ফাইনালে পারল না বাংলাদেশ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৫
বাংলাদেশের ছেলেদের সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৬ এশিয়া যুব হকিতে রানার্স আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। গতকাল রবিবার ফাইনালে শক্তিশালী পাকিস্তানের কাছে ৩-৫ গোলে হেরে যায় দলটি। হারলেও ফাইনালে ওঠার সুবাদে বাংলাদেশ আগেই চীনে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য যুব অলিম্পিকের হকিতে খেলা নিশ্চিত করে রাখে। হকিতে পাকিস্তান শক্তিশালী দল। সিনিয়রদের মতো তাদের অনুগামীরাও শক্তিশালী হবে, এটাই স্বাভাবিক। তারপরও বিকেএসপির তরুণদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশ দল লড়াই করেছে। প্রথমার্ধেই ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ দুই গোল করে সমতা আনলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হার মানতে হয় তাদের। ফাইনালে আশরাফুল, রুম্ম এবং ইমন গোল করেন। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন আশরাফুল। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা এমনিতেই ক্লান্ত ছিলেন। কারণ টানা চার দিনে বাংলাদেশকে খেলতে হয়েছে ছয় ম্যাচ। এমনকি এক দিনে দুই ম্যাচও খেলতে হয়েছে তাদের। স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্তি গ্রাস করে খেলোয়াড়দের। তাছাড়া এই সব খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও খুব একটা নেই। তারপরও স্বাগতিক সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে বিধ্বস্ত করে দিয়ে নিজেদের প্রতিভার জানান দেয়। সিঙ্গাপুরে এই সব তরুণ খেলোয়াড়কে উত্সাহ দিয়েছেন সেখানকার প্রবাসী বাঙ্গালীরা। মাঠে গিয়ে প্রতি ম্যাচে প্রেরণা দিয়েছেন কোচ কাওসার আলীর দলকে। টানা পাঁচ ম্যাচ খেলে ক্লান্ত বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা পাকিস্তানকে খুব সহজেই জিততে দেয়নি। পাকিস্তানকে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে রায়হান, সাগর, ইমন, নাঈম, আশরাফুল, রাকিন, সাজিবুর, রোমান এবং বাবুদের বিরুদ্ধে। অভিনন্দন পেতেই পারে বিকেএসপির এই ছেলেরা। ফাইনালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রত্যেক দলকে বিধ্বস্ত করেছে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ৭-২ গোলে সিঙ্গপুরকে, ৬-২ গোলে মালয়েশিয়াকে, কাজাখিস্তানকে ২৬-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে ১১-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। একই দিন সন্ধ্যায় সেমিফাইনালে ৮-৫ গোলে জাপানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। গতকাল ফাইনালে পাকিস্তানকে মোকাবিলা করে হার মানে বিকেএসপির ছেলেরা। ২০০০ সালে এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে ফাইনালে উঠে ভারতের কাছে ৫-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ।