[ নি র্বা চ ন ]

বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও কিছু প্রসঙ্গ

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০৫
রাজনৈতিক দল ও দেশবাসীর কাছে এখন মূল বিবেচ্য বিষয় রাষ্টপতি ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে বিভিন্ন কথা আসলেও মুখ খুলছেন না প্রধানমন্ত্রী কিংবা সরকার দলের নীতি নির্ধারকরা। সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতার কারণে ৯০ দিনের মধ্যে অর্থাত্ আগামী ১৯ জুনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু কে হবে রাষ্ট্রপতি? এ নিয়ে রাজনীতি পাড়ায় প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি পদটি অনেকটা আলংকারিক পদ। সংবিধানের ৪৮ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মর্যাদাগত দিক থেকে তার স্থান অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে। কিন্তু ৫৫ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তার কর্তৃত্বেই প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হবে। অর্থাত্ সকল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রিক। তা সত্ত্বেও দু’টি কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সকলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১. চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণসহ আসন্ন নির্বাচনে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা। ২. সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর। তাই সংসদ নির্বাচনে সরকার বদল হলেও এই রাষ্ট্রপতিই পরবর্তী সরকারের সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন স্বাক্ষরিত একটি গেজেটে বলা হয়েছে সংবিধানের ৫৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানের ৫৪ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা তার অনুপস্থিতিতে, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ক্ষেত্রমতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।” গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরপরই ইসি রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। ইতোমধ্যেই তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। খুব শীঘ্রই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ প্রসঙ্গে সংবিধানে উল্লেখিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে একটু বলতে হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পর্কে সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন। ১২৩ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হবার পর নব্বই দিনের মধ্যে, তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। তারা সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। তফসিল অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী দেবে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর নির্ধারিত দিনে সংসদেই নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। তাতে ভোট দেবেন ৩৫০ জন সংসদ সদস্য। বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার জন্য “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১” এবং “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১” রয়েছে। ১৯৯১ সালের পূর্বে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন। এই আলোকে তখন “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অধ্যাদেশ, ১৯৭৮” এবং “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা ১৯৭৮” অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন তার সচিবকে রিটার্নিং অফিসারগণের নিজ নিজ আওতাভুক্ত উপজেলা/থানা পর্যায়ের কর্মকর্তাকে সহায়ক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হত। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা থেকে ফলাফল গেজেটে প্রকাশ করা পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান ও পরিচালনার জন্য সকল দায়িত্ব পালন করতেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর হতে এ পর্যন্ত ১৯ জন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করলেও মূলত রাষ্ট্রপতি পদে ৯টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয় ৮ এপ্রিল ১৯৭৩ আর সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। এই নির্বাচনের মধ্যে সার্বজনীন সরাসরি ভোটাধিকার ভিত্তিতে ৩টি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অধ্যাদেশ, ১৯৭৮”র অধীনে নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় ৩ জুন, ১৯৭৮। এই নির্বাচনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করেন। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। আর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় জনতা পার্টির চেয়ারম্যান জেনারেল (অবঃ) এম.এ.জি. ওসমানী। দ্বিতীয় নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় ১৫ নভেম্বও ১৯৮১। এ নির্বাচনে ৩৯জন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তবে বিএনপির প্রার্থী বিচারপতি আবদুস সাত্তার এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. কামাল হোসেনর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে। জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী বিচারপতি আব্দুস সাত্তার নির্বাচিত হন। তৃতীয় নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় ১৫ অক্টোবর ১৯৮৬। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ১২ জন প্রার্থী। নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতিতে সরকার গঠিত হওয়ায় রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। এ প্রেক্ষিতে “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১” অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান পরিচালনা জন্য নির্বাচন কমিশন সরাসরি দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ১৯৯১ এরপর থেকে যারা রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেনঃ ১. আব্দুর রহমান বিশ্বাস (৯ অক্টোবর ১৯৯০-৯ অক্টোবর ৯৬) ২. বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ (৯ অক্টোবর ১৯৯৬-১৪ নভেম্বর ২০০১) ৩. প্রফেসর ডাঃ এ.কিউ.এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরী (১৪ নভেম্বর ২০০১-২১ জুন ২০০২) ৪. প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ (৬ সেপ্টেম্বও ২০০২-১২ ফেব্রয়ারি ২০০৯) ৫. মো. জিল্লুর রহমান (১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-২০ মার্চ ২০১৩)। রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন এ বিষয়ে সরকারি দল থেকে কোন ইঙ্গিত না আসলেও গণমাধ্যমগুলো এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন ছাপিয়েছে। সেখান থেকে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট, মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শল (অবঃ) এ কে খন্দকার, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। এছাড়াও কখনো কখনো শেখ রেহানা ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমদের নাম শোনা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে প্রত্যাশা যাই থাকুক না কেন পুরো বিষয়টা নির্ভর করছে সরকারি দলের উপর। কেননা সংসদে তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ১১ (২) ধারা অনুযায়ী প্রার্থীদের মধ্যে যিনি প্রদত্ত ভোটের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পাবেন নির্বাচন কমিশনার তাকে নির্বাচিত বলে ঘোষণা করবেন। ফলে বিএনপি কিংবা যদি বিরোধী কোন দলের কোন পছন্দ থাকেও তাদের পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদের কারণে যদি সংসদ সদস্যদের বিকল্প কোন পছন্দ থেকেও থাকে তাদের পক্ষে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অন্য কাউকে নির্বাচিত করা সম্ভব নয়। সুতরাং সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারি দল কতটুকু নিজেদের দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। এর উপরই নির্ভর করবে সরকার কতটুকু গণতান্ত্রিক। গণতান্ত্রিক মূলবোধকে কতখানি মূল্যায়ন করে। কেননা সরকারি দল যাকে মনোনয়ন দিবেন মূলত তিনিই রাষ্ট্রপতি হবেন। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করার প্রয়োজন রয়েছে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু আসন সংখ্যা কম হলেও পপুলার ভোটের দিক থেকে প্রায় প্রায় সমান থাকা বিএনপিসহ সকল বিরোধী দলের মতামত উপেক্ষা করে একে একে অনেকগুলো স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার গণতন্ত্রেরও হাতে বেড়ী পরিয়ে দিয়েছেন বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় বের হবার আগেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানটি সংবিধান থেকে বাতিল করে। পঞ্চদশ সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপনের মাত্র ৫ দিনের মাথায় দেশের বিশিষ্ট আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে পাস করিয়ে নেয়া হয়। জনমতের তোয়াক্কা না করে, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলোও পরিবর্তন করেছে। যা ইতোমধ্যেই বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে। যদি আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য কোন সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে তা দেশকে নতুন কোন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিবে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারকে উদারতার পরিচয় দিতে হবে। কেননা এই রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি যদি সরকার পরিবর্তন হয় তাহলে আওয়ামী লীগ মনোনীত এই রাষ্ট্রপতিকেই পরিবর্তীত সরকারের সাথে অন্তত ৪ বছর কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যদি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয় তা ভবিষ্যতের দিনগুলোকেও সংকটাপন্ন করে তুলবে। সৃষ্টি করতে পারে জাতীয় ও সাংবিধানিক সংকট। কারণ একমাত্র অভিশংসন ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সরানোর কোন সুযোগ নেই। আর অভিশংসন খুব সহজ নয়। মেয়াদ শেষে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন। তাই কোন বিব্রতকর অবস্থা যাতে সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও আওয়ামী লীগের খেয়াল রাখা উচিত। এই প্রেক্ষিতে দেশের সুশীল সমাজ, বিশেষজ্ঞ মহল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ এখন একজন গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতির অপেক্ষায়। কেননা চলমান সংকট উত্তরণে তার বিশেষ ভূমিকা থাকবে। তাই সবাই প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রপতি হবেন এমন ব্যক্তি যিনি দু’দলকে একসাথে বসাতে সক্ষম হবেন। জাতীয় ইস্যুতে প্রধান দুই জোটকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবেন। সংকট নিরসনে যিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত দিবেন। একই সাথে আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে তা নিয়ে প্রধান দুই দলের মধ্যে সমঝোতা তৈরি করতে পারবেন। প্রধান দুই জোট বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির যে অনমনীয় মনোভাব দেখা গেছে তাতে মনে হচ্ছে নতুন কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে তারা একে অপরকে কোন রকম ছাড় দিতে রাজি না। একদিকে বিএনপি বলছে তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাাচনে অংশ নিবে না। অপরদিকে সরকার দল থেকে বলা হচ্ছে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। অর্থাত্ দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। ইতোমধ্যে সুশীল সমাজের মধ্য থেকে এ ব্যাপারে কথা আসলেও অনড় অবস্থানে রয়েছে সরকার। যেহেতু প্রধান দুই দলের মধ্যে অবিশ্বাস চরম মাত্রা ধারণ করেছে এই পরিপ্রেক্ষিতে একটি নিরপেক্ষ কাঠামো ছাড়া কোন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সামনের জাতীয় নির্বাচনকে মাথায় রেখে সরকার আওয়ামী লীগের প্রতি অনুগত কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির পদে বসাতে পারে। যদি তা করে তাহলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হতে পারে। একটি ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপতি যিনি হবেন তাকে কেমন হওয়া উচিত। আমি মনে করি, এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হতে হবে, যিনি কোনো সরকারের রাষ্ট্রপতি নন, যিনি হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, সব রাজননৈতিক দলের জন্য যার দরজা খোলা থাকবে। যিনি সবার কথা শুনবেন। যিনি রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত কিংবা নির্বাচিত হবেন তিনি যেন অবশ্যই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হন। কেননা রাষ্ট্র আর রাজনীতি আলাদা কোন বিষয় নয়। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলে পরিবর্তীত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলা তার পক্ষে কঠিন হবে। কেউ বলছেন রাষ্ট্রপতিকে সর্বজন গ্রহণযোগ্য আবার কেউ বলছেন নিরপেক্ষ ব্যক্তি হতে হবে। আমি বলব, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ হলেই গ্রহণযোগ্য হয় না। কেননা রাজনৈতিক ব্যক্তিও তার যোগ্যতাবলে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। আবার নিরপেক্ষ বা অরাজনৈতিক ব্যক্তি অভিজ্ঞতা কিংবা যোগ্যতা না থাকার কারণে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ব্যক্তির চেয়ে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচন করা উচিত। লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় e-mail:[email protected]