বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ড

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৩
হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে শুক্রবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কয়েকশত কোটি টাকার পণ্য পুড়িয়া ছাই হইয়া গিয়াছে। ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুনে নিভাইতে সক্ষম হয়। ইহাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটে নাই। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণও জানা যায় নাই। অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিমানবন্দরে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট ওঠানামার ক্ষেত্রে তেমন কোনো সমস্যা হয় নাই। এইদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হইয়াছে—একটি সিভিল এভিয়েশন ও অপরটি ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ হইতে। দুই কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হইয়াছে। বিদেশ হইতে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসা পার্সেল ও ডকুমেন্ট কার্গো ভিলেজের ঐ গুদামে রাখা হয়। এই আমদানি শাখায় ৪৮টি কুরিয়ার সার্ভিসের মালামাল আসে। এইসব পণ্যের মধ্যে রহিয়াছে কাপড়, সুতা, চিকিত্সা সরঞ্জাম, ওষুধ তৈরির কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল। আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কিছু জানা না গেলেও একটি সূত্র জানইয়াছে, কার্গো ভিলেজের এই একতলা গুদামে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় দোতলা নির্মাণের নিমিত্ত এক পাশে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলিতেছিল। সেইখান হইতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হইতে পারে। তবে বর্তমান সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নাশকতার আশঙ্কাকেও উড়াইয়া দেওয়া যায় না। আজ রেললাইন উপড়াইয়া ফেলা কিংবা বিদ্যুত্ স্টেশনে আগুন লাগাইয়া দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা যেমন অহরহ ঘটিতেছে, তদন্ত করিবার ক্ষেত্রে এই আশঙ্কাকেও আমলে আনিতে হইবে। বিমানবন্দর হইল আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি কেন্দ্র, কার্গো ভিলেজও আন্তর্জাতিক ডাক ও পার্সেল জমা হইবার ক্ষেত্র। এই ঘটনা বা দুর্ঘটনায় কেবল জরুরি ডকুমেন্ট ও কাঁচামালই নষ্ট হইবে না, কুরিয়ার সার্ভিসগুলি এই ক্ষতিপূরণের বিরাট দায়ের মুখোমুখিই শুধু হইবে না, আর্থিক ঝামেলার পাশাপাশি বৈদেশিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সঙ্কট তৈরি করিবে। বিমানবন্দর হইল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা, এইরূপ স্থানে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটিলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আস্থারও সঙ্কট তৈরি হয়। যদি ওয়েল্ডিং-এর কাজ করিতে গিয়া এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তবে দেখিতে হইবে, যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি এক্ষেত্রে ছিল কিনা। আবার অগ্নিনির্বাপণের সঠিক ব্যবস্থাপনা ছিল কিনা তাহাও পরখ করিয়া দেখিতে হইবে। আর নাশকতার ঘটনা হইলে তো বড়ই চিন্তার বিষয়। এইরকম একটি সুরক্ষিত এলাকায় এই ধরনের ঘটনা কিভাবে ঘটিল? বিমানবন্দর এমন একটি এলাকা যাহার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা থাকিতে হইবে এবং নিরাপত্তায় ঘাটতি থাকিলে তাহার দ্রুত উন্নয়ন ঘটাইতে হইবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন