স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে তা দেশের প্রতিটি নাগরিকের বুঝতে খুব কষ্টসাধ্য হচ্ছে না। আমাদের একবার তাকিয়ে দেখা কি উচিত নয়, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে Democracy বলতে কি বুঝানো হয়েছে তা কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পারি। শুধু একবার, দু’বার, তিনবারের মাথায় অবশ্যই মনে পড়ে যাবে যে, আমরা যে ধারার রাজনীতি করছি, সে ধারা আজ আর চলছে না। সে ধারা অবশ্যই বদলাতে হবে। আজ যারা সরকারে আছেন মুখে মুখে বিগত চার বছর যাবত বলে বেড়াচ্ছেন দেশ এখন Digital System এ চলে গেছে। খুবই ভালো কথা, আনন্দের কথা। যদি তাই হয় তবে কেন এত হানাহানি, কানাকানি, একে অপরের প্রতি এত বিদ্বেষ নিয়ে কখনও Digital দেশ গড়া কি যায়?। সরকারি দল এবং বিরোধী দল উভয়কেই ভাবতে হবে, দেখতে হবে, বুঝতে হবে শুধু ঐ সেই মূল মন্ত্রের কথা। আর তা হলো সেই উদার গণতন্ত্র। সকল ক্ষমতার উত্স হলো রাষ্ট্রের জনতা। সর্বক্ষমতার চাবিকাঠি যদি জনগণ হয়ে থাকে, আর আপনারা সকল দলের নেতাকর্মী বক্তৃতা বিবৃতিতে বলে থাকেন দেশের সর্বক্ষমতার মালিক দেশের জনতা। তাহলে দেশের জনগণ আজ শঙ্কিত কেন? কেন তারা শান্তিতে বাস করতে পারছে না।
দেশের মানুষ বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো হতে এমন অরাজকতা আশা করে নাই। আপনারা যদি মনে করেন এ দেশে কোন মানুষ নাই, শুধু আছেন আপনারা, তাহলে অবশ্যই আপনারা ভুলের রাজ্যে রাজনীতি করছেন।
দেশ আজ যেসব নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে তা গণতান্ত্রিক দেশে কেউ আশা করে না। আজকের এই চলমান সহিংসতার জন্য হত্যা, দুর্নীতি, শেয়ার মার্কেট পতন, পদ্মা সেতু, হলমার্ক মার্কা গ্রুপের লুটতরাজ, ডেসটেনির অপকর্ম, বিসমিল্লা গ্রুপের প্রতারণা, ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যার বিচার, বিশ্বজিত্ হত্যা এ সবকিছু যেন ভুলেই যাচ্ছে মানুষ।
আমরা যারা আজ দীর্ঘ চার দশক এ দেশের রাজনীতি দেখে আসছি তার মধ্যে বেশিরভাগ সময়টাই চলছে প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি। আমরা দেখেছি যে যখন সরকার গঠন করে ক্ষমতায় আসে তার কিছু সময় না যেতেই শুরু হয় ব্যর্থতার কিচ্ছা-কাহিনী, সকল ব্যর্থতা সবই যেন বিরোধী দলের উপর চাপাতে চায়।
আমাদের দেশের এ ধরনের অগণতান্ত্রিক মনমানসিকতা উভয় দলেরই পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারি দল বিরোধী দলকে দোষারোপ করবে আর বিরোধী দল সরকারি দলকে দোষারোপ করবে এই তরিকা উভয়কে বদলাতে হবে। একটু তাকালেই বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক চর্চায় দেখা যায় সরকারি দল সর্বদাই কাজ করবে দেশ ও জাতির উন্নয়নে আর পাশাপাশি বিরোধী দল তীক্ষ দৃষ্টি রাখবে ও সঠিকভাবে সর্বসেক্টরে সরকারের দায়িত্ব- কর্তব্য উন্নয়ন কাজ যথাসময়ে আদায় করে নিবে।
বর্তমান এই অচলাবস্থাকে ত্যাগ করে সরকারি-বিরোধী সকল দলেরই হিংসাত্মক, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি পরিহার করে, আসুন আমরা দেশ ও জাতির উন্নয়ন এবং কল্যাণে প্রকৃত গণতন্ত্রকে বাস্তবায়ন করি। সত্যই আজ দেশে গণতন্ত্রের চর্চা খুবই প্রয়োজন। মুখে শুধু গণতন্ত্র বাস্তবে সকল দলের কর্মকাণ্ডেই গণতন্ত্রের অনেক কমতি রয়েছে। ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে দেশ আমরা পেয়েছিলাম, যে আশা নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম সে বাংলাদেশ কেন পাচ্ছি না, তার জবাব কে দেবে।
লেখক:বীর মুক্তিযোদ্ধা
