বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শুরু থেকেই সবচেয়ে বড় সঙ্গী হয়ে আছে খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধ বিতর্ক। প্রথম আসরে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের টাকা ঠিকমতো দেয়া হয়নি বলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংস্থা ফিকার প্রধান নির্বাহী টিম মে রীতিমতো সোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে শেষ হওয়া দ্বিতীয় আসর চলা অবস্থাতেই পাওনা বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছিল। এক পর্যায়ে ওয়াইজ শাহর মতো খেলোয়াড় টাকা না পেয়ে চলে যাওয়ারই হুমকি দিয়েছিলেন। তখন বোর্ড ও দল মালিকদের মধ্যে অলোচনার পর বিদেশিদের টাকার একটা ফয়সালা হয়।
কিন্তু এই টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার দুই মাস পরও দেখা যাচ্ছে দেশি খেলোয়াড়দের পাওনা নিয়ে সেই সংকট রয়েই গেছে। মাঝে-মধ্যে দুই একজন খেলোয়াড় প্রকাশ্যে এ নিয়ে মুখও খুলেছেন। এবার বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব একটি তালিকা পাঠিয়ে বলেছে যে, কোনো দলই এখনো দেশি খেলোয়াড়দের পুরো টাকা পরিশোধ করেনি। সর্বোচ্চ পঞ্চাশ শতাংশ করে টাকা পরিশোধ করেছে কিছু দল।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) এই ব্যাপারটি একরকম স্বীকার করে নিয়েছে। তারা বলেছে ক্রিকেটারের ২৫ শতাংশ অর্থ ইতিমধ্যে পরিশোধিত হয়েছে এবং বাকি ২৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। যদি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করা না হয় তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেবে বিসিবি।
গত ১৯ ফেরুয়ারি শেষ হয়েছে বিপিএল-এর দ্বিতীয় আসর। এবার দলগুলোর সঙ্গে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চুক্তি অনুযায়ী নিলাম হওয়ার পর থেকে খেলা শুরুর আগ পর্যন্ত পাওনার ২৫ শতাংশ এবং আরো ২৫ শতাংশ পরিশোধ করা হবে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার সাথে সাথে। বাকি ৫০ শতাংশ অর্থ টুর্নামেন্ট শুরুর ৮ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।
এই নিয়ম যথাযথ মেনে খেলোয়াড়দের এ পর্যন্ত পাওনা ৫০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করেছে দুরন্ত রাজশাহী ও খুলনা রয়েল বেঙ্গল। কিন্তু বাকিরা সেই ২৫ শতাংশ অর্থ দেয়ার পর আর পাওনা দেয়ার কোনো উদ্যোগ নেননি।
খোদ চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকার খেলোয়াড়রাও এই ২৫ শতাংশের বেশি টাকা পাননি। গত ২২ মার্চ ছিল বাকি ২৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধের শেষ তারিখ। কিন্তু সেই তারিখ পার হয়েছে।
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে ঢাকার আশরাফুল, মাশরাফি, রকিবুল, রংপুরের নাসির হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, জুনায়েদ সিদ্দিকী, ইমরুল কায়েস, শামসুর রহমান শুভ, চিটাগাংয়ের মাহমুদুল্ল¬াহ রিয়াদ, মার্শাল আইয়ুব, বরিশালের শফিউল ইসলাম, সিলেটের সোহাগ গাজী, মমিনুল হক, নাজমুল হোসেন ২৫ শতাংশ করে টাকা পেয়েছেন। আইকন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, নাসির হোসেন ও মাহমুদুল্ল¬াহ রিয়াদদের মধ্যে শুধু অর্থ পেয়েছেন তিন ক্রিকেটার। নাসির ও মাহমুদুল্ল¬াহ পেয়েছেন ২৫ শতাংশ অর্থ। শাহরিয়ার নাফিস, নাজিমউদ্দিন, ফরহাদ রেজা, জিয়াউর রহমান, জহুরুল ইসলাম অমি, আবুল হাসান রাজুরা ৫০ শতাংশ অর্থ পেয়েছেন। জাতীয় দলের এনামুল হক জুনিয়র, নাঈম ইসলাম, রুবেল হোসেনরা কোনো অর্থই পাননি বলে জানা গেছে।
