অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে না ইউজিসি
মোস্তফা রনি, চবি সংবাদদাতা
অর্থের অভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ৪৩০টি কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। পর্যাপ্ত কর্মচারী না থাকায় বেশ কয়েকটি দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী তারা ইউজিসির কাছে ২০১৭ সালের জুনে এসব শূন্য পদ পূরণে অর্থ বরাদ্দের জন্য লিখিত আবেদন করলেও তাতে সাড়া দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন তিনটি আবাসিক হল ও একটি বিভাগ খোলার অনুমোদন দিলেও একজন কর্মচারীর জন্যও অর্থ বরাদ্দ দেয়নি ইউজিসি। তাই বাধ্য হয়ে দৈনিক ভিত্তিতে ১২ জন কর্মচারী নিয়োগ দিতে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। তবে ইউজিসি বলছে, মঞ্জুরি কমিশন যখন কোনো হল ও বিভাগ খোলার জন্য অনুমোদন দেয় তখন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্যও অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, তিনটি হল ও একটি নতুন বিভাগ খোলার অনুমোদন দেয় ইউজিসি। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও জননেত্রী শেখ হাসিনা হল উদ্বোধন করা হয় ২০১৫ সালের অক্টোবরে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল উদ্বোধন হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। এছাড়া পুলিশ সায়েন্স অ্যান্ড ক্রিমিনোলজি বিভাগ চালু করা হয় ২০১৮ সালে। অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় কোনোটার চারবছর, কোনোটার একবছর পার হতে চললেও কর্মচারী সংকটে এসব হল চালু করা যায়নি। তবে বিভাগ চালু করা গেলেও কর্মচারী সংকটের কারণে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থমকে আছে। ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে সম্প্রতি দৈনিক ভিত্তিতে একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। কর্মকর্তা না থাকায় এ বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম দেখভাল করতে হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ফোরকানকে। এছাড়া ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে কর্মকর্তা না থাকায় এ বিভাগটির দাপ্তরিক কার্যক্রম দেখভাল করছেন রেজিস্ট্রার অফিসের তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সেল প্রধান মোহাম্মদ শাহ আলম। এভাবে বেশিরভাগ নতুন বিভাগই অন্য কোনো কর্মকর্তার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবেই তাকে এ কাজটি করতে হচ্ছে। এছাড়া যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে এক কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক মিডিয়া ল্যাব করা হলেও এ ল্যাবটি পরিচালনার জন্য নেই কোনো টেকনিশিয়ান অথবা কর্মকর্তা, কর্মচারী। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের কাছে দফায় দফায় চিঠি দিয়েও একজন কর্মচারীও পায়নি বিভাগটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র মতে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট, হল ও অনুষদে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির শূন্য পদের সংখ্যা ৪৩০। এর মধ্যে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে ৬টি, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে ৭টি, চাকসুতে ৩টি, শামসুন্নাহার হলে ৩টি, প্রকৌশল দপ্তরে ২১টি, জীব বিজ্ঞান অনুষদে ৪টি, সকল অনুষদে প্রহরী পদে শূন্য পদ ৮টি, রসায়ন বিভাগে ৩টি, সমাজতত্ত্ব বিভাগে ৩টি, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে ৮টি, ফলিত পদার্থবিদ্যা এবং ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়া মাস্টার দা সূর্য সেন হলে ২৩টি, পদার্থবিদ্যা বিভাগে ২টি, এস্টেট শাখা-ব্যাচেলর ডরমেটরি ও কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প দফতরে ৩টি, হিসাব নিয়ামক দফতরে ৩টি, পরিবহন দফতরে ৬টি, আইন অনুষদে ১০টি, নিরাপত্তা দফতরে ১০টি, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ৩টি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩টি, জীব বিজ্ঞান অনুষদে ৩টি, জীব বিজ্ঞান অনুষদ লাউঞ্জে ৪টি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে ৬টি, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে ৪টিসহ আরো বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে পদ শূন্য রয়েছে।
