হরতালের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মিছিল করিয়াছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং ইহার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। রামদা, সড়কি, চাপাতি ও ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত গফরগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের এই মিছিলের ছবি ছাপাও হইয়াছে গত বুধবারের ইত্তেফাকসহ একাধিক জাতীয় সংবাদপত্রে। গত সোমবার হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল চলাকালেও চট্টগ্রামে যুবলীগের এক নেতাকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে হরতাল-সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে জড়াইতে দেখা গিয়াছে। তাহার বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠিয়াছে। নাম-পরিচয়সহ উক্ত যুবলীগ নেতার ছবিও ছাপা হইয়াছে বিভিন্ন সংবাদপত্রে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই। বরং পুলিশের পক্ষ হইতে নানা অজুহাত দেখানো হইয়াছে—যাহা দুর্ভাগ্যজনক শুধু নহে, অগ্রহণযোগ্যও বটে। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, ইতোপূর্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুরূপ ঘটনা ঘটিয়াছে। সংবাদপত্রে সেইসব ছবি প্রকাশিত হইলেও অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় নাই। বিষয়টি যে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য মোটেও স্বস্তিকর নহে তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কিছু ব্যক্তি অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিং করিল, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাহাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করিল না। অতএব, এই প্রশ্ন উঠা খুবই স্বাভাবিক যে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কি আইনের ঊর্ধ্বে? আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব কি শুধু বিরোধীপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাহাই বলুন না কেন—বাস্তবে যে ঠিক তাহাই ঘটিয়া চলিয়াছে তাহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই। দেশের পরিস্থিতি এমনিতেই অত্যন্ত নাজুক। অসহিষ্ণুতা ইতিমধ্যে চরমাকার ধারণ করিয়াছে। অব্যাহত সংঘাত-সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরে দুর্বিষহ হইয়া উঠিয়াছে জনজীবন। কিন্তু যাহারা এই অস্থির ও ক্রমাবনতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির লাগাম টানিয়া ধরিতে পারিতেন তাহাদের মধ্যে সহিষ্ণুতা ও সমঝোতার কোনো আলামতও দেখা যাইতেছে না। বরং বিদ্যমান সংঘাতের আগুনে ঘৃতাহুতি করিবার প্রবণতাই যেন মুখ্য হইয়া উঠিয়াছে। এমতাবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসন দলনিরপেক্ষভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হইলে তাহার পরিণতি ভয়াবহ হইতে বাধ্য। ভুলিয়া গেলে চলিবে না যে, তাহারা কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তিবিশেষের নিকট দায়বদ্ধ নহে। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসাবে তাহাদের প্রকৃত দায়বদ্ধতা হইল রাষ্ট্র ও সংবিধানের নিকট। আইনই হইল তাহাদের রক্ষাকবচ ও দিক-নির্দেশক। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ব্যত্যয় ঘটিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তাহার দায় এড়াইতে পারিবেন বলিয়া মনে হয় না।
অতএব, আমাদের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট। দ্বৈতনীতি পরিহার করিতে হইবে। আইন লঙ্ঘনকারী যতো ক্ষমতাবান বা প্রভাবশালীই হউক না কেন—তাহাকে আইনের আওতায় আনিতে হইবে অনতিবিলম্বে। এই ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শৈথিল্য বা গাফিলতি জনগণ মানিয়া লইবে না।
