ফুটবল দর্শনে দৃষ্টি ক্রুইফের

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫৬
জার্মানি, ইংল্যান্ড, ইরাক, অষ্ট্রিয়া থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল থেকে কোচ এসেছেন বাংলাদেশ দলে। আর প্রত্যেকে এসেই নিজের পছন্দের স্টাইলে, পছন্দের দর্শনে বাংলাদেশ দলকে দিয়ে ফুটবল খেলাতে চেয়েছেন। ফলে এই ৪২ বছরে বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো ফুটবল স্টাইল, কোনো ফুটবল দর্শন কখনো গড়ে ওঠেনি। এবার সেটাই গড়ে তুলতে চান জাতীয় দলের নতুন কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ। আর সে জন্য শুধু জাতীয় দল নয়, বয়সভিত্তিক দলগুলোতেও নিজের চাওয়ার স্টাইলটার প্রয়োগ ঘটাতে চান। তৃণমূল পর্যায় থেকে তার স্টাইলকে তুলে আনতে চান বাংলাদেশের নতুন ডাচ কোচ। শুরুতে কোচে ক্রুইফের আন্তরিকতা নিয়ে নানা ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবেই হোক, আপাতত বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে তিনি সিরিয়াস বলেই মনে হচ্ছে। সেই সিরিয়াসনেস থেকেই গতকাল বাফুফের প্যানেল কোচদের সঙ্গে বৈঠক করলেন ক্রুইফ। আর সেখানেই বয়স ভিত্তিক ফুটবল দলগুলোকে একটা নির্দিষ্ট স্টাইলে গড়ে তোলার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। স্বভাবতই এই ডাচ কোচের পছন্দ এখন বিশ্ব কাঁপানো পাসিং-প্রেসিং ফুটবল স্টাইল। উঠতি ফুটবলারদের এখন সেটাই তালিম দেবেন বাফুফের কোচরা। যেন জাতীয় দলের জায়গা পেলে ওই ফুটবলার সহজেই মানিয়ে নিতে পারেন। বাংলাদেশের ফুটবলে আগের কোচগুলো এসেছিলেন স্বল্প সময়ের জন্য। কিন্তু ডাচ লুডভিক ডি ক্রুইফ আগামী দুই বছর বাংলাদেশের ফুটবলের দায়িত্বে থাকবেন। তিনি মূলত জাতীয় দল নিয়ে কাজ করবেন। তবে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পাইপ লাইনটাও যেন জাতীয় দলের স্টাইলেরই হয়, সেটা নিয়েও ভাবনা শুরু করে দিয়েছেন তিনি। তার জন্য বাফুফের প্যানেলের ১৯ কোচের সাথে কাল বৈঠক করেন ক্রুইফ এবং তার সহকারী কোচ রেনে কেস্তার, যিনি ফুটবল একাডেমীর দায়িত্ব পালন করবেন। এই দুই ডাচ কোচ গতকাল বাফুফের বয়স ভিত্তিক কোচদের কাছ থেকে জেনেছেন, কিভাবে তারা জুনিয়র ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ দেন। সে সব কথা শুনে তিনি বোর্ডে কলমে এঁকে দেখিয়েছেন, ডাচ ফুটবলে অনুশীলন পদ্ধতির সাথে বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়। যেসব প্যানেল কোচ এখানে উপস্থিত ছিলেন, তারা বিশাল পার্থক্যটা ধরতে পেরেছেন বলেই বলছেন। ক্রুইফ দেখিয়েছেন উন্নত বিশ্বে ফুটবল শিক্ষাটা কিভাবে হয়, বাংলাদেশে কেমন হওয়া উচিত। বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা প্রশিক্ষণ পেয়ে কিভাবে গড়ে উঠবে; সেটা বোঝাতে চেয়েছেন তিনি। বাফুফের কোচদের সাথে একঘন্টার আলোচনা পর ক্রুইফ জানিয়েছেন, তিনি পুরো ব্যাপারটা নিয়ে ধারণা দিতে চেয়েছেন, কিছু তথ্য দিতে চেয়েছেন। বলেছেন, ‘এটাই যথেষ্ট নয়। আরো অনেক কথা বলতে হবে।’ কোচদের সাথে কথা বলে ভালো লেগেছে ক্রুইফের, ‘সবাই মনযোগী ছিলেন। কিছু ভালো প্রশ্নও করেছেন তারা।’ আর যারা এই শ্রোতাদের মধ্যে ছিলেন, তারাও নতুন কোচের মতাদর্শে যথেষ্ট প্রভাবিত হয়েছেন বলেই মনে হল। বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও সাবেক ফুটবলার জোবায়ের নিপু বললেন, ‘কোচ আমাদেরকে ডাচদের প্রশিক্ষণের সঙ্গে আমাদের পার্থক্যটা দেখিয়েছেন। এই কোচ মনে করছেন ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলা খেলতে হবে।’ শুধুই যে দর্শন আর পাইপলাইন নিয়ে ভাবনায় পড়ে আছেন কোচ; তা নয়। বর্তমান জাতীয় দল নিয়েও একইসঙ্গে ভাবছেন। চ্যালেঞ্জ কাপ বাছাই পর্ব পার হতে না পারায় এএফসির অদ্ভুুত আচরণের নিন্দা আগেই করেছেন। এবার নিজেদের নিয়েও কথা বললেন। বললেন, সে সময় প্রস্তুতিটা যথেষ্ট ছিল না। দলে যে চোটগ্রস্ত ফুটবলার ছিল, সেটাও তার জানা ছিল না। এবার আর যাই হোক ইনজুরিতে থাকা কোনো ফুটবলারকে দলে রেখে ঝুঁকি নিতে চান না বলেই জানালেন কোচ, ‘চোটগ্রস্ত ফুটবলার এমিলি, জাহিদ, শাকিলসহ কয়েকজন ফুটবলার দলে ছিলেন। কোনো চোটগ্রস্ত ফুটবলার দলে রাখব না।’ আসলে লন্ডন ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টটাকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন কোচ। এখানে ভালো একটা কিছু করে ফিরতে চান। বলেছেন, ‘ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ হবে। আমরা ৩০ জনকে ডাকব। ২০ জনকে জাতীয় দলে নেব।’