জিম্বাবুয়ের গোলমাল মিটে গেছে

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৭
বিদেশ সফরের আগে বাংলাদেশ দল এমন খবর আগেও অনেকবার পেয়েছে। কখনো সেটা সত্যি হয়েছে, কখনো মিটে গেছে। খবরটা হল—ধর্মঘটে যাচ্ছেন প্রতিপক্ষ দলের শীর্ষ খেলোয়াড়রা। আবার সেই খবরটা এসেছিল এবার জিম্বাবুয়ে সফরের আগে। কিন্তু এবার আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের মতো কিছু ঘটেনি। এমনকি সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সফরে যেমন শেষ দিন পর্যন্ত ধর্মঘটের আবহ ছিল; তাও থাকল না এবার। গতকালই জিম্বাবুয়ের পত্রিকাগুলো সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে গোলমাল মিটে গেছে। গতকালই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এনায়েত সিরাজ এ বিষয়ে বলছিলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা তো এখন নিয়মিতই ঘটছে। আমরা আশা করি, নির্বিঘ্ন একটা সফর হবে। তাদের বোর্ড ও খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা ঐক্যমত তৈরি হবে বলেই আশা করছি।’ সেটাই হয়েছে। জিম্বাবুয়ের পত্রিকা নিউজ ডে জানাচ্ছে যে, সোমবারই কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকা জাতীয় দলের সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের একটি চুক্তিতে নিয়ে আসা হয়েছে। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এক সপ্তাহ ট্রেনিংয়ের পর নির্বাচকরা ২১ সদস্যের একটি দল ঘোষণা করেছেন। এই দলের মধ্যে যারা আগে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ছিলেন না, তারা সবাই অফ-সিজন চুক্তিতে সই করেছেন।’ এই কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়েই ঝামেলা তৈরি হয়েছিল। জিম্বাবুয়েতে দীর্ঘকাল ধরে চলা অর্থনৈতিক মন্দার সঙ্গে দেশটির ক্রিকেটেও মারাত্মক অর্থের অভাব চলছে অনেকদিন ধরেই। সমস্যা মিটে গেছে বলার পরও বছর দুয়েক আগে জানা যায়, দেশটির কোনো ক্রিকেটারই নিয়মিত টাকা পান না। এরপর জিম্বাবুয়েতে ১৫ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় চুক্তি করা হয়। বলাই বাহুল্য মাত্র ১৫ জন খেলোয়াড়ের ভেতর থেকেই জাতীয় দল করা সবসময় সম্ভব হয় না। ফলে বাকি ক্রিকেটারদের একটা আয়ের উত্স তৈরি করতে তাদের বিভিন্ন মালিকানাভিত্তিক দলের হাতে দিয়ে দেয়া হয়। এই দলগুলো বোর্ডের কাছ থেকে পাওয়া অনুদান দিয়ে কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের বেতন দেয়। কিন্তু সমস্যা হল এই দলগুলো থেকে খেলোয়াড়রা শুধু গ্রীষ্মের ক্রিকেট মৌসুমেই বেতন পান। আর এই অফ-সিজনে তারা কোনো আয় না থাকায় ইংলিশ কাউন্টিসহ বিভিন্ন দেশে খেলে আয় করেন। এবার সেই আয়ের সময়টায় বাংলাদেশের সফর এবং পরপর কয়েকটি সিরিজের কারণে তাদের আবার আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এই ক্রিকেটারদের শুধু দৈনিক ভাতা দেবে বলে বলছিল জিম্বাবুয়ে বোর্ড। এই ব্যাপারটি মেনে নিতে পারেননি কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থেকে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটাররা। তারা নতুন একটি অফ-সিজন চুক্তির দাবিতে ধর্মঘটে গিয়েছিলেন। এই কারণে জিম্বাবুয়ের একটি অনুশীলন ম্যাচ আয়োজনও সম্ভব হয়নি। এরা বলেছিলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলবেন না। এমনকি কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা অনেক ক্রিকেটারও সতীর্থদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে সিরিজ বয়কট করবেন বলে শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত এসবের কিছু দরকার হল না। আপাতত সব মিটে গেছে বলেই জানা যাচ্ছে। অবশ্য তিনজন খেলোয়াড়ের এখনও ঝামেলা থেকে গেছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় চুক্তিতেই প্রস্তাব পাওয়া চুক্তি সই না করে বিদেশে খেলতে যেতে চান বলে জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ের মিডিয়া ম্যানেজার। আর তরুণ ব্যাটসম্যান শেন উইলিয়ামস ও পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত সিকান্দার রাজা বাট গতকাল পর্যন্ত অফ-সিজন চুক্তিতে সই করেননি। এরা কেন সই করতে বিলম্ব করছেন বা কেন করছেন না; সে বিষয়ে অবশ্য পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তারপরও যতদূর ঝামেলা মিটেছে, তাতেই খুশি জিম্বাবুয়ের কোচ স্টিফেন ম্যাঙ্গোগো। খেলোয়াড়দের ধর্মঘটের কারণে তিন দিনের ম্যাচ খেলতেই না পারার পর এই চুক্তির খবরে উচ্ছ্বসিত কোচ বলছিলেন, ‘আমি খুবই খুশি। কারণ এখন অন্তত আমরা নিজেদের কাজটা নিয়েই মাথা ঘামাতে পারবো। আমাদের এখন নষ্ট করা সময়ের কাজটা পুষিয়ে নিতে বেশি পরিশ্রম করতে হবে। আশা করি, খেলোয়াড়রা সবাই খুব ফোকাসড থাকবে।’