উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব-উপকূলে জাপান সাগরের দিকে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিচ্ছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, কোরিয়া উপদ্বীপে চলমান উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী গুরুতর প্রভাব ফেলবে।
কোরিয়া উপদ্বীপে টান টান উত্তেজনার মধ্যে উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূলে জাপান সাগরের দিকে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম কাওয়ান জিন। এ তত্পরতার উদ্দেশ্য কী তা পরিষ্কার নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। কাওয়ান-জিন বলেন, এটি পুরোদস্তুর যুদ্ধ প্রস্তুতির লক্ষণ নয় বলেই মনে করেছেন তিনি। কারণ, ক্ষেপণাস্ত্র সরানো ছাড়া সেনা কিংবা সাজ-সরঞ্জাম পাঠানোর মতো অন্য কোনো তত্পরতা দেখা যায়নি। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সরানোর কারণ জানা নেই উল্লেখ করে কাওয়ান বলেন, পরীক্ষা করা বা মহড়া চালানোও এর উদ্দেশ্য হতে পারে। পার্লামেন্টারি কমিটিতে আইনপ্রণেতাদের কাওয়ান-জিন বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা অনেক হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম নয়। তিনি ক্ষেপণাস্ত্রটির যে পাল্লা উল্লেখ করেছেন তাতে করে এটি উত্তর কোরিয়ার মুসুদান ক্ষেপণাস্ত্র বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা তিন হাজার কিলোমিটার এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম দ্বীপ এবং ওই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়া এ মুসুদান ক্ষেপণাস্ত্রই পূর্ব উপকূলে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। এদিকে, কোরিয়া উপদ্বীপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিকভাবে গুরুতর প্রভাব ফেলবে, এমনকি বিশ্বব্যাপীও এর প্রভাব পড়বে। তিনি উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু হুঁশিয়ারিমূলক আচরণে সংযত হতেও অনুরোধ জানান। মাদ্রিদে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহবান জানান বান কি মুন।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, তিনি মনে-প্রাণে আশা করছেন যে উত্তেজনা চলছে তা প্রশমনে সব পক্ষই একসাথে কাজ করবে। পরিস্থিতি শান্ত করতে আলোচনায় বসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বান বলেন, পরমাণু কর্মসূচি কোন ছেলেখেলা নয়। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে। তারা অনেক বেশি করে ফেলেছে, তাদের উত্তেজনা ছড়ানো দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের মাধ্যমে। আমি উদ্বিগ্ন যে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় হিসাব-নিকাশের কোন ভুলে যদি কোরীয় উপদ্বীপে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন কিছু ঘটে যায়, তাহলে সংকট আরো ঘনীভূত হবে এবং এর প্রভাব হবে মারাত্মক।
