স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ব্যতীত গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চা সম্ভব নয়
‘বিশ্ব কবির ‘সোনার বাংলা’, নজরুলের ‘বাংলাদেশ’, জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা’ রূপের তাহার নাইকো শেষ।’ বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোন ঘাটতি না থাকলেও আজ সমঝোতার বিরাট ঘাটতি রয়েছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ ও নির্দলীয় নির্বাচন ব্যতীত গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চা সম্ভব নয়। বর্তমান রাজনৈতিক ঘোরপ্যাঁচের কারণে এবং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বহাল না থাকায় নির্বাচন নামক প্রতিনিধি বাছাইয়ের উত্তম মাধ্যমটিতেও পুরোপুরি ভরসা পাচ্ছে না এদেশের জনসাধারণ। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে যদি পক্ষপাতহীন, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় ব্যবস্থায় নির্বাচন না হয় এবং নাগরিকের প্রকৃত ভোটের মূল্যায়ন না করা হয় তাহলে কোথায়ই বা থাকবে স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা। সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এদেশে নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন করে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আজ ১৬ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হোক।
মো. সাখাওয়াত হোসেন সাদ্দাম
বিবিএ (হিসাব বিজ্ঞান)
১ম বর্ষ আনন্দ মোহন কলেজ,
ময়মনসিংহ।
একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই
জাতির কাম্য
দেশে বর্তমানে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবিতে বিরোধী দল আন্দোলন করছে। তারা সারা দেশে জ্বালাও পোড়াও ও ধ্বংসযজ্ঞ করছে। যার ফলে দেশে একটি ঘোলাটে ও অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে সরকার এই প্রস্তাব মানতে নারাজ। সরকার চায় তাদের অধীনেই নির্বাচন দিতে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি আদালত কর্তৃক বাতিল হওয়ায় সংবিধান সংশোধন করে এই পদ্ধতি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। আর এতেই তৈরি হয়েছে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয়। আমি মনে করি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ছাড়াও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। আমরা জানি বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই নির্বাচন হয়। আমরা দেখেছি বর্তমান সরকারের অধীনে বেশ কিছু নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও জাতীয় নির্বাচন আর স্থানীয় সরকার দুটি আলাদা বিষয়। তবুও দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রী যদি একসাথে বসে আলোচনা করে একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করে এবং নির্বাচনের সকল কলাকৌশল ঠিক করে, তবে দলীয় সরকারের অধীনেও একটি সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। আর এতে আইন ও সংবিধান কোনটাই সংশোধন করতে হবে না। আর এতে দেশও সঙ্কটের হাত থেকে রেহাই পাবে।আশাকরি জাতীয় স্বার্থে দুই নেত্রী এক সাথে বসে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ছক কষবেন।
শামীম মোহাম্মাদ মাসুদ
ফাইনান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং (৩য় বর্ষ)
সরকারি তিতুমির কলেজ,
ঢাকা।
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত চাই
চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট ও অস্থিরতা নিরসনে প্রধান দুই নেত্রীসহ রাজনৈতিক সংলাপের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। সমপ্রতি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ প্রধান দুই নেত্রীর প্রতি রুল জারি করে জানতে চেয়েছে,‘ সংলাপের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না।’ এই অবস্থা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, ডিম আগে না মুরগি আগে। প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল- হক দুই নেত্রীকে একটি ভ্রমণ জাহাজে তুলে দিয়ে তাদের মাঝে বিদ্যমান প্রতিহিংসার দেয়াল নিরসনে সংলাপ প্রসঙ্গে তাগিদ দিয়ে বলেছেন, ‘দুই নেত্রীর মানসিক পরিবর্তন দরকার । দেশ ও জাতি আজ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি কথা মনে রাখা দরকার যে পাকিস্তানের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট জারদারী যদি বিরোধী দলের দাবির মুখে পাকিস্তানের সংবিধানের ২৪৪[২] উপ-অনুচ্ছেদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সন্নিবেশিত করতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পারবেন না কেন। তাই ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে সংঘাতমুখী রাজনীতি নিরসনের মাধ্যমে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন ও নতুন ধারার রাজনীতির বিকাশ ঘটাতে হবে ।
মো. ইয়ামিন খান
শিক্ষার্থী, ইংরেজী বিভাগ,
সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর ।
জনগণের মতামতকে
প্রাধান্য দিলেই সুষুম
নির্বাচন সম্ভব
বর্তমান সরকার সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। তারা নিজ সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন করতে চাচ্ছে। এদিকে প্রধান বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। এমতাবস্থায় দেশি-বিদেশি সব মহল থেকে আলোচনার কথা বলা হচ্ছে। এমনকি কেন দুই দলের মধ্যে আলোচনা হবে না-এ মর্মে রুলও জারি করেছে আদালত। তবে এত কিছুর পরেও আলোচনার কোন আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। দুই দলই নিজ নিজ পক্ষে অনড় অবস্থায় আছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে সাধারণ খেটে খাওয়া জনগন, যাদের নূন আনতে পানতা ফুরায়। খেটে খাওয়া জনগণের এখন একটাই প্রশ্ন-সরকার বা বিরোধী দল কি আমাদের কথা ভাবে? এ রকম সংকটময় মুহূর্তে জাতি সব দলের কাছেই দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করছে। সরকার যদি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার পথকে সহজ করতে চায় তবে সেটা জনগণ কখনই মেনে নেবে না। নির্বাচন ব্যবস্থার মত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন ব্যবস্থা কি হবে। একমাত্র গণভোটের মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান করে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।
তানজীন আহমেদ মিথুন
জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, ২য় বর্ষ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
