শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৩
বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়া শক্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করা যাবে না বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে গেছে। তেমনি দেশের মানুষ দুটি ধারায় বিভক্ত হচ্ছে। রাজনীতিতে পাল্টাপাল্টি আলোচনা, সামবেশ চলছে। সরকার এবং বিরোধী দল ক্ষমতা নামক চেয়ারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রধান শক্তি (বর্তমান প্রধান বিরোধী দল হিসাবে ভূমিকা রাখছে) জামায়াত ইসলামী তাদের নেতাদের রক্ষার জন্য মাঠে নেমেছে। তাদের কাছে নির্বাচন বড় বিষয় নয়, নেতাদের রক্ষাই যেন বড় বিষয়। পুলিশ বাহিনী সকল মানবাধিকার লুণ্ঠিত করে পাখির মতো গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে। টেলিভিশনের পর্দায় এমন দৃশ্য যেন বাংলা সিনেমাকে হার মানায়। গণতান্ত্রিক দেশে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন সকলের প্রত্যাশা। কিন্তু বর্তমানে দেশে যেভাবে সহিংসতা এবং বড় দুই জোটের অবস্থান তাতে মনে হচ্ছে দেশ আরো কঠিন সময় পার করবে। নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এবং সরকারি দল তা না মানার দাবিতে অটল। ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়া শক্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করা যাবে না। মো. নাজমুল হক সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ০০০০০০০০০০০ আসুন সহনশীল হই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি জ্বলন্ত ইস্যু। এদেশের রাজনীতি দুটি বড় দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে ঘিরে আবর্তিত। এ দলগুলোর যেকেনো একটিকে বাদ দিয়ে জাতীয় নির্বাচন করা অসম্ভব। আর করলেও তা গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না আর আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে না। আগামী সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক নাকি দলীয় সরকারের অধীনে হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে বহু সমস্যা, অব্যাহত রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আলাপ-আলোচনা, পর্যালোচনা ও বাকবিতণ্ডা। এমতাবস্থায় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়ে জনমনে বিভিন্ন শঙ্কা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্ষমতাসীনদের সাথে বিরোধী দলের অহি-নকুল সম্পর্ক। আজ পর্যন্ত জাতীয় কোনো বড় ইস্যুতে প্রধান প্রধান দলগুলো এক হয়ে সমস্যা সমাধান করতে পারেনি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের গ্রহণ যোগ্যতা নিয়ে অতীতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে; বর্তমানে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯৬ সালে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। সংবিধান যেহেতু জনগণের কল্যাণার্থে প্রণীত; সেহেতু একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা এ ধরনের সরকার ব্যবস্থার গুরুত্ব রয়েছে কিনা তা পর্যালোচনার প্রয়োজন। সরকার ও বিরোধী দলের উচিত সহনশীল হয়ে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। লালন চন্দ্র সিংহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ০০০০০০০০০০০০০০ আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে কি হবে না এটার চাইতে বড় বিষয় বর্তমান ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের আয়োজন করার সুযোগ পাবে কিনা সেটাই চিন্তার বিষয়। বর্তমান বিরোধী দল যেভাবে ক্ষমতাসীন সরকারি দলের পিছনে উঠে পড়ে লেগেছে তাতে মনে হয় যে কোন সময় যে কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা দেশের স্বার্থে নিজেদের সমস্যার সমাধান যদি না করেন তাহলে কেউই তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে বিরোধী দল যেভাবে ইস্যু তৈরি করেছেন তাতে মনে হয় না যে দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। আর এদেশ স্বাধীন হয়েছে সকল ধর্মের লোকজনের সহযোগিতায়। এখানে একজন হিন্দুর যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি অধিকার রয়েছে একজন খ্রিষ্টানের, তেমনি অধিকার রয়েছে একজন বৌদ্ধ ধর্মের সদস্যের। সকল ধর্মের শান্তিপূর্ণ বসবাসের কথা বলাতে আমাদের লজ্জা পাওয়া উচিত। কয়েকদিন পূর্বেও হিন্দু ভাইদের উপর আক্রমণ হয়েছে। কই তাদেরকে কি প্রতিহত করতে পেরেছেন? অন্য ধর্মের নিরাপত্তা প্রদান করার কথা শুধু মুখেই বলেছেন। টেলিভিশন-এর সুইচ অন করলেই শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির গল্প শুনা যায়। সকল ভুল-ভ্রান্তি ধুয়ে মুছে এখন কেন আমরা এই দেশকে ভালোবাসার স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দল একমত ও এক পথের পথিক হতে পারি না? আমরা তো এমন দেশ চাই, যেখানে একটি কুকুর মরলেও সেখানে সরকার প্রধানসহ সকল রাজনৈতিক দলের চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার কথা। আর এখন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, শুধু সরকারকেই এর জন্য মাথা ঘামাতে হয়। সেই সুযোগে বিরোধী শক্তি সরকারের গলা টিপে ধরে, এর জন্য রাজপথ ব্যবহার করে এবং জনগণের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে। মোহাম্মদ এহিয়া মিরপুর ল’ কলেজ, মিরপুর, ঢাকা ০০০০০০০০০০০০০০০০ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হতে হলে প্রধান দুই দলের সমঝোতা ছাড়া কোন উপায় নেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সবার কাম্য, কোন দেশ প্রেমিক মানুষ চায় না যে, দেশ ধ্বংসের দিকে যাক। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে দেশে কোন নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে না। তা হতে হবে প্রধান দুই দলের সমঝোতার উপর নির্ভর করে। ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকার চাচ্ছে নিজেদের অধীনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। অপর দিকে বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোট চাচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও সুষুম সংলাপে এক টেবিলে যদি প্রধান দুই দল না বসে তাহলে এই দেশ আর গণতন্ত্রের দেশ হলো না। অন্যথায় একদল চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। আরেক দল চায় তত্ত্বাবধায়ক এর অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এতে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাহলে সেই ১/১১ এর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রধান দুই দলকে এখনই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। তা-না হলে দেশ দিন দিন ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। দেশকে হুমকির মুখে না নিয়ে উভয় দল সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংলাপে বসুন। মো. নজরুল ইসলাম টেকনোলজী, ইলেকট্রিক্যাল বি, পর্ব: ৩য়, ১ম সিফট, বরিশাল আইডিয়াল পলিটেকনিক, ইন্সটিটিউট

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন