টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৪

আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৭
শুরু হলো পঞ্চম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর এক হোটেলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ বিশ্বকাপের লোগো উন্মোচন করার পাশাপাশি জানিয়ে দেয়া হয় দিনক্ষণ। লোগো উন্মোচনের প্রাক্কালে গতকাল দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানায় আগামী বছর ১৬ মার্চ বিশ্বকাপের উদ্বোধন হবে। ৬ এপ্রিল শেষ হবে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণের বিশ্বকাপটি। প্রথমবারের মত এবারের বিশ্বকাপে খেলবে ১৬টি পুরুষ দল এবং ৮টি মহিলা দল। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এককভাবে এই বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায়। কিন্তু এক বছরের কম সময়ের মধ্যে আয়োজকরা কতটা প্রস্তুত এ নিয়ে শংকা থাকলেও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আশ্বস্ত করেছেন, ভেন্যুর প্রস্তুতি নিয়ে বিদ্যমান জটিলতা সমাধানের জন্য তাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পুরুষ বিভাগের খেলাগুলো হবে- মিরপুর স্টেডিয়াম, সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে। একই সময় কক্সবাজারে হবে মেয়েদের বিভাগের খেলাগুলো। কিন্তু ভেন্যুটি তৈরির কাজ এখনো শুরুই হয়নি। বিসিবি সভাপতি দাবি করেছেন তারা যদি ছয়মাস সময় পান তাহলেও বিশ্বকাপের সবগুলো ভেন্যু পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী আমাদের হাতে যা সময় রয়েছে তার মধ্যে সব কাজ শেষ করা সম্ভব। সিলেট স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট, চারটি ড্রেসিংরুম, মিডিয়া সেন্টার করতে হবে। এগুলো দুইমাসের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব। এখন সমস্যা হচ্ছে, স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা। ধারণক্ষমতা বাড়াতে হলে আমাদের কাজ শুরু করতে হবে। আর কক্সবাজারে জমি প্রসংগে আমরা কাল একটা চিঠি পেতে পারি। সে চিঠিতে হয়তো উল্লেখ্য থাকবে, বিসিবির নামেই জমি বরাদ্দ হতে যাচ্ছে। কক্সবাজার স্টেডিয়ামে এখন পিচের কাজ শুরু করতে হবে’। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্বকাপের সময় থাকবে না বলেও আশাবাদী বিসিবি সভাপতি। তাই তিনি বলেন, ‘এ বছর নির্বাচনের বছর। যেটা আগামী বছর থাকবে না। আমি আশা করছি, আগামী বছর দেশের এ পরিস্থিতি থাকবে না। তাছাড়া কিছুদিন আগে বিপিএল অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঢাকা ও চট্টগ্রামে। সে সময় বিপিএলের খেলার জন্য হরতাল প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ধরনের নজির আগে কখনো হয়নি। তাই আমি আশা করছি, সে সময়টা কেউ হরতাল দিবে না’। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিসিবি সভাপতি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। একই বিষয়ে আশাবাদী বিসিবির সাবেক সভাপতি ও আইসিসির সহ-সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল এমপি। আইসিসির সহ-সভাপতি হিসেবে নন, বিসিবির সাবেক সভাপতি হিসেবে তিনি চাইছেন, ২০১১ বিশ্বকাপের তুলনায় আসন্ন প্রতিযোগিতাটিকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে। কাল এ প্রসংগে বলতে গিয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা গত বিশ্বকাপের মতই এবারো সবার কাছ থেকে সমর্থন পাব। আর আইসিসির কাছ থেকেও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবে বিসিবি’। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশ দলের উপর ভালো খেলার বাড়তি চাপও থাকবে। জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেয়া মুশফিকুর রহিমও বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিচ্ছেন। কাল সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বললেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমরা ধারাবাহিক নই। আর সেই টুর্নামেন্টটি আমাদের দেশে হতে যাচ্ছে। তবে আমাদের হাতে যে সময় রয়েছে, তার মধ্যে ধারাবাহিক হওয়ার চেষ্টা করবো। টি-টোয়েন্টি এমন এক ধরনের ক্রিকেট, এখানে যে কেউ জিততে পারে। আমাদের হাতে প্রচুর সময় রয়েছে। মাঠ এবং মাঠের বাইরে যারা আমাদের সাথে রয়েছেন তাদের জন্য আমরা ভালো খেলবো’। ছেলেদের পাশাপাশি একই সময় শুরু হবে মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশের মেয়েরাও খেলার সুযোগ পাবে। সেটা হবে প্রথমবারের মতো তাদের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ঐতিহাসিক ঘটনা। বাংলাদেশ মহিলা দল টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বর্তমানে ভারতে থাকায় তাদের হয়ে কাল সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে আসেন সাবেক খেলোয়াড় সাথিরা জাকির জেসি। যদিও তার উপস্থিতি কিছুটা হলেও সমালোচনার জন্ম দেয়। কেননা গতকাল ও আজ ভারতে কোন খেলা ছিল না। তাই এই সময়ের মধ্যে একদিনের জন্য জাতীয় দলের অধিনায়ক সালমা খাতুনকে ঢাকায় আনা যেত কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জেসি অবশ্য মঞ্চে এসে জানালেন বিশ্বকাপকে নিয়ে জাতীয় দলের পরিকল্পনার কথা, ‘আমরা মাত্র ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছি। অভিজ্ঞতার কারণে আমরা ম্যাচ হেরে যাচ্ছি। তবুও আমরা শ্রীলংকা ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছি। এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে, তারপরও দর্শকদের সমর্থন পেলে আমরা ভালো খেলার ব্যাপারে আশাবাদী’। দুপুরে মিরপুরে এই সংবাদ সম্মেলনের পর সন্ধ্যায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের লোগো উন্মোচিত হয়।