যেতে যেতে পথে পথে

সংসারে শুধরোবার টেকনিক

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৫
: আপনিতো ভালো মানুষ নন। : মানলাম। সংসারে সবচেয়ে কঠিন কাজ মানুষ হওয়া। ভালো মানুষ হওয়ার দাবি অনেক বড় দাবি। : আপনি একটা ‘গলদ মানুষ’। : জীবনে অনেকগুলো কাজ যেহেতু ভুল করেছি, আপনার এই পর্যবেক্ষণটিও আমি মানলাম। : আপনি একটা ‘ইডিয়ট’ টাইপের মানুষ। কোন কাজ কোথায় করতে হবে আপনি জানেন না। কোথায় এগুতে হবে, কোথায় থামতে হবে-তাও আমার মনে হয়, আপনার জানা নেই। আপনি অমিতব্যয়ী ও অসংযমী। হাতে যদি দশটা কাজ থাকে, কোনটি আগে করতে হবে তা বোঝার ক্ষমতা ও কাজকর্মে প্রাধিকার নির্ধারণের দক্ষতা থেকে আপনি বঞ্চিত। :আপনার যাবতীয় পর্যবেক্ষণের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। কোথায় আমার দুর্বলতা, খর্বতা ও সীমাবদ্ধতা, আমি জানি। :তারপরও আপনি মানুষকে শুদ্ধতার পথে যাওয়ার কথা বলেন কোন সাহসে? আপনার সাহস দেখে আমি অবাক হই, আমি বড় ক্রুদ্ধ হয়ে যাই। : অত ক্রুদ্ধ হবেন না। সমস্যা তৈরি হবে। আমার পরের কথাগুলো আপনি তাহলে শুনতেও পারবেন না, বুঝতেও পারবেন না। :আপনার পরের কথাগুলো কি খুব মূল্যবান? : ইয়েস, মূল্যবান। খুব মূল্যবান। :বলুন। বুঝিয়ে বলুন। :আমার এই অর্থহীন, অপূর্ণ, অকিঞ্চিত্কর, অনুল্লেখ্য ও অপ্রয়োজনীয় রকম দীর্ঘ জীবনে আমি ক্রিকেট নিয়ে প্রচুর লিখতাম। এই কাজটি করতে গিয়ে আমি কাঁড়ি-কাঁড়ি সমালোচনা কুড়িয়েছি। কেউ বলেছে, এখনও বলে- ও ক্রিকেট নিয়ে লেখে কেন! ওর লেখায়তো ক্রিকেট থাকে না! কেউ বলেছে- কোনদিনতো ওকে ক্রিকেট খেলতে দেখিনি, না ছুঁয়ে ব্যাট, না ছুঁড়ে বল, হয় কী করে সে ক্রিকেট লেখক! অথবা ক্রিকেটসমালোচক সে হয় কোন দু:সাহসে। তাদের যে যুক্তি দেখাতাম সেটি আজ আপনাকেও দেখাবো। যুক্তিটা হচ্ছে, চলচ্চিত্রের ক্রিটিক হওয়ার জন্য ফিলেমর অ্যাকটর কিংবা অ্যাকট্রেস হতে হয় না, গানের সমালোচনার জন্য কণ্ঠশিল্পী হতে হয় না, হতে হয় না নাচের সমালোচনার জন্য নৃত্যশিল্পী। আমার এই ব্যাখ্যার বচনবাচন কেউ মেনেছে কেউ মানেনি। এখন, যখন আমি আমার ছাত্রদের পুত্রদের ভ্রাতাদের ভগ্নিদের কন্যাদের ও অনুবর্তী সহকর্মীদের মানুষ হওয়ার টেকনিকের কথা বলি, আমাকে কখনও কখনও কারও কারও প্রশ্ন শুনতে হয়- একজন খারাপ মানুষ হয়ে একজন ক্ষুদ্র ও খর্ব মানুষ হয়ে একজন ব্যর্থ ও অতি অনুল্লেখ্য মানুষ হয়ে এ কাজ করার দুঃসাহস আপনি করেন কী করে?!! : মহোদয়, এমন যে করি আমি তারও একটা ফর্মুলা আছে। সাফল্য সফলতার শিক্ষা নিতে হয় ব্যর্থজনের দুঃখ-দুরবস্থা দেখে, আদব শিখতে হয় বেয়াদপকে দেখে; মানবতার সুবাস চিনে নিতে হয় অমানুষকে দেখে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে প্রাণিত ও প্রণোদিত হতে হয় তাদের সাম্প্রদায়িক ও ছদ্মসাম্প্রদায়িক পালকপোষক-সমর্থকদের দেখে। লেখক :শ্রমজীবী কথাসাহিত্যিক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন