আবাহনী মোহামেডান মানেই উত্তেজনার লড়াই, মর্যাদার ম্যাচ। শক্তি পরীক্ষার লড়াই। কিন্তু কাগজে-কলমে বর্তমানে এই দুই দলের শক্তি অন্যদের তুলনায় খানিকটা কম। তারপরও দেশের দর্শকধন্য দলদুটির ম্যাচের দিকে ফুটবলামোদীদের আলাদা একটা দৃষ্টি থাকে। আজ রবিবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে উভয়ের মুখোমুখিতায়ও তা অব্যাহত থাকবে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হবে ম্যাচটি।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ও শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়া মোহামেডানের মধ্যকার মাঠের লড়াইয়ে এ দফায় উভয়ের লক্ষ্য ভিন্ন। কারণ আবাহনীর কাছে এটি হলো শিরোপা ধরে রাখার লড়াই। অপরদিকে মোহামেডানের জন্য এটি শুধুই মর্যাদার। জিতলে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান ভালো থাকবে ১৩ খেলায় ২০ পয়েন্ট পেয়ে বর্তমানে চতুর্থ স্থানে থাকা মোহামেডানের।
শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে আবাহনীকে এ ম্যাচে জিততেই হবে। ১৩ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট পাওয়া আবাহনীকে শেষ তিন খেলায় মুখোমুখি হতে হবে মোহামেডান, বিজেএমসি ও মুক্তিযোদ্ধার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে। এছাড়াও নজর রাখতে হবে শেখ রাসেল (১৩ খেলা ২৯) ও শেখ জামালের (১২ খেলায় ২৫ পয়েন্ট) ম্যাচের দিকে। ১৫ এপ্রিল শেখ জামাল ও শেখ রাসেলের খেলাটির পর পরিষ্কার হয়ে যাবে লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের চিত্র।
অবশ্য অংকের এসব হিসাবে না গিয়ে আবাহনী তাদের নিজেদের ম্যাচগুলো জিতে রাখতে চাইছে। তাদের কাছে তিনটি ম্যাচই ফাইনালের মতো। আবাহনীর ইরানী কোচ আরদেশির প্থরণামাথের কাছে এটি মর্যাদার লড়াইয়ের চেয়েও নিজেদের অবস্থান অটুট রাখার ম্যাচ। তিনি এখনও আশাবাদী, বলছেন-‘কেউ এখনও শিরোপা নিয়ে যায়নি। শেখ রাসেলের সামনে আছে।’
এই ইরানী কোচের কথা ঠিক। কিন্তু তার দল নিয়েও তো তিনি প্রস্তুত না। কারণ ইনজুরি আছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ঘানাইয়ান সামাদ ইউসুফ, সুজন, প্রাণতোষরা ইনজুরিতে। এমন অবস্থায় আবাহনী কতটা পেরে উঠবে সেই আশংকা থেকেই যাচ্ছে। পেশাদার ফুটবল লিগের প্রথম পর্বে আবাহনী শাখাওয়াত হোসেন রনির গোলে মোহামেডানের বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল। এবার তাই প্রতিশোধ নেয়ার পালা মোহামেডানের। কিন্তু সেটা কি পারবে মোহামেডান? এমন প্রশ্নের জবাবে দলের কোচ সাইফুল বারী টিটু বলেন, ‘আমাদের ম্যাচ জিততে হলে সামর্থ্য যা আছে সেটা উজাড় করে দিতে হবে। প্রতিপক্ষ ব্যালান্সড টিম। আমার চেষ্টা থাকবে তাদের বিপক্ষে সমানভাবে দলটাকে খেলানো।’
টিটুর জন্য ভালো খবর হচ্ছে আবাহনীর মতো তার দলে ইনজুরির সমস্যাটা নেই। তারপরও জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ মনে করেন মোহামেডান আবাহনী ম্যাচে সব খেলোয়াড়রাই উজ্জীবিত থাকে। পেশাদার ফুটবল লিগে এখন পর্যন্ত ১১ বার মুখোমুৃখি হয়ে আবাহনী চারবার জিতেছে, হেরেছে দুটিতে এবং ড্র করেছে পাঁচ খেলায়। মোহামেডানের জয় কেবল দুইবার।
