।
সময়ের দিক থেকে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ এই ম্যাচে দু’জনের দারুণ কিছু ব্যাকহ্যান্ড, ফোরহ্যান্ডের পাশাপাশি দর্শকরা উপভোগ করেছেন কোর্টের বেস লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দুই খেলোয়াড়ের পরস্পরেকে র্যালি করানোর দৃশ্যও। এক ডজনেরও বেশী গেমে, পয়েন্ট পেতে দু’জনকে ২০টির বেশী শট খেলতে হয়েছে! যার মধ্যে সবচেয়ে লম্বা গেমটি ছিল ৩৪ শটের। বোঝাই যাচ্ছে কোর্টের বাইরে অনুশীলন সঙ্গী হলেও শিরোপার লড়াইয়ে কেউ কাউকে এক বিন্দু ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না এদিন। ৬-২ গেমে প্রথম সেটটি জিতে নেয়ার পরে দ্বিতীয় সেটেই ম্যাচে ফেরেন মারে। এই সেটে স্প্যানিশ তারকা ফেরার দারুণ লড়লেও শেষ ৬-৪ গেমে সেটটি জিতে নেন মারেই। ফলে টুর্নামেন্টের নিয়মানুযায়ী তৃতীয় সেটটিই হয়ে ওঠে শিরোপা নির্ধারণী। তবে সেখানে দু’জনের পয়েন্ট সমান দাঁড়ালে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ফেরারকে ৭-১ গেমে পরাজিত করে ২০০৯ সালের পরে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় শিরোপা জিতে নেন স্কটিশ তারকা মারে। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেন ম্যাচটা এতটা দীর্ঘ হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল দু’জনের বার বার ভুল করাটা। মারে বলেন, ‘আমার মনে হয় না দু’জনের কেউই আমরা আজ আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পেরেছি। ম্যাচে দু’জনের পারফরম্যান্স স্থিতিশীল ছিল না। দু’জনেই প্রচুর ভুল করেছি। তবে আমি যেটা করতে পেরেছি সেটা হচ্ছে লড়াই চালিয়ে যাওয়া।’
র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচ খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩টি ফাইনালে কোর্টে নেমে সবগুলোই হারতে হলো ফেরারকে। দারুণ লড়াইয়ের পরেও এই ফাইনালটিতেও হার মানতে বাধ্য হওয়া ফেরারকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করে মারে বলেন,‘সে বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড়। তার বিরুদ্ধে আমি যতবারই মাঠে নামি, সবাই চায় আমিই যেন জিতি। তবে সেটা মোটেও সহজ নয়। সে মানসিকভাবে দৃঢ় এবং দারুণ লড়াকু মনোভাবের অধিকারী।’
