বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জেই বাবাকে জড়িয়ে ধরলেন মুশফিক। চোখে মুখে তৃপ্তির ছাপ, মুখে হাসি। শুধু অধিনায়ক মুশফিক নন; মোহাম্মদ আশরাফুল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, আবুল হাসান, এনামুল হক বিজয়—সবার মুখ দেখেই মনে হচ্ছিল যেন কিছু একটা জয় করে এসেছেন তারা। না, সে অর্থে কিছু জিতে ফেরেনি বাংলাদেশ দল। তবে শ্রীলঙ্কা সফর থেকে নিয়ে এসেছে তারা এক গাদা অর্জনের স্মৃতি। কী সেই অর্জন? বিমানবন্দরে নেমে অধিনায়ক মুশফিকুর সে ব্যাখ্যাই দিলেন—
শ্রীলঙ্কার আগের সিরিজগুলোর সঙ্গে এবারের সিরিজটি আকাশ পাতাল পার্থক্য। রহস্যটা কী ছিল?
রহস্য তেমন কিছুই না; আমরা বাড়তি চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম। এটা মানতেই হবে যে, আমরা নিজেদের সেরা দল নিয়ে যেতে পারিনি। ফলে নিজেদের ভেতরে একটা জেদ কাজ করেছে যে, আমরা যদি শতভাগ খেলতে পারি তাহলে ভালো করা সম্ভব। এরপর আমাদের নতুন খেলোয়াড় যারা ছিল তাদের জন্যও এই সফরটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তারা পারফর্ম করেছে এটাই আমাদের বড় অর্জন। আমি আশা করবো তারা এভাবে ধারাবাহিক থাকবে।
তাহলে নতুনদের কাছ থেকে আপনারা প্রত্যাশিত পারফরমেন্স পেয়েছেন?
নতুনরা অবশ্যই ভালো খেলেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বিকল্প হিসেবে দলে আসা মমিনুল এবং বিজয় ভালো খেলেছিল। এছাড়া আমরা যারা সিনিয়র ছিলাম তারাও ভালো খেলতে পেরেছি। আমি বিশ্বাস করি আমাদের পারফরমারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যেটা দলের জন্য খুবই ভালো দিক। কোনো একটা দলের রেজাল্ট হওয়ার পেছনে এটা একটা বড় কারণ।
দলে অনেক ইনজুরি ছিল। তবুও এই সিরিজে ভালো ফল এসেছে। এটাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আসলে ইনজুরি আমাদের অন্যতম চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দলের মূল খেলোয়াড়রা অনেকেই ইনজুরিতে ছিল, যেটা চাপ হিসেবে এসেছে আমাদের ওপরে। একই সাথে শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে হারানো আমাদের জন্য কঠিন ছিল। সেদিক থেকে আমি ধন্যবাদ দেব সাপোর্ট স্টাফদের, যারা আমাদের সহায়তা করেছেন। এছাড়া গত দেড় মাস খেলোয়াড়রা খুব পরিশ্রম করেছে। এই অর্জনের সমস্ত কৃতিত্ব তাদেরকে দিব।
সফর শুরুর আগে কী এতো কিছু করার পরিকল্পনা করতে পেরেছিলেন?
আমাদের সবসময় চেষ্টা থাকে ভালো কিছু নিয়ে যেন দেশে ফিরতে পারি। এবারের সফর খুব ভালো না হলেও পরিকল্পনা ছিল ধারাবাহিক থাকা, সেটা হয়েছে। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে আমরা সেরাটা খেলতে পেরেছি। এই সফরটি সত্যিই ব্যতিক্রম কেটেছে। আশা করি এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও থাকবে।
পেস বোলিং নিয়ে শ্রীলঙ্কাতে কথা বলেছেন। এই বিভাগ নিয়ে আলাদা কোন কাজ করার প্রয়োজন আছে কি?
হ্যাঁ, আমাদের পেস বোলিংয়ে আমাদের ঘাটতি ছিল বেশি। তারপরেও সবাই অনেক চেষ্টা করেছে। আরেকটু ভালো হলে হয়তো পুরো সিরিজ অন্যরকম হতে পারতো।
আশরাফুলের ব্যাটিং নিয়ে কিছু বলুন
আমি বারবারই বলেছি, আশরাফুল ভাইয়ের মতো প্রতিভাবান বাংলাদেশের ক্রিকেটে খুব কমই আছে। আমরা খুবই ভাগ্যবান যে, এই সফরে সে তার অন্যতম সেরা ইনিংসটি খেলেছেন। আমার দেখা তার সেরা ইনিংস এটি। অনেক বড় একটা চাপের ভেতর থেকে তিনি খেলেছেন এবং বেরিয়ে এসেছেন। এটা তার জন্য প্লাস পয়েন্ট। আশা করি জিম্বাবুয়ে সাথেও তিনি ভালো খেলবেন।
হারারে টেস্ট সিরিজ দিয়ে সফর শুরু। এই মাঠেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট খেলেছে জিম্বাবুয়ে। তাছাড়া হারারেতে সর্বশেষ সিরিজটা আপনারা হেরেছেন। এই বিষয়টা কি আপনাদের সমস্যায় ফেলতে পারে?
হারারেতে আমাদের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয় এটা সত্যি। সর্বশেষ সিরিজটাও হেরেছি। এবার গিয়ে রেকর্ড ঠিক করতে চাই। আমরা কতটা উন্নতি করেছি ওদের মাটিতে সেটা প্রমাণ করার সুযোগ থাকবে। এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আশা করছি শ্রীলঙ্কার ধারাবাহিকতা জিম্বাবুয়েও থাকবে।
মাশরাফিকে টেস্টে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। কিন্তু সমস্যা হলো তার ইনজুরি। আপনি এটাকে কীভাবে দেখছেন?
তার মতো একজন খেলোয়াড়কে শুধু টেস্টে কেন, আমি চাইবো সব ফরম্যাটে পেতে। কিন্তু সবার আগে তার শরীরের কথা চিন্তা করতে হবে। তিনি যদি ফিট থাকেন এবং ফিজিও যদি সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে নিঃসন্দেহে খেলবেন।
