উদার মন নিয়ে এদেশ পরিচালনা
করতে সমঝোতার কোন
বিকল্প নেই
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪২ বছর পূর্তিতেও এদেশের সাধারণ মানুষ তাদের অর্জিত স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত ফল বা অধিকার ব্যবহার বা ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে না। তার একটাই কারণ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতা বিরাজমান। দেশে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতি বা জনজীবনকে চরম ভোগান্তির দিকে ধাবিত করছে। একজন আদর্শ মায়ের যেমন একাধিক সন্তান থাকতে পারে তেমনি একটা আদর্শ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক দলও থাকতে পারে এটা নিত্যন্তই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক মাঠে একাধিক দল থাকলেই যে ক্ষমতাসীন দল অন্য দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে এটা কেমন ধরনের রাজনীতি? দেশ আজ রসাতলে, এমনটাই সবার মুখে একই বুলি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে এদেশ অতি শিগগিরই ধ্বংস হয়ে যাবে। এদেশকে যারা পরিচালনা করছেন তারা জনগণের দিকে না তাকিয়ে সর্বদাই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন। তাই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হলে দলমত নির্বিশেষে সমঝোতা প্রয়োজন। উদার মন নিয়ে এদেশ পরিচালনা করতে সমঝোতার কোন বিকল্প নেই। সরকার গঠন করে উপহার দিবেন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। যা সকলের একান্ত কাম্য। তাই আমি সকলের উদ্দেশে বলব সকল অপকর্ম বন্ধ করে এ মাতৃভূমির দিকে তাকিয়ে এ দেশকে টিকিয়ে রাখার তাগিদে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, যা হতে পারে অনুকূল ও সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা।
এম ডি মাইদুল ইসলাম (নয়ন),
বিবিএ অনার্স ব্যবস্থাপনা,
ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ, গাজীপুর
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
হবে না
বর্তমান মারদাঙ্গা পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচন নামক শব্দটি রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই নির্বাচন যে জাতির জন্য, দেশের জন্য তা বোধ হয় নেতারা ভুলতে বসেছেন। ২১ ফেব্রুয়ারিকে বিশ্বদরবারে গর্বের সাথে পালন করা হয়। কিন্তু নোংরা রাজনীতি বিশ্বদরবারে মর্যাদাটুকু ক্ষুণ্ন করছে বটে। সাধারণ মানুষ রাজনীতির মারপ্যাঁচ বুঝে না। আপনারা জাতির সেবক। জাতি আপনাদের সেই আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। আপনারা রাজনীতির খেলা বন্ধ করুন। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং নির্দলীয়ভাবে কাজ করার জন্য ক্ষমতা দিতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার না হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। কারণ বিএনপি এবং অন্য দলগুলোর কথাবার্তায় বুঝা যাচ্ছে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। আমার মনে হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সম্মতির সাথে সাথেই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। সম্প্রতি পাকিস্তানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই care taker Govt-চালু করছে। বিচার বিভাগ রুল জারি করেছেন, দুই নেত্রীকে সংকটময় মুহূর্তে জাতীয় সমস্যা সমাধান করার জন্য বিচার বিভাগকে বাহবা দিতেই হয়। এই দেশে সত্যিকার অর্থে একটা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে যার ফলাফল হবে দীর্ঘপ্রসারী। শুধু ভাবাবেগ দিয়েই রাজনৈতিক এই অদ্ভুত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এমন একটা পথ আবিষ্কার করতে হবে যা আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষয়িষ্ণু দিকের ক্ষয় রোধ করে ওপরে টেনে তুলতে পারে। আর ক্ষয়িষ্ণু দিকটাই একটা মানুষকে তার নিজের সিংহাসন থেকে টেনে নিচে নামিয়ে দিতে সাহায্য করে।
মো. জাহাঙ্গীর আলম
আইন অনুষদ
৩য় বর্ষ, স্টাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটি
বর্তমান সরকার যদি বিরোধী দলগুলোকে
ডেকে সংলাপে বসে তবে এতে মহত্বের
পরিচয় হবে, লজ্জার কিছু নেই
সুষ্ঠু নির্বাচন অবশ্যই সম্ভব; তবে সেটা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। একথা হাজার বার সত্য, আমাদের দেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। সরকার দ্বারা নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করার শক্তি-সাহস অর্জন করতে পারেনি। সরকার তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার শৃঙ্খলমুক্ত দাফতরিক অধিকারও এখনো দেয়নি। এরই প্রেক্ষিতে বিরোধী দল ও সচেতন নাগরিকদের নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ এখনোও কাটেনি। বরং বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা তীব্র হচ্ছে। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান পরিপন্থি হয় তবে বর্তমান সরকারকেও অবৈধ বলা যায়। কারণ তারা এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসেছে। আমাদের দেশে দেশপ্রেমিকের হয়তো অভাব নেই কিন্তু সত্ দেশপ্রেমিকের বড্ড অভাব রয়েছে। বিশেষ করে আজ দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান তা আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছার অভাবের কারণে। গণতান্ত্রিক দেশে সবারই গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রবণতায় জনগণ তাদের বলির পাঠায় পরিণত হয়েছে। তারা ইচ্ছা করলে সংলাপে বসে বর্তমান সমস্যার একটা বিহিত করা সম্ভব। বর্তমান সরকার যদি বিরোধী দলগুলোকে ডেকে সংলাপে বসে তবে এতে মহত্বের পরিচয় হবে, লজ্জার কিছু নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশ, সবদিক দিয়ে পিছিয়ে পড়বে। অন্তত দেশের কথা ভেবে একটা সমাধান উচিত।
যোবায়ের আহমাদ,
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি,
জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের
সম্ভাবনা ক্ষীণ
এ অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। হয়তোবা আওয়ামী লীগ চাইবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করতে। কিন্তু গণতান্ত্রিক দেশে এরকম হওয়ার সুযোগ খুবই কম। এরকমটা কেউই আশা করে না। এরকম হলে প্রচলিত সাংবিধানিক অর্থে বিরধীদলসহ দেশের সকল স্তরের মানুষ সে নির্বাচন প্রত্যাহার করবে। সে পরিস্থিতিতে অন্য কোন চিন্তায় নির্বাচন হলে হতেও পারে। না হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আতঙ্ক বিরাজ করবে বলেই ধারণা করা যায়। সে সুযোগে দেশের ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বুদ্ধিজীবীরা বলছেন দুই নেত্রীর সংলাপে বসার কথা কিন্তু দুই নেত্রীর মনোভাবে তা প্রকাশ পায় না। তারা শুধু নিজ স্বার্থ রক্ষার জন্য বিভিন্ন আচরণ করে। দিনের পর দিন এত মানুষ খুন হচ্ছে এর সমাধানের কোন দায়িত্ব কারো নেই। শুধু জনগণ বোকা। তারা তাদের নিজেদের স্থানে ঠিকই আছে।
মো. মাইনুল ইসলাম সিকদার
বিএ ১ম বর্ষ,
কবি নজরুল সরকারি কলেজ
