শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫১
সুষুম ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দুইদলের সমঝোতা প্রয়োজন আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীর সংকটে। আর রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমন হোক না কেন এরশাদ নিজেকে দেশের রাজনীতির নিয়ামক হিসাবে ভাবছেন। এর কারণ প্রধান দুই দলের ব্যর্থতা। আগামী নির্বাচন কোন ধরনের সরকারের অধীনে হবে সে বিতর্কে সরকার ও বিরোধী দলের পাল্টা-পাল্টি বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। আর রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করা না করার ইস্যুতে। এতে আশংকা করা যাচ্ছে ১/১১ চেয়ে বড় কিছু অপেক্ষা করছে। সরকার ও বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থান রাজপথে জ্বালাও পোড়াও, হরতাল অবরোধের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিদেশি বিনিয়োগসহ সব কিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দুই দলের মুখোমুখি অবস্থানে রাজনীতিতে সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়েছে। আবারও মানুষ হত্যা দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটছে, আমি মনে করি সরকার ও বিরোধী দল যতই বিপরীতমুখী আচরণ করুক না কেন আশা করব দেশের স্বার্থে তারা আলোচনায় বসবে এবং সুষুম সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দিয়ে দেশে বিপন্ন গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। সুমাইয়া তাহসীন ভূঁইয়া বি.এস.সি ইন ফিজিও থেরাপী (১ম বর্ষ) হেলথ টেকনোলজি কলেজ, মহাখালী, ঢাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অসম্ভম ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ৩০ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ বর্তমানে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। তাইতো বলার অপেক্ষা থাকে না যে, দেশে বিরাজমান বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামীতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অসম্ভব। কেননা আমরা সবাই জানি যে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকতে হবে কিন্তু আমরা সবাই লক্ষ্য করছি যে, বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি ভারসাম্যহীন অবস্থায় আছে অর্থাত্ বাংলাদেশে বর্তমান হিংসাত্মক রাজনীতি বিরাজমান। আমরা সবাই লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী দল বি.এন.পি তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে একের পর এক হরতাল দিয়ে যাচ্ছে কারণ তাদের প্রধান দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হতে হবে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন সরকার সর্বদাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার মানতে নারাজ কারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার মনে করে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ ও জাতির জন্য অভিশাপ। রাজনীতির নামে এক শ্রেণির রাজনীতিবিদ প্রতিনিয়ত জাতির মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তাইতো সব শেষে একথা বলার অপেক্ষা থাকে না যে, দেশের বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামীতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কেবলমাত্র কল্পনাতেই হতে পারে। তারেক রহমান স্নাতক সম্মান (বাংলা), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, বাংলাদেশ। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থায় একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা অত্যন্ত দুরূহ ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকার চাচ্ছে নিজেদের অধীনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে যেতে। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃতাধীন ১৮ দলীয় জোট চাচ্ছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। উভয়ে তাদের আপন অবস্থানে অটল কেউ-ই নমনীয় নয়। বিরোধী দল তাদের দাবি আদায়ে একের পর এক হরতাল দিয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। অপরদিকে সরকার হরতালে বাধা এবং বিরোধী দলকে দুর্বল করতে গণগ্রেপ্তার করে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। দেশে আবারও ১/১১-এর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পুনরায় দেশে ১/১১ আসলে গণতন্ত্র মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে এবং অর্থনীতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাই সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যমতে না আসলে, আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া অনিশ্চিত হয়ে যাবে। দেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রিপন মিয়া শিক্ষার্থী, অনার্স ৩য় বর্ষ, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতিবাচক সংলাপ-এর ব্যবস্থা করা গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা প্রয়োজন এবং একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের কথা চিন্তা করলে দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়। সুষ্ঠু রাজনীতির অভাব, প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কটুক্তি, মিথ্যাচার, ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার প্রবণতা ইত্যাদি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে প্রধান অন্তরায়। অথচ দক্ষ, সত্ ও যোগ্য নেতৃত্ব গঠনে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন একান্ত অপরিহার্য। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতিবাচক সংলাপ-এর ব্যবস্থা করা। কারণ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে। লাবনী খাতুন (লাবণ্য) মাস্টার্স (শেষ বর্ষ), ব্যবস্থাপনা বিভাগ, আজমখান কমার্স কলেজ, খুলনা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন