জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দল

ঝুঁকি নিয়েই ফিরলেন সাকিব-তামিম

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৯
শ্রীলঙ্কা সফরের আগে ও সফর চলা অবস্থায় বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইনজুরি ধাক্কায় পড়েছিল। মূল একাদশেরই কমপক্ষে জনা পাঁচেক খেলোয়াড় ছিলেন মাঠের বাইরে। আপাতত মনে হচ্ছে জিম্বাবুয়ে সফরের আগে সেই সংকট কিছুটা কেটে গেছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে জিম্বাবুয়ে সফরেও ইনজুরির জন্য ভোগান্তি থাকবে। অন্তত সফরের শুরুতে সব খেলোয়াড়কে পুরো ফিট পাচ্ছে না বাংলাদেশ। আর এই শঙ্কা নিয়েই গতকাল জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য বাংলাদেশের টেস্ট দল ঘোষণা করা হল। কাগজে কলমে গতকাল ঘোষিত দলে ইনজুরির বিরাট কোনো ছোবল নেই। সম্ভাব্য সেরা তারকারা সবাই আছেন দলে। শুধু মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ফেরাতে চাইলেও সেটা সম্ভব হয়নি। আর পরীক্ষার জন্য দলে নেই তরুণ এনামুল হক বিজয়। এ ছাড়া তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, শাহরিয়ার নাফীস, এনামুল হক জুনিয়র; সবাই আছেন দলে। কিন্তু সমস্যা হল দলে থাকলেও তামিম সাকিবের শতভাগ সার্ভিস প্রথম টেস্টে অন্তত পাবে না বাংলাদেশ। ইনজুরির আক্রান্ত এসব ক্রিকেটারকে নিয়ে গতকাল নিজের মত নির্বাচক কমিটিকে জানিয়েছেন ফিজিও বিভব সিং। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকান এই ফিজিও তামিম ইকবালকে পঞ্চাশ ভাগ এবং সাকিবকে আশি ভাগ ফিট ঘোষণা করেছেন। তাতেই নির্বাচকদের মনেও এসেছে স্বস্তি। কিন্তু এই স্বস্তির মধ্যে ঝামেলা হল- তামিম প্রথম টেস্ট খেলতেই পারবেন না বলেই মনে হচ্ছে। আর সাকিবকে হয়তো শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে হবে। তামিমের চোটের উন্নতির সম্বন্ধে বলতে গিয়ে প্রধান নির্বাচক আকরাম খান বলেন, ‘বিভব আমাকে মেইলে জানিয়েছেন, তামিম যেভাবে সেরে উঠছে তাতে প্রথম টেস্ট খেলার সম্ভাবনা পঞ্চাশ ভাগ। তবে দ্বিতীয় টেস্টে সে পুরোপুরি ফিট হতে পারবে। আর সাকিব প্রথম টেস্ট খেলতে পারবেন ব্যাটসম্যান হিসেবে। বোলিংয়ের জন্য সে পঞ্চাশ ভাগ ফিট। তবে দ্বিতীয় টেস্টে তিনি ব্যাটিং ও বোলিং দুটিই করতে পারবেন’। সাকিব দলে ফেরায় দলের ভেতরেই স্বস্তিবোধ তৈরি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্রোপচার করার ফলে দুই মাস তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ছিলেন। গত সপ্তাহ থেকে নেটে ব্যাটিংও প্রাকটিস করেছেন। সাকিব ও তামিমের পাশাপাশি দলে একটা বড় অংশ ইনজুরিতে রয়েছে। তা হচ্ছে পেস আক্রমণে। মাশরাফির পর নাজমুল হোসেন ও আবুল হোসেন রাজু রয়েছেন ইনজুরিতে। এই দুইজনের পরিবর্তে রুবেল হোসেন, শাহাদাত হোসেন ও রবিউল ইসলামের পার্টনার হিসেবে দলে নেয়া হয়েছে সাজিদুল ইসলামকে। পাঁচ বছর পর দলে ফিরলেন এই পেসার। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়েলিংটনে তিনি জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন। ক্যারিয়ারে মাত্র দুটি টেস্ট রয়েছে তার, নিয়েছেন তিন উইকেট। পাঁচ বছর পর এই পেসারের দলে ফেরা প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘পেসাররা অনেকে ইনজুরিতে রয়েছেন। তাছাড়া জাতীয় লিগে তিনি নিয়মিত পারফর্ম করেছেন। বিপিএলেও ভালো করেছে। জাতীয় দল যখন শ্রীলংকায় ছিল, তখন একাডেমিতে রিচার্ডস ম্যাকেন্সির অধীনে সে অনুশীলন করেছে। তাই বলবো, তিনি ভালোই করছেন’। গত কিছুদিনের অনুশীলনে ভালো করার কারণে যদি সাজিদুলকে নেয়া হয়, তাহলে শাহাদাতকে নেয়া হয়েছে কিসের ভিত্তিতে। শ্রীলংকা সফরে এই পেসার বরাবরের মত ব্যর্থ ছিলেন। তবুও নির্বাচকদের আস্থা যেন তার উপর থেকে সরতেই চাইছে না। প্রধান নির্বাচক আকরাম খানও শাহাদাতকে দলে নেয়ার ব্যাখ্যা দিলেন, ‘এশিয়া কাপের পর শাহাদাতকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির জন্য সেভাবে বিবেচনা করা হয়নি। শ্রীলংকাতে ইনজুরির কারণেই তাকে দলে নেয়া হয়। তাছাড়া বাংলাদেশ দলের সে একজন সিনিয়র খেলোয়াড়। অনেকদিন ধরে সে জাতীয় দলে খেলছে। তাকে সুযোগ দেয়া উচিত। যদিও টেস্টে সে মোটামুটি পারফর্ম করেছে। তবে এই যুগে তিন ভার্সনেই ভালো খেলা জরুরি’। ইনজুরি কাটিয়ে সাকিব-তামিমের পাশাপাশি দলে ফিরেছেন শাহরিয়ার নাফীস ও এনামুল হক জুনিয়র। ব্লেড দিয়ে ব্যাট খোঁচাতে গিয়ে হাতের তালু ফেটে গিয়ে মাঠের বাইরে ছিলেন নাফীস। এনামুল হ্যামস্ট্রং ইনজুরিতে পড়েছিলেন। বরাবরের মত দল থেকে বাদ পড়েছেন ওয়ানডেতে দুইশ’ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া আব্দুর রাজ্জাক। জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ দলের টেস্ট দল- মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, জহুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আশরাফুল, সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোমিনুল হক, নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, রুবেল হোসেন, শাহাদাত হোসেন রাজিব, শাহরিয়ার নাফীস, এনামুল হক জুনিয়র, রবিউল ইসলাম ও সাজিদুল ইসলাম। বাংলাদেশ দলের জিম্বাবুয়ে সফর: তারিখ ম্যাচ ভেন্যু ১৭-২১ এপ্রিল প্রথম টেস্ট হারারে ২৫-২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় টেস্ট হারারে ৩ মে প্রথম ওয়ানডে বুলাওয়ে ৫ মে দ্বিতীয় ওয়ানডে বুলাওয়ে ৮ মে তৃতীয় ওয়ানডে বুলাওয়ে ১১ মে প্রথম টি-টোয়েন্টি বুলাওয়ে ১২ মে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বুলাওয়ে