অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির উপযোগী আজকের ভাব-সমপ্রসারণ করেছেন
আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
দেশপ্রেম মানুষের স্বভাবজাত গুণ। দেশপ্রেম মানবজীবনের মহান বৈশিষ্ট্য। যে ব্যক্তি স্বদেশ ও স্বজাতিকে অবজ্ঞা করে সে পশুর সমান। তার মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে না, সে প্রকৃত মানুষের মর্যাদা লাভ করে না।
দেশপ্রেম প্রতিটি মানুষের একান্ত অনুভূতি। প্রত্যেক মনীষীই জন্মভূমিকে সর্বাগ্রে ভালোবাসার স্থান দিয়েছেন। কোন এক দেশপ্রেমিক বলেছেন, “মা আর মাতৃভূমি স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।” পবিত্র ইসলাম ধর্মে ঘোষিত হয়েছে, “দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ।” দেশ সেবায় নিজেকে উত্সর্গ করার মধ্যেই মানবজীবনের সার্থকতা নিহিত। যে দেশে মানুষ জন্মগ্রহণ করে, সে দেশের কল্যাণ ছাড়া যে অকল্যাণে কাজ করে সে সত্যিকার মানুষ হতে পারে না। কারণ জন্মের পর থেকেই প্রতিটি মানুষের মাঝে নিজের অজান্তেই দেশপ্রেম গড়ে ওঠে। দেশের জন্যই মানুষ অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেয়। আর এ স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কত লোক প্রাণ দিয়েছেন তার কোন হিসেব নেই। দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে কেউ রিক্ত হন না বরং তারা ধন্য, অমর হয়ে থাকেন। যেমন স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রাণ দানকারী বীর শহিদেরা আজো স্মরণীয় হয়ে আছেন। কবি সমুদ্রগুপ্ত বলেছেন- ‘‘ স্বদেশপ্রেম থেকে বিশ্বপ্রেম, যে নিজের দেশকে ভালবাসে, সে বিশ্বপ্রেমিক, মানব-প্রেমিক মানবতাবাদী।” তাই স্বদেশের উপকারে সকলকে আত্মনিয়োগ করা উচিত। স্বদেশপ্রেমে যার মন নেই সে ঘৃণ্য, পশুর সমতুল্য। মানুষ ধনবান হতে পারে, রূপবান হতে পারে, বিশাল ক্ষমতার অধিকারী হতে পারে, কিন্তু তার মধ্যে যদি দেশপ্রেম না থাকে, তবে সে মানুষ নামের আযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। যারা আত্মকেন্দ্রিক, কেবল নিজের স্বার্থচিন্তায় বিভোর থাকে, তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। যাঁরা স্বদেশের সম্মান, স্বাধীনতা, কৃষ্টি, আচার, সভ্যতা ও ভাষার জন্য জীবন দিতে পারেন তাঁরাই প্রকৃত মানুষ। তাই একটি মহত্ গুণ হিসেবে প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই দেশপ্রেম থাকা উচিত। স্বদেশপ্রেম অকৃপণ, উদার এবং খাঁটি। প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের কাছে তার জন্মভূমি, তার দেশ সবার সেরা। স্বদেশপ্রেমের এই সর্বগ্রাসী দিকটি এডউইন আর্নল্ডের ভাষায় চমত্কারভাবে ফুটে ওঠে: “জীবনকে ভালবাসি সত্য, কিন্তু দেশের চেয়ে বেশি নয়।” মূলত সত্যিকার মানুষ হতে হলে অবশ্যই দেশকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে হবে। কারণ দেশপ্রেমহীন মানুষ পশুর সমান।
নিজের দেশকে অবজ্ঞা করে কেউ কোনদিন বড় হতে পারে না। তাই দেশকে ভালোবাসা এবং দেশ ও জাতির জন্য কিছু না কিছু অবদান রাখা প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। সত্যিকার দেশপ্রেমিক মানুষ দেশের মাটি ও মানুষকে নিয়ে সবসময় ভাবে এবং তাদের উপকার সাধনে সে দৃঢ়সংকল্প।
