লিভার বা যকৃত শরীরের অন্যতম ভাইটাল অরগান। সুস্থ সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করতে হলে লিভার সুস্থ রাখা অতি জরুরি। সাধারণত লিভার সমস্যার মধ্যে জন্ডিস, হেপাটাইটিস-এ, ই এবং হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসের সংক্রমণ অন্যতম।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শতকরা ৭ থেকে ১০ জনের লিভারে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। আর এই ধরনের সংক্রমণ থেকে মারাত্মক ঘাতক ব্যাধি লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। অথচ কিছু নিয়ম-নীতি অনুসরণ করলে লিভার যেমন সুস্থ রাখা যায়, তেমনি রক্ষা পাওয়া যায় লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগ থেকে।
লিভারকে সুস্থ রাখা এবং লিভারের কিছু সমস্যা ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন প্রখ্যাত লিভার বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মবিন খান। তিনি জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লিভার সমস্যা ও ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে রোগীর কোনো উপসর্গ থাকে না। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথমে ইনফেকশনের কথা জানতে পারেন। আবার কিছু কিছু রোগীর শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, পেটফাঁপা, হজমে অনিয়ম, বমি বমি ভাব ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যাও থাকতে পারে। সাধারণত লিভার সুস্থ রাখার জন্য অন্যতম যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে হেপাটাইটিস-এর টিকা নিতে হবে। শিশু ও বড়দের চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নিতে হবে। হেপাটাইটিস-এ ও বি-এর জন্য টিকা পাওয়া যায়। তবে সি ভাইরাস সংক্রমণ রোধে কোনো টিকা নেই। এছাড়া হেপাটাইটিস প্রতিরোধে বাইরের খোলা খাবার পরিহার, বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি মারাত্মক সংক্রমণ ব্যাধি হেপাটাইটিস-বি ও সি ভাইরাস সংক্রমণ রোধে নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, ডিসপোজেবল সুচ ব্যবহার, সেলুনে ব্লেড, রেজার, ক্ষুর বহুজনে ব্যবহার না করা, দাঁতের ডাক্তারের চেম্বারে জীবাণুযুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার বন্ধ করা এবং নিরাপদ শারীরিক মেলামেশা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, মনে রাখতে হবে, গর্ভবতী মা-এর হেপাটাইটিস-বি থাকলে সন্তানের জন্মদানের সাথে সাথে শিশুকে প্রয়োজনীয় টিকা দেয়া অবশ্যই করণীয়। এছাড়া পরিবারের একজন লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকলে অন্যদের রোগের কারণ অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
