শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৪
০০০০০০০০০০০০০ সুষ্ঠু নির্বাচন জনগণের শান্তির ভিত্তি স্থাপন করে গণ অর্থ জনগণ আর তন্ত্র অর্থ শাসন। গণতন্ত্র বলতে বোঝায় জনগণের শাসন ব্যবস্থা। আর এই জনগণের শাসন ব্যবস্থা প্রণয়নের একমাত্র দিক-নির্দেশক হলো অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ। প্রতিটি জিনিসের শুরু ও শেষ আছে কিন্তু শুরুটা ভাল থাকে কিন্তু শেষটাও যদি ভাল যায় তাহলেই মঙ্গল। শুধুমাত্র কথার ফুলঝুরি দিয়ে নয়, মানুষের জীবনের বাস্তব উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। দারিদ্র্য কবলিত মানুষ যখন জীবন-জীবিকার সন্ধানে গ্রাম থেকে শহর বন্দরের দিকে ছুটে চলছে নিরন্তরভাবে ঠিক সে সময় আমাদের দেশের শাসন ব্যবস্থায় অশান্তিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। এর জন্য দায় রাষ্ট্রের কতিপয় নাশকতা শ্রেণির লোক। সে কারণে হরতাল, অবরোধ তা নিরূপণ করে সঠিক সমাধানে আসা খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতার প্রতি জনগণের আহবান সংঘাত ও সংঘর্ষের পথ পরিহার করে সমঝোতায় আসা ও সুন্দর শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দেশকে সোনালী হীরাতে পরিণত করা সহজেই সম্ভব। আর এটিই হবে জনগণের শান্তির দীর্ঘস্থায়ী পথ প্রদর্শক। মো. আমিনুল ইসলাম এমবিএ (এমআইএস) এনরোল্ড (ইভিনিং প্রোগ্রাম) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০০০০০ ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে বাংলাদেশে বড় দুই রাজনৈতিক দল হলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, এদের মধ্যে একজন মনে করছে এটা আমার বাবার দেশ, আর একজন মনে করছে এটা আমার স্বামীর দেশ। এমতাবস্থায় যে যার অবস্থানে অনড়, ফাঁকে পড়ে প্যাদানী খাচ্ছে জনগণ। এই অবস্থায় দেশ চলতে থাকলে দেশের বারোটা বাজবে, ইতিমধ্যে দেশের বারোটা বেজে গেছে। যে কোন দলের হাতে দেশীয় অস্ত্র দা ছুরি, রামদা ইত্যাদি থাকলে পুলিশ বা প্রশাসনের লোকের উচিত সেগুলো তাদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়া। কারণ পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তাকারী। কিন্তু বর্তমানে আমরা কি দেখছি, ছাত্রলীগ ও পুলিশ এক সঙ্গে গুলি করছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে নারাজ। এই নারাজটাকে রাজ করার জন্য বিরোধী দল উঠে পড়ে লেগেছে। বর্তমান সরকার তাদের ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে, এ জন্য তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না। মো. জাকির হোসেন জীবন বিএ অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ, রাজগঞ্জ, যশোর। ০০০০০০০০০০ শক্তি নয়, বুদ্ধিমত্তা ও কৌশল দিয়েই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন টিকিয়ে রাখা সম্ভব আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, Democracy is the Government of the people, by the people, for the people. নাগরিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারকে স্বীকার করে আইনের শাসনকে প্রাধান্য দেয়া গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, দুঃখজনক হলেও সত্য যে বর্তমানের রাজনীতি অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে এই রাজনীতিকে পরিশীলিত করতে হলে অবশ্যই বিশৃঙ্খল বা শক্তি দিয়ে নয়, বুদ্ধি ও কৌশল দিয়েই জয় করতে হবে। এ পৃথিবীতে যত মহত্ কাজ করা হয়েছে তা শক্তি দিয়ে নয় একমাত্র বুদ্ধি ও কৌশল দিয়ে। তাই neagative নয় Positive বুদ্ধি ও কৌশল দিয়ে রাজনীতিকে পরিশুদ্ধ করুন। তাহলেই এই দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। মো. তারিকুল ইসলাম (প্রিন্স) বামনা সারওয়ারজান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ (বাণিজ্য) একাদশ। কলাগাছিয়া বামনা, বরগুনা। ০০০০০০০০০০০০০ বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা দুরূহ বর্তমান বাংলাদেশের পেক্ষাপটে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা দুরূহ। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জামায়াত শিবিরের তাণ্ডবে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে তার পক্ষে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়। দুই দল দলমত নির্বিশেষে যদি নির্বাচনের তাগিদ দেয়া হয় তাহলে কিছুটা সম্ভব হতে পারে এবং প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা যদি কমানো যায় এবং প্রশাসনিক কাজে যদি হয়রানি কমে যায় তাহলেই বিরোধী দল ও জামায়াত-শিবির কিছুটা শান্ত হতে পারে। তবে সুষ্ঠুভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সেনাবাহিনীকে যদি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া হয় তাহলেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। মো. আলী কায়সার ইতিহাস ২য় বর্ষ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। ০০০০০০০০০০০ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার অপরিহার্য বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সাথে অন্যসব দেশের গণতন্ত্রের বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। কারণ এ দেশের রাজনীতিবিদরা সহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাসী। রাজনৈতিক দল হিসাবে ক্ষমতা আরোহণ করে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে বিরোধী দলের উপর সরকারী দল নিপীড়নের স্টীম রোলার চালায়। আবার বিরোধী দল হিসাবে জনগণের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন তো থাকেই সেই সঙ্গে তাদের সংসদ বিমুখ দেখা যায়। ফলে তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও জনগণের কথা না ভেবে রাজপথে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতেই ব্যস্ত থাকে। এমতাবস্থায় নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বার বার সংবিধান পরিবর্তন করে নির্বাচনের এক হযবরল অবস্থা সৃষ্টি করে সরকারী দল। জনগণের মতামত না নিয়ে বিরোধী দলকে গুরুত্ব না দিয়ে এক তরফা নির্বাচনের ব্যবস্থা করে সরকারি দল। নির্বাচন নিয়ে সৃষ্টি হয় মহাসংকট। এহেন বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিবেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারই পারে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করে বিজয়ী দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। ইব্রাহিম হোসাইন স্নাতক ডিগ্রি চূড়ান্ত বর্ষের রেজাল্ট প্রার্থী, সুজাত আলী ডিগ্রি কলেজ, জামালপুর।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন