সময়ের সাথে সাথে সবকিছুতেই যুক্ত হয়েছে ত্রিমাত্রিকতা। ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের আগমনের ফলে এখন ত্রিমাত্রিক বস্তুকে সরাসরি প্রিন্টারে প্রিন্ট করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে থ্রিডি প্রচলিত অনেক আগে থেকেই। কিন্তু ত্রিমাত্রিক ছবি তোলার সুযোগটা ছিল এতদিন পর্যন্ত সীমিত। এই সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে উঠতেই এবারে নতুন এক ধরনের লেজার ক্যামেরা তৈরি করেছেন এডিনবার্গের একদল গবেষক। এই লেজার ক্যামেরাটি দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকেই তোলা যাবে ত্রিমাত্রিক ছবি। এডিনবার্গের হেরিয়ট-ওয়াট বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদের এই দল যে পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেছে, তাতে করে লেজারের সহায়তায় প্রায় সব ধরনের বস্তুকেই স্ক্যান করে তার ত্রিমাত্রিক ছবি তোলা যাবে। গবেষক দল জানিয়েছে, আরও গবেষণার মাধ্যমে এই ক্যামেরার রেঞ্জকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বর্ধিত করা যাবে। প্রাথমিকভাবে তারা যে ক্যামেরাটি তৈরি করেছেন, তাতে দূরের বস্তুগুলোর প্রায় সবই স্ক্যান করা যায় সফলভাবে। তবে এখনও পর্যন্ত মানুষকে সঠিকভাবে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি এটি। অন্যান্য বস্তু যেভাবে তাদের উপরিতল থেকে লেজারকে প্রতিফলিত করে, মানুষের ত্বক সেভাবে লেজারকে প্রতিফলিত করতে পারে না বলেই এখনও পর্যন্ত এটি সঠিকভাবে মানুষকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি। তবে এই সীমাবদ্ধতাও সময়ের সাথে কাটিয়ে ওঠা সক্ষম বলেই জানিয়েছেন তারা। তারা জানিয়েছেন, কোনো বস্তুতে ত্রিমাত্রিকভাবে স্ক্যান করে তার ছবি তুলে রাখার পাশাপাশি এর মাধ্যমে বস্তুর নড়াচড়ার গতিবিধিতেও নজর রাখা যাবে। এই ক্যামেরার কার্যবিধির মূলনীতি মূলত লেজারের প্রতিফলন। এক কিলোমিটার দূরের বস্তুকেও এটি এক মিলিমিটার রেঞ্জ পর্যন্ত সূক্ষভাবে সনাক্ত করতে পারে। আরও কিছু বাড়তি ফিচার যোগ করে এবং এর ইমেজ প্রসেসিং সফটওয়্যারকে উন্নত করে এর মাধ্যমে কোনো বস্তুর গতি এবং গতির দিক সম্পর্কেও সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। এখনও পর্যন্ত এটি খুব স্বল্পক্ষমতার হলেও খুব দ্রুতই আরও উন্নত করে একে তৈরি করা সম্ভব বলেই জানান গবেষকরা। এ প্রসঙ্গে এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট অ্যাওংগাস ম্যাকার্থির আশাবাদ, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই আরও উন্নত এবং উচ্চক্ষমতার লেজার ক্যামেরা তৈরি হয়ে যাবে।
