শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৩৮
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয় দেশে আবার নির্বাচনকে নিয়ে রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন আজো সম্ভব নয়। এদিকে সরকার বলছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে দেশের মানুষ আজ শংকিত। আমরা ওয়ান-ইলেভেন দেখেছি কিন্তু বর্তমানে দেশ এর থেকেও বেশি সংকটের দিকে যাচ্ছে। এই সংকটময় মুহূর্তে উভয় দলের মধ্যে আলোচনায় না বসলে, আদৌ এই সংকট নিরসন করা সম্ভব নয়। কারণ দু’দল দু’দিকে গেলে মাঝে ফারাক সৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক। আর যত ক্ষতি শুধু জনগণের। আর তাই যতদিন না একটি নিরপেক্ষ,শক্তিশালী এবং পেশাদার নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও মাঠ প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর গণতন্ত্র চর্চা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। আমানুল্লাহ আবির বিএ অনার্স, ১ম বর্ষ ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, তবে তত্ত্বাবধায়ক না হলে সেনাবাহিনীর অধীনে হবে ধান ছাড়া যেমন চাল উত্পাদন সম্ভব নয়, পানি ছাড়া যেমন মাছ চাষের কথা কল্পনা করা যায় না, তেমনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আমাদের দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা চিন্ত করা যায় না। দলীয় সরকারের অধীনে কখনো স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। কারণ যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের ইশারা ছাড়া দেশের গাছের একটি পাতাও নড়ে না। তাই বলা যায় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে শুধু অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনই হবে না, সাথে নির্বাচন কমিশন নিয়েও বির্তক শুরু হবে। বর্তমান সরকারের তারা যদি বিশ্বাস করে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা জয়ী হবে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। আর শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রয়োজন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়টি বর্তমান সরকারের কাছে এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে বিচার মানি তালগাছ আমার অর্থাত্ সুষ্ঠু নির্বাচন চাই তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা সত্ত্বেও গত নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি করছে প্রধান বিরোধী দল। তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও যে দলই নির্বাচনে হারুক সেই বলবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাহলে চিন্তা করুন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে যে দল হারবে সে কি কখনো বলবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তাই বর্তমান সরকারের প্রতি বলি- নিজেদের অধীনে নির্বাচন করে শুধু শুধু নিজেদের বিতর্কে জড়াবেন না। নির্বাচনে হারুন জিতুন তবে বিতর্কমুক্ত থাকবেন শুধু দেশে নয় সারাবিশ্বে। তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক সাধারণ জনগণ বলি হয়েছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক না হয়ে সেনাবাহিনীকে মনে হয় আবার ক্ষমতা নিতে হবে। এতে করে দেশের সাধারণ মানুষ সুখে থাকবে। অনন্ত মারামারি হানাহানি থেকে মুক্তি পাবে। যেমনটি ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে পেয়েছে। আর ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের যন্ত্রণা বাড়বে। সুষ্ঠু নির্বাচন সকলের কাম্য। এম সাবউদ্দিন রাসেদ বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ এশিয়া, ঢাকা বিভক্ত জাতি, বিভক্ত রাজনীতি বাংলাদেশে যখন সবেমাত্র গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হচ্ছিল ঠিক তখনই রাজনৈতিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করল। একদল ‘বাবার দেশ’ অন্যদল ‘স্বামীর দেশ’ বলে নিজেদের জায়গায় অনড় অবস্থায় থেকে সাধারণ মানুষের বারোটা বাজাচ্ছে। আসলে আমি মনে করি কোনো দলই বাংলাদেশকে ভালোবাসে না। কোনো দল ভারতকে, কোনো দল পাকিস্তানকে ভালোবাসে। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এসে এতো বেশি দুর্নীতি করেছিল যে তার হাত হতে রক্ষা ও ক্ষমতার মসনদে থাকার জন্য দেশের পরিস্থিতিকে এমন ঘোলাটে করেছিল, যার ফল ১/১১ হয়েছিল। বর্তমান মহাজোট সরকার যা একটি ব্যর্থ সরকারে পরিণত হয়েছে, তারা বর্তমানে সীমাহীন দুর্নীতি, পাখির মত মানুষ হত্যা, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, হলমার্ক, পদ্মাসেতু দুর্নীতি, বহির্বিশ্বের সাথে বৈরী সম্পর্কসহ সকল ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাদের এ ব্যর্থতা গলা পর্যন্ত হয়ে গেছে। আমি মনে করি সরকার এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। তাই নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য যেভাবেই হোক, যত লাশই পড়ুক, যত সম্পদই ধ্বংস হোক না কেন তাদের ক্ষমতা চাই-ই চাই। সকল অবস্থা বিচার-বিশ্লেষণ করে বলা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের রাজনীতি একটি অশুভর দিকে ধাবিত হচ্ছে। যা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিপরীত। তাই আমি মনে করি, সংকট নিরসন না হলে নির্বাচন শান্তির্পূণ হবে না। মো. আমির হোসেন বি.এস.এস(সম্মান) [ফল প্রার্থী], ব্যবস্থাপনা বিভাগ, নোয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, নোয়াখালী দেশে নির্বাচন না হওয়ার প্রশ্নই আসে না দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠার কোন শেষ নেই । দিন দিন তা আরো তীব্র আকার ধারণ করছে। এমতাবস্থায় নির্বাচন হবে কিনা হবে না এ নিয়ে মানুষের তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। শহরে গ্রামে-গঞ্জে সবখানে এখন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, দেশের ভবিষত্, আগামী নির্বাচন হবে কি হবে না এ নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। দেশের একজন আমজনতা হিসেবে আমি মনে করছি, দেশে নির্বাচন না হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। কেননা নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আহ্বান করবেন আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে দেশের বৃহত্ রাজনৈতিক দলগুলো। এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ কোন দল করবে কিনা করবে না তা নির্ভর করবে তাদের ওপর। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রধান বিরোধী দলকে সরকারের সাথে আলোচনায় বসতে হবে। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে আলোচনায় না গিয়ে একদফা সরকার পতনের আন্দোলনে গিয়ে কোন লাভ নেই বলে আমি মনে করি। একই সাথে দেশকে আরও ধ্বংসাত্মক পরিবেশের মুখে ঠেলে না দিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান করতে। লাশের বদলে লাশ চাই এই কথা না বলে শান্তির জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসাথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এ প্রত্যাশা দেশের সকলেরই । মোস্তাফিজ মিশু ২য় বর্ষ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন