[ রা জ নী তি ]

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি ও পরিণতি

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৪
গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসেই দেশের রাজনীতিতে বিরোধী পক্ষের আন্দোলনের দমকা হাওয়া বইতে শুরু করে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে তা গতিবেগ সঞ্চার করে, মার্চ মাসে তা তাণ্ডব ছড়াতে সক্ষম হয়। এখন এপ্রিলে এই আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি কোনিদকে মোড় নেবে, এর শেষ পরিণতি কী হবে তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ভীষণভাবে অন্ধকারে আছে, রাজনৈতিক মহল পরস্পরবিরোধী বাগাড়ম্বর অবস্থানে রয়েছে, রাজনীতির বিশ্লেষকগণ দ্বিধাবিভক্ত হলেও সাধারণভাবে ধরে নেয়া যায় যে, দেশটা গভীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলও বাংলাদেশকে নিয়ে আবার উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। অতীতেও বাংলাদেশে অনেকবারই রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। সে সবের কোনোটিই শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানে পৌঁছায়নি। সংঘাত-সংঘর্ষ অনিবার্য হয়েছে, নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে অবশেষে এক ধরনের জোড়াতালির সমাধান দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধানের পথ রচনা করা হয়নি বা সেই পথে কোনো পক্ষই হাঁটেনি। বস্তুত এখানে রাজনৈতিক আন্দোলনের পথে রাস্তায় সংঘাত-সহিংসতাই ক্রমশ প্রধান হয়ে উঠেছে, যুক্তি, বিচার-বিশ্লেষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো প্রায়শই উপেক্ষিত হয়েছে। এখনো এর ব্যত্যয় খুব একটা ঘটেনি। তবে মনে রাখতে হবে, আশির দশক থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত যে সব রাজনৈতিক আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল সেগুলোর গতি-প্রকৃতি প্রায় একই রূপ ছিল। মূলত নির্বাচন কেন্দ্রিক সমস্যাই আন্দোলনের প্রধান ইস্যু ছিল। বিশেষত আমরা যদি আশির দশকে সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে তিন জোটের দীর্ঘ আন্দোলনের প্রতি নজর দেই তাহলে স্বীকার করতে হবে তখন মূল সংকট ছিল নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বাস্তবতা নিয়ে। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত দু’টো নির্বাচনই সেই অভিযোগের সত্যতা শতভাগ প্রমাণ করেছে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন না হয়ে সরকারের আজ্ঞাবাহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল সেটিও তখন প্রমাণিত হয়। তবে আমাদের তত্কালীন আন্দোলন এসব তিক্ত অভিজ্ঞতাকে অবলম্বন করে তিব্রতা পেলেও সমস্যার মূল বিষয়গুলোকে তুলে ধরেনি, দৃষ্টিটা নিক্ষেপ করেছে ক্ষমতাসীন সরকার হিসেবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দিকে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে সাময়িক একটি কারণ মাত্র, প্রধান সমস্যা নিহিত হচ্ছে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী আইন, বিধি-ব্যবস্থা ও তত্সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিতে। আমাদের রাজনীতিবিদদের আমরা দীর্ঘ সংগ্রামী ঐতিহ্যের ধারক-বাহক বলে মাল্যভূষিত করে থাকি। কিন্তু দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে অভিজ্ঞ এসব রাজনীতিবিদ আশির দশকের গোটা আন্দোলনকে ব্যক্তি এরশাদ বিরোধী চরিত্রে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন, সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে যাওয়ার বিষয়টি উপলব্ধি করেননি। এর কারণ হচ্ছে ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতি ও আন্দোলন, গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চর্চাকেন্দ্রিক নয়। সে কারণেই আন্দোলনটি শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছিল এরশাদকে বিদায় করা, আপাতত কাউকে এনে একটা নির্বাচন করিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার ব্যবস্থা করা। আমরা তখন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ধরে এনে সরকার প্রধানের পদে বসিয়েছিলাম। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, বাহ্যিকভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কৃতিত্ব দাবি করি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সেই নির্বাচনে ত্রুটিযুক্ত ভোটার তালিকা ছিল, ভুয়া ভোটার রোধ করা যায়নি, আচরণবিধি মানা হয়নি, কারসাজি ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়গুলো রোধ করা যায়নি। এটিকে মন্দের ভালো নির্বাচন বলা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না! এরপর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা স্থায়ী হয়নি। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচিত সরকারের অধীন, আরো সঠিকভাবে বললে বলতে হয় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে দীর্ঘদিন রাস্তায় আন্দোলনকারী দল বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও (১৯৯১-১৯৯৬) তা থেকে আবার আন্দোলন, কঠিন আন্দোলন-তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন। এখানেও একই দুর্বলতা, একই ধরনের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি—অর্থাত্ নির্বাচনের সময় ক্ষমতায় কে থাকবেন, উটের ওপর জকির আসনে কে বসবেন- সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয় হলো। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের ৬ষ্ঠ সংসদে তেমন কিছু জগাখিচুড়ি আইন পাস করিয়ে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন ব্যবস্থার বিষয়টি এবারও আলোচিত হয়নি। এরপর ১৯৯৬ সালের ১২ জুন প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ৩ মাসের দায়িত্ব নিলো। সে সময়ে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর একটি ব্যর্থ চেষ্টা করা হলো। নানা সংকট অতিক্রম করে নির্বাচন একটি হয়েছে সত্য, সেই নির্বাচনেও মাঠে-ময়দানে জয়লাভে শক্তি, প্রভাব, কারসাজি, জাল ভোট- কোনোটি থেকেই মুক্ত থাকা যায়নি। সেগুলো ঘটে নীরবে, নিভৃতে। তারপরও পরাজিতরা ফলাফল মানেনি, কারচুপির নির্বাচন বলে রাস্তায় থেকেছে পাঁচ বছর। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার দাবির চাইতেও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বাদ দেয়া, পদত্যাগ করার দাবিই উচ্চারিত হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনে ব্যক্তির পরিবর্তন ঘটেছে, প্রতিষ্ঠানের আইন ও গুণগত মানে পরিবর্তন আনা হয়নি, দাবিও করা হয়নি। ক্ষমতাসীনরাও কোনো উদ্যোগ নেয়নি, বিরোধীরা আন্দোলন করলেও এসব দাবির ধারেকাছেও তারা ছিল না। ২০০১ সালে দ্বিতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলেন, অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রভাব, ক্ষমতা, বল এবং অর্থ প্রয়োগের অভিযোগ আগের চাইতে বেড়েছে। বাইরে অবাধ, ভেতরে ক্ষমতা ও নানা ধরনের মেকানিজমের উদ্ভাবন করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সেটিও দেশে বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারেনি, গণতন্ত্রও খুব একটা এগোয়নি। আবার আন্দোলন, আবার কে হবেন, কে হবেন না সেই তত্ত্বাবধায়কের প্রধান তা নিয়ে দেশ টালমাটাল হলো। ক্ষমতাসীনরাও নানা জটিল অংক কষলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে নানা খেলায় মাতা হলো। আসলে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আন্দোলন ও বুলি শেষ পর্যন্ত প্রহসনে পরিণত হলো। দেশ একটি ‘যেন-তেন মার্কা’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকেই হাঁটলো। ২০০৬ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর এবং ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশ কীভাবে এক-এগারোর দিকে হেঁটে গেল তা এখন স্মরণ করলে একই বৃত্তের পুনরাবৃত্তি ঘটার কথাই বলতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে শক্তিশালী তথা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যে যোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে সরকারগুলো, রাজনৈতিক দলগুলোর কেউই কোনো ভূমিকা রাখেনি, উদ্যোগ নেয়নি, বিদ্যমান ব্যবস্থাতেই সবাই নীরব থেকেছে। কেন থেকেছে-এর কোনো যুত্সই উত্তর কখনো শুনিনি। অথচ অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দেশে কতো আন্দোলন, প্রাণহানি, সংঘাত-সংঘর্ষ ঘটেছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। ২০০৭-৮ সালে দেশ শাসন নিয়ে তত্কালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে নানা অভিযোগ আছে, তাদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আছে, দেশে বিরাজনীতিকরণ নিয়ে তাদের অপচেষ্টা ছিল ইত্যাদি সীমাবদ্ধতার পরও স্বীকার করতে হবে সেই সময়ে গঠিত নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে প্রথম হাঁটতে শুরু করে, ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, নির্বাচনী বিধি, আচরণ-ইত্যাদি একটি পর্যায়ে এনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর দেশে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে। সেই নির্বাচনে ভোটারদের ভোটদান, ভোট গণনা ও ফলাফলে জনগণের রায়ই প্রতিফলিত হয়েছে। তারপরও পরাজিত দল সেই ফলকে গ্রহণ করতে পারেনি। তবে নির্বাচন কমিশন নানা চড়াই-উত্রাই পার হয়ে একটি জায়গায় এসে দাঁড়াতে পেরেছে যখন কারচুপির নির্বাচন করানো বোধ হয় বাংলাদেশে আর কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না। এটি একটি ইতিবাচক দিক। দরকার ছিল এটিকে আরো কিভাবে সংহত করা যায়, নির্বাচন কমিশনকে উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো স্বাধীন ও কার্যকর করা যায় সেদিকে আরো বেশি মনোনিবেশ করা। বিরোধী দলের দাবি-দাওয়ায় সেই বিষয়গুলো স্থান পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু গত ৪ বছর বিরোধী দলগুলো মনস্তত্ত্বের পুরাতন অবস্থানেই রয়ে গেছে, জনমনস্তত্ত্বেও নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার বিষয়টি প্রধান হয়ে আছে। অন্যদিকে সরকার এবং সংবিধানের অবস্থানটি কতোটা জনগণ গ্রহণ করার পর্যায়ে আছে তা বলা মুশকিল। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি বা সরবারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ফর্মুলাটি এখনো ব্যাপক আলোচনায় বা চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণে উঠতে পারেনি। এই বিষয়ে সকলেই আশা করছে যে, সরকার এবং প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ অথবা সমঝোতা হওয়া উচিত। সেটি হয়তো সম্ভবও। কিন্তু তার আগেই দেশে গত মাসদুই যাবত্ ১৮ দলীয় জোট রাস্তার আন্দোলনকে অনেক বেশি সহিংসতার দিকে ধাবিত করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষত জামায়াত-শিবির ট্রাইব্যুনালের বিচারকে বাস্তায় চ্যালেঞ্জ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চারদিকে জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর, সহিংসতাকে যে মাত্রায় নিয়ে গেছে তা অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলনের যে কোনো কর্মসূচি থেকে অনেকগুণ বেশি সহিংসতা ও উগ্রতার চরিত্রকে ধারণ করেছে। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুটিকে জামায়াতের ইস্যুর সঙ্গে একাত্ম করে নেওয়ায় আন্দোলনে জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা একাত্ম হতে পেরেছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের কৌশলগত বেশকিছু ভুল পদক্ষেপ জামায়াত-বিএনপিকে একাত্ম হতে সাহায্য করেছে। বিশেষত বিএনপির অফিসে পুলিশের অভিযান, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, মামলা ইত্যাদিতে জড়ানোর সরকারের পদক্ষেপ উভয় দলকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে আরো বেশি একাত্ম করেছে। উভয়ের মিলিত অবস্থানে প্রতিযোগিতা দিয়ে বেশব্যাপী আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ের হরতাল বেড়ে চলছে, হরতালে পেট্রোল, ককটেল, গাছকাটা, রেল লাইন উপড়ে ফেলা, আগুন জ্বালিয়ে দেয়াসহ নানা ধরনের উপসর্গ যুক্ত হয়েছে- যা অতীতে কোনো আন্দোলনে এতোটা তীব্র, নিষ্ঠুর এবং অমানবিক হতে দেখা যায়নি। ইতিমধ্যে এসব হরতালে দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে, হাজার হাজার যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে; বাড়িঘর, দোকানপাট পোড়াপুড়ি ও ভাঙচুরে পড়েছে, শিক্ষা ও পরীক্ষা বিপর্যস্ত হয়েছে, সর্বোপরি মানুষের অর্থনৈতিক কাজকর্ম প্রায় লাটে উঠতে বসেছে, ছোটবড় ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত দেওয়ার উপক্রম হয়েছে, খেটেখাওয়া মানুষের আয়-উপার্জন বন্ধ হতে বসেছে। বস্তুত, এ মুহূর্তে মানুষ দেশচিন্তা, রাজনীতির চিন্তা ইত্যাদি ভুলে যেতে বসেছে। প্রত্যেকেরই এখন রুটিরুজি, জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকাই শুধু নয়, দেশের গণতন্ত্রও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের প্রতি দলের বাইরে জনসমর্থন কতোটা আছে তা কেউ দেখছে না। অতীতের আন্দোলন ছিল দেশের রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে, এবার কিন্তু সেটি আর মূল থাকেনি। যদিও বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণতন্ত্র রক্ষার বিষয় হিসেবে দাবি করছে, কিন্তু ধর্মীয় নানা ইস্যু এই আন্দোলনে যুক্ত হয়ে দেশ যে ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- যারা এ সবে নেতৃত্ব ও অংশ নিচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে এবার গণতন্ত্র এবং ধর্মকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। এমন গভীর সংকটে অতীতে রাজনৈতিক আন্দোলন খুব বেশি পড়েনি। সে কারণে সাধারণ মানুষ ঘরমুখো এবং আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ এ ধরনের অবস্থাতেও একে অপরের বিরুদ্ধে লাগামহীন অভিযোগ করছেন। ধর্মীয় বিষয়াদিও তাতে আনা হচ্ছে। তাদের কথায়ও রাজনীতিতে অসহিষ্ণুতার নানা ধরনের প্রকাশ ঘটছে। বলা হচ্ছে দেশ অচল করে দেয়া হবে, আবার সামরিক বাহিনীকে নিয়েও অযাচিত মন্তব্য করা হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে দেশ ভয়াবহ অবস্থার দিকে পা রাখছে, যেখানে গণতান্ত্রিক শক্তির বিবেক জাগ্রত না হলে, যুক্তিসঙ্গত উদ্যোগ না নেয়া হলে বর্তমান মারমার কাটকাট মনোবৃত্তির জায়গা থেকে নেতাকর্মীদের ফিরিয়ে আনা যাবে না। সরকার এবং গণতন্ত্রিক শক্তিকে সংযত আচরণ করেই বর্তমানের ভয়াবহ এই সংকট থেকে দেশ ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। লেখক: অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক