বড়ই চৌকষ ক্রীড়ানৈপুণ্য নিয়ে আগাচ্ছে সরকার। আগামী নির্বাচনের জন্য সরকার নানান প্রান্ত থেকে লাগাতার আগাম ভোট সংগ্রহ করে ফেলছে। অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে এবং ভীষণ দক্ষ ব্যবস্থাপনায়। এতটাই যে, জামায়াতে ইসলামীর হাইকমান্ড এই মুহূর্তে যে ধরনের অনুভূতি নিয়েই থাকুন না কেন বিএনপির হাইকমান্ড রীতিমতো এই দক্ষতা টের পাচ্ছেন বলে অনুমান করি। টের পাচ্ছেন অন্য নানান ধরনের মানুষজন, বিশেষ করে নগরকেন্দ্রিক রাজনীতি-‘সচেতন’ যাদের বলা হয়ে থাকে আর কি! জামায়াতে ইসলামীর বিষয়টিকে আপাতত আলাদা রাখলাম মানে এই নয় যে, সেটি কম গুরুত্বপূর্ণ। বরং একেবারেই উল্টো। সম্ভবত এই সংগঠনটিই সরকার তথা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পাঠ করছে এবং নোট নিচ্ছে। কিন্তু সেটা একেবারে স্বতন্ত্র প্রসঙ্গ। এমনকি চূড়ান্ত বিচারে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য সেটাই প্রসঙ্গ।
গত কিস্তিতে যখন আমি প্রধানমন্ত্রীর একটা আকাঙ্ক্ষিত ভাষণ না দেয়াকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করছিলাম, তখনি এই আশঙ্কাটা আমার ছিল যে, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি আর আকাঙ্ক্ষার রাজ্যে আরো গৌণ, আরো হীন, আরো নগণ্য, আরো প্রতারিত হবার পরিস্থিতি সামনে অপেক্ষা করছে। কিন্তু পক্ষকাল পরই আরো গাঢ় নাজুক, অনিশ্চিত আর জালিয়াতির মধ্যে নিপতিত অবস্থায় পড়ে আবার আপনাদের দরবারে হাজির হতে হবে সেটা অনুমান করতে পারিনি। হয়তো এই অনুমান কাজ করেনি রুমি স্কোয়াডের অনশনরত শিক্ষার্থীবৃন্দের মধ্যেও। আমি নিশ্চিত কাজ করেনি অন্য অনেক বর্গের মধ্যেও। হয়তো এরকম অনুমান বা আশঙ্কা কাজ করেছে কেবল নারায়ণগঞ্জের সংগ্রামী মানুষজনের মধ্যে। এই দুরূহ মানসিক প্রস্তুতি নেয়া তাদের জন্য কোনোমতেই আনন্দঘন হয়নি। গত ৪ঠা মার্চে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম সংগঠক রফিউর রাব্বির সন্তান তানভির মুহাম্মদ ত্বকীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তারপর প্রায় একমাসকাল গত হয়েছে। হত্যার মোটিভ নারায়ণগঞ্জবাসী উপলব্ধি করেন, জানেন। হত্যার সম্ভাব্য কারণ ও সংঘটক সম্বন্ধে নারায়ণগঞ্জবাসীর বন্ধুকুল বুঝতে শুরু করেছেন। জানেন না বা বোঝেন না শুধু স্থানীয় প্রশাসন ও সরকার। তাদের আচরণ থেকে এই আশঙ্কাও দেখা যায় যে, তারা চান না নারায়ণগঞ্জবাসী কিংবা দেশবাসীও যাতে অবধারিত পরিস্থিতিটা না বুঝতে পারেন, না জানতে পারেন।
আজ এই মুহূর্তে যখন সরকারের সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রত্যাশীদের সম্পর্ক খতিয়ে দেখার প্রশ্নটি উত্থাপন করছি তখন রফিউর রাব্বি তার জীবিত সন্তানটির মৃত্যু পরোয়ানা পেয়েছেন। আর জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের দাবিতে অনশনরত শহীদ রুমি স্কোয়াডের কয়েকজন সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কোনোরকম আশাব্যঞ্জক প্রতিক্রিয়া সরকারের তরফ থেকে পাওয়া যায়নি। সরকারের যেসব প্রতিক্রিয়া বা পদক্ষেপ বরং লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা সবিশেষ আতঙ্কজনক। সরকার ব্লগারদের তওবা করানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। সরকার গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। আর নির্দেশ দিচ্ছেন কে বা কারা জাগরণ মঞ্চের বক্তৃতা-বিবৃতি বানিয়ে দিচ্ছেন তাদের চিহ্নিত করতে। সরকার অনশন নিয়ে কোনো দায়সারা মন্তব্য করবারও কারণ দেখছেন না। কিংবা নারায়ণগঞ্জের সর্বশেষ আলোচিত খুনটি নিয়েও, যে খুনটি অন্য যেকোনো বিষয় বাদ দিলেও একজন শিশুপ্রায় ছাত্রের খুন। সরকারের এই আচরণ খুব বিনয় করে বললেও ক্ষমতাগর্বি ও ক্ষমতালোভী গোঁয়ার কর্মকাণ্ডের নজির মাত্র। যে বা যারা সরকারের কাছ থেকে ন্যায়বিচার আশা করছেন, মেহেরবানি করে আরেকবার পুরো বিষয়গুলো পর্যালোচনা করুন। মেহেরবানি করে তারা আমাদের দুই সরকারের মধ্যে তুলনামূলক ‘কম মন্দ’ সরকারের থিয়োরিটার অসারতা খতিয়ে দেখুন। আর দেশের অন্যান্য মানুষজনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা গড়ে তুলবার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য বর্তমান সরকারের পক্ষে সাফাই গাইতে না আসুন। যথেষ্ট হয়েছে!
ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে পূর্বতন হিসেব-নিকেশ সব ওলট-পালট হবার একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে বিস্তর আলাপ মানুষজন করছেন। এখানে সেটা নিয়ে আলাপ করছি না। কিন্তু সরকারি দল, প্রধান বিরোধী দল, জামায়াতে ইসলামী এদের প্রত্যেকের নিজ নিজ অনুগত চিন্তাশীল বাহিনী, শাহবাগের জমায়েত, তাদের পক্ষীয় চিন্তক মহল—সব মিলে এক মহাযজ্ঞ চলছে। কর্তব্য নির্ধারণ, কর্তব্য নির্ধারণী বিতর্ক, অবস্থান বদল, অন্তর্গত ও পাবলিক দুই পরিসরের মুখচ্ছবি বানানো, ক্ষমতার রশি টানাটানি, যুদ্ধাপরাধের বিচারের বাহ্যিক কারণকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা, কিংবা কারো কারো জন্য সেটাকে ধামাচাপা দেয়া এতরকম পরিস্থিতি একটা উত্তুঙ্গ রাজনৈতিক প্রবাহ বিদ্যমান। এই পাটাতনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে হত্যা আরেকটি মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপি-জামায়াতের একরোখা এজেন্ডা এবং সরকারের পক্ষে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করবার সর্বাত্মক লক্ষ্য পরিস্থিতিকে প্রায় অনিরাময়যোগ্য করে তুলেছে। শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে বিরোধী শিবির থেকে, রাজনীতিক ও বিশ্লেষক উভয় তরফেই, নানান গিয়ার বদলে, যাই বলা হোক না কেন, সেখানে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রশ্নে অটল কর্মীর অভাব নেই। বরং এরকম কর্মী এখানে অগণ্য। শ্রেণি, লিঙ্গ, জাতি প্রশ্নে এই জমায়েতের নানাবিধ বোঝাপড়ার সূত্রপাত অনায়াসে না ঘটে থাকতে পারে। আসলে অনায়াসে ঘটবেও না, তারজন্য দুর্দান্ত সব চিন্তার দ্বৈরথ প্রয়োজন আছে, যদি আদৌ উদ্যোক্তারা সেই রাজনৈতিক পরিক্রমা চান আরকি। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রশ্নে এই জমায়েতের মুখ্য চালিকাশক্তি একনিষ্ঠ। যারা চাইছেন শাহবাগ নানান কিছুর দায়িত্ব নিক, সেটাকে খানিক দীর্ঘবঞ্চিত উচ্চাভিলাষ হিসেবে দেখা চলে। আবার যেসব বিশ্লেষক বা নিন্দুক শাহবাগের আন্দোলনে ভূত খুঁজে বেড়াচ্ছেন তারা মৌলিক যে জিনিসটা খেয়াল করতে বা করাতে চান না তা হলো প্রতিটি জমায়েত নানাবিধ রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে। শাহবাগের বহুস্বর একটু কান পাতলেই গোড়া থেকেই শ্রুত ছিল। কেন ও কী প্রক্রিয়ায় সেই বহুস্বরকে উদ্যোক্তাগণ সামলালেন, কিংবা নিষ্প্রভ করলেন সেটা একদম স্বতন্ত্র জিজ্ঞাসা। কিন্তু এই বহুত্বের প্রণোদনা শাহবাগকে সংহতি প্রশ্নে অনেক জরুরি কিছু প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংহতি আর সর্বময় ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা যে বিপ্রতীপ সেই প্রজ্ঞার প্রশিক্ষণ সেটা।
ব্লগার রাজীব খুন হবার পর দেড় মাসের মতো হয়ে গেছে। একাধিক ব্লগার ও ব্লগারবান্ধব লোকজন একটা খুন নিয়ে বিষাদগ্রস্ত তো ছিলেনই। অধিকন্তু তারা নিজ নিজ পরিমণ্ডল ও কর্তব্য নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতেও শুরু করেছিলেন। প্রতিপক্ষের হিসেব কষাটা তাদের জন্য একেবারে সহজ ছিল না। যেটা সাধারণ বোধবুদ্ধি থেকে নানান লোকজন দেখছিলেন সেটা সরল প্রতিপক্ষ। জামায়াত-শিবির। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করবার দাবি করছেন যারা তাদের এই পক্ষ হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। হত্যার মওকা পেলে সেটা করবে, কিংবা চরম শাস্তির ইহজাগতিক ব্যবস্থা করবে—সেটা সহজ অনুমান। কসরত্ করে সেটার প্রমাণ করা লাগে না। কিন্তু ব্লগ-পরিমণ্ডলের প্রজাদের নিয়ে রাষ্ট্রের নিরুপদ্রব শান্তি ছিল কী? ব্লগ-পরিমণ্ডলের নানাবিধ অভিব্যক্তি ও তত্পরদের নিয়ে পর্যাপ্ত জানাশোনা কিংবা স্বস্তি কোনোটাই কী সরকার কিংবা রাষ্ট্রীয় এজেন্সিগুলোর ছিল? যদি না থেকে থাকে, ব্লগারদের মধ্যে একাংশের কী এই আশঙ্কা জাগেনি যে, এই মোচ্ছবের মধ্যে ধূর্ত সতর্কতার সাথে কেউ কেউ তাদের গতিবিধি, ভাবনা-চিন্তা, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা মনোযোগ দিয়ে পাঠ করছেন? ব্লগ-তত্পর কেউ কী ভাবেননি যে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করবার বিধিমালা আর পদক্ষেপ নেবার জন্য মুখিয়ে বসে আছে রাষ্ট্রের প্রকাশ্য ও গুপ্ত কারিগরবৃন্দ? আসলে তারা ভেবেছেন। তারা জানতেন। ক্রমাগত বদলমান পরিস্থিতিতে তাদের এই উপলব্ধিটুকুও অন্তত আমাদের জন্য সান্ত্বনার। তারা ভেবেছেন, বুঝেছেন কারণ নানান অজুহাতে ব্লগের দুনিয়ায় হস্তক্ষেপ করবার বাসনা সরকার বা সরকারের মিত্র মানুষজন দেখিয়ে ফেলেছিলেন। কখনো ভাষা প্রমিতকরণের নামে, কখনো রাষ্ট্রদ্রোহিতা জুজুবুড়ি বানিয়ে। হয়তো আপাতনগণ্য সেই আলামতগুলো থেকেই ব্লগাররা টের পেয়েছিলেন নিয়ন্ত্রণকামিতা।
ব্লগাররা কিছুতেই একটা অখণ্ড বর্গ নয়। সেটা সকল অর্থেই। নানান রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বন তো আছেই, বিশ্ববীক্ষার প্রশ্নে তাদের মধ্যে ভিন্নতা আছে, কোনো মতামত প্রকাশ করবার ক্ষেত্রে অভিব্যক্তির ধরন-ধারণে বিস্তর পার্থক্য আছে। কিন্তু সেসব ভিন্নতা নিয়ে পেরেশান হবার মতো কিছু ঘটেনি। ব্লগের পরিমণ্ডলে এমন কোনো নয়া ধরন প্রকাশিত হয় না যেটা বাস্তব দুনিয়ায় নেই। যেসব সম্ভাব্য পীড়াদায়ক ভাষা (বা ভঙ্গি) ব্লগে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে তার থেকে অনেক তীব্র ভাষা (ও ভঙ্গি) কথ্য দুনিয়ার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ইতিমধ্যেই বিরাজমান আছে। যেসব ভাষামালা ইতিমধ্যে জারি আছে তা ব্লগে সঞ্চালিত হলে নতুন করে আতঙ্কিত হবার কী আছে? মুদ্রিত পত্রিকার মানদণ্ড দিয়ে কোনোভাবেই ব্লগের দুনিয়াকে শাসন করা সম্ভব নয়। তাতে শাসন কায়েম হতে পারে, বিচার হয় না। তারপরও যদি কোনো কোনো কর্তৃপক্ষ মনে করে থাকেন যে, ব্লগের দুনিয়ায় সংস্কার আনা দরকার, সেটার উদ্যোগ নিতে হতো এই উত্তাপময় পরিস্থিতির বাইরে স্বতন্ত্রকালে। সামাজিক সকল অভিব্যক্তির ক্ষেত্রেই সেটা প্রযোজ্য হতে হবে। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কিংবা বিরোধীদলীয় নেত্রীর কথা বলার বিষয়বস্তু ও ভঙ্গির ক্ষেত্রেও। ফলে নবীজী কিংবা ধর্মের অবমাননার প্রসঙ্গ আলেমদের জন্য যতই কেন্দ্রীয় ভাবনার বিষয় হোক না কেন, সরকার ও রাষ্ট্রীয় এজেন্সি ঠিক একই কারণে ব্লগ দুনিয়া শাসন করতে নেমেছেন তা মেনে নেয়া বুদ্ধিতে কুলায় না। ৮৪ জন ব্লগারের তালিকা প্রণয়ন এবং তালিকার বাইরে আরো আরো ব্লগারদের নজরদারিতে রাখার যে ব্যবস্থা করল সরকার সেটা হঠকারি বললে নম্র করে বলা হয়। সম্ভবত প্রতিহিংসা আরো কার্যকরী শব্দ। ধর্ম, ঈশ্বর এবং নবী সম্বন্ধে আচরণবিধি কাম্য কিনা সেটা স্বতন্ত্র প্রসঙ্গ। যদি কাম্য হয় সেটা করবার জন্য সরকারের অবশ্যই সঠিক কাল বাছাই করা দরকার ছিল। যুদ্ধাপরাধের বিচার করবার মৌসুমে এবং জামায়াতী সহিংসতা সামলাতে না পারার প্রেক্ষাপটে সরকারের এসব উদ্যোগ বড়জোর তার ল্যাজে-গোবরে অবস্থার দলিল হিসেবে পাঠ হবে, প্রতিহিংসার অধিকন্তু।
চিন্তাশীল, ক্রিটিক্যাল ব্লগাররা বুঝে ফেলেছেন তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার কী হবে সেই ভাবনার আগেই এটা তাদের ভাবতে হচ্ছে নিশ্চয়ই।
এই এতকিছুর মাঝেও ব্লগারদের ছাপিয়ে দুর্ভাবনায় জায়গা করে নিয়েছেন অনশনরত রুমি স্কোয়াডের কর্মীবৃন্দ। তাদের এই উদ্যোগ সম্ভবত এই ভরসার ওপর দাঁড়ানো ছিল যে, আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াত প্রশ্নে অটল। হয়তো। হয়তো তারা ভেবেছিলেন তাদের এই অনশন সরকারের কালক্ষেপণের কৌশলকে চাপে ফেলবে। অথবা অনেকে যেমন ভাবছেন তীক্ষ মুক্তিযুদ্ধের ‘চেতনা’ই তাদের এই মরিয়া সিদ্ধান্তের শক্তি যুগিয়েছে কোনো পূর্বাপর ভাবনা ছাড়াই। যদি সেটাই হয়ে থাকে তাদের এই উদ্যোগের পাটাতনে মুক্তিযুদ্ধের ‘সপক্ষ’ শক্তি যে মসনদে আছে এই বাস্তবতাটিও ছিল।
যখন হাসপাতালে তারা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন কেউ কি তাদের মনে করিয়ে দেবার নেই যে, সরকারকে একটা ভোটাকাঙ্ক্ষী দল হিসেবেই দেখা দরকার তাদের? কেউ কি বলবেন তাদের যে সরকার মৃত্যু নিয়ে সামান্যই বিচলিত? কিংবা আবদার আর অনুরোধের সম্পর্ক সরকারের সঙ্গে বজায় রাখা সম্ভব নয়? কিংবা আরো সরল করে এই হিসেবটাই কেউ দেখিয়ে দিতে পারেন। যদি রফিউর রাব্বি কিংবা তার সকল মিত্র এখন ত্বকী হত্যার ন্যায়বিচার চেয়ে অনশনে বসেন, এটুকুরও কি গ্যারান্টি আছে যে, তারা অনশনে মরবার সুযোগ পাবেন, অন্যভাবে মরবেন না? কিংবা রাব্বি সাহেবের ছোট ছেলের মৃত্যু পরোয়ানা কি নেহায়েত লঘু করে দেখা সম্ভব?
মান-অভিমানের সম্পর্কের অবসান হোক। চলুন আমরা ন্যায্যতা চেয়ে প্রতিপক্ষতা ঘোষণা করি।
লেখক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
