উভয় দলের ঐকমত্য, সহযোগিতা ও সংলাপ ব্যতীত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করা যায় না
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংঘাতময় এক অবস্থা বিরাজ করছে। দেশ অশান্ত এক কালো অন্ধকার অবস্থার মধ্যে বিরাজ করছে। যার ফলে দেশের আমদানি ও রফতানিতে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব বিস্তার করছে । দিশেহার ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে ফায়দা লুটছে এক শ্রেণির লোক। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে তার অন্যতম কারণ হলো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে। এ নির্বাচন কোন ধরনের সরকারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন মতপার্থক্য। সরকার চায় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক, অপরপক্ষে বিরোধী দল চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। উভয় দলের বিপরীতমুখী অবস্থার কারণে দেশের অবস্থা জটিল আকার ধারণ করছে। দেশ অনিশ্চয়তার পথে। দেশের সর্বস্তরের মানুষ সর্বদা আতঙ্কের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। লাগাতার হরতাল, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও ইত্যাদি প্রতিদিনের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থা থেকে দেশের জনগণ মুক্তি চায়। উভয় দলকে দেশের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে ঐকমত্য, সহযোগিতা, পারস্পরিক সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সকল দলের সহযোগিতা ও সহমর্মিতা আমাদের একান্ত কাম্য। সকল দলের ঐকমত্য ব্যতীত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আশা করা যায় না।
মোছা. ছাবিনা ইয়াসমিন
ইসলামের ইতিহাস বিভাগ
অনার্স (৩য় বর্ষ)
এনএস কলেজ, নাটোর
রাজনৈতিক দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থান পরিত্যাগ করে সঠিক সময়ে যথাযথ সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব
দেশের বর্তমান রাজনীতি এক জটিল অবস্থার মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতা লাভের অন্যতম মাধ্যম হলো নির্বাচন। বাংলাদেশে আর মাত্র কয়েক মাস পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী নির্বাচনের জন্য এখন দেশের পরিবেশ হওয়ার কথা ছিল সম্পূর্ণ নির্বাচনমুখী। অথচ বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক চরম সংঘাতময় অবস্থা বিরাজ করছে। দেশের চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না তা নিয়ে দেশবাসীর মাঝে রয়েছে উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠা। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এ দেশের মানুষ আশা করে না তারা চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। জনগণ চায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে করে তারা তাদের পছন্দমত দলকে ক্ষমতায় বসাতে পারে। আর তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উদারতা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য আবশ্যক। সকল হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারলেই আমাদের এ দেশ অর্থনীতি স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থান পরিত্যাগ করে সঠিক সময়ে যথাযথ সংলাপে বসলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব।
মো. আব্দুল লতিফ
এমবিএ (৪র্থ সেমিস্টার), দি পিপল’স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, উত্তরা ক্যাম্পাস, ঢাকা
হরিষে বিষাদ নয়
চাই দেশনেত্রী ও জননেত্রীর
সংলাপের প্রতিফলন
অনিশ্চয়তার সময় মানুষ যেমন ভরসা চায়, তেমনি চায় সঠিক দিকনির্দেশনা। তবে আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেরকম সংঘাতের দিকে প্রবেশ করেছে তাতে মনে হয় না যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। অর্থাত্ নির্বাচনকে ঘিরে সরকারি দল ও বিরোধী দল যেরকম অনড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তাতে জনগণের দুর্ভোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই অনড় সিদ্ধান্ত জনমনে প্রশান্তি ফিরে আনতে পারবে না, তদ্রূপ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রয়াস ঘটাতে পারবে না। আর সেজন্য প্রয়োজন বড় দুই দলের মধ্যে উত্সাহীমূলক আলোচনা। তাই দেশে বিরাজমান অশান্তি, হানাহানি, দমন-পীড়ন ও হরতালকে পিছনে ফেলে আমরা চাই সুস্থ-সুন্দর একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। এমনকি তা হতে হবে দেশনেত্রী ও জননেত্রীর সংলাপের প্রতিফলনে, যা কিনা হয় হরিষে বিষাদের মাধ্যমে।
এসএম শাহীন আলম
বাংলা বিভাগ,
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের এই পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
হবে না
বর্তমানে দেশে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। একের পর এক এটা দ্রুত বেগে এতই বেড়ে চলেছে যে, মনে হচ্ছে এটা একটা অমীমাংসিত বিষয়। কিন্তু এটা কি সত্যি? না মোটেই না। অবশ্যই এটা মীমাংসা হওয়া দরকার। কোনভাবে কেউ এই রাজনৈতিক অস্থিরতার সমাধান না খুঁজে একজন আরেকজনকে দোষারোপ করছেন হরহামেশাই, যা চরম অকল্যাণকর ও অপ্রীতিকর। এভাবে একটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন চলতে পারে না। কোন সভ্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন হতে পারে না। কেন যেন কেউ মানতে চায় না যে, ক্ষমতা কখনোই কারো চিরস্থায়ী নয়। দেশে দেশে যুগে যুগে এটাই প্রমাণিত হয়েছে। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন তারা মনে করে তারাই সব। কিন্তু তাদের এই ধারণা ভেঙে যেতে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয় না। কেউ ইতিহাস থেকে কোন শিক্ষা নেয়ার প্রয়োজন মনে করে না। ক্ষমতা যে একটা বালির বাঁধ এই চির সত্যটা কেন যেন কেউই মানতে চায় না। মাননীয় দুই নেত্রীর কাছে এই দেশের সবাই অনেক কিছু প্রত্যাশা করছে, প্রত্যাশা করছে একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। কিন্তু সেটা প্রত্যাশাই থেকে যাচ্ছে, বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না। জানি না জনগণের এই প্রত্যাশার বাস্তব রূপ তারা কখন প্রকাশ করবেন। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা যদি কোন প্রকার সমাধানে না পৌঁছে তাহলে আমার মনে হয় ইতিহাসের একটা ভয়ঙ্করতম হতে যাচ্ছে আগামী সংসদ নির্বাচন। সরকারের উচিত হবে জনগণের দাবি মেনে নিয়ে রাজনৈতিক সহিংসতা রোধকল্পে জনগণকে ভয়ঙ্কর হানাহানির হাত থেকে প্ররিত্রাণ দিয়ে অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদে কেয়ারটেকার সরকারের বিল এনে সংসদে বিলের উপর আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য মীমাংসায় পৌঁছানো। আর এই মীমাংসা যদি না হয় তবে সামনে একটা ভয়ঙ্কর সময় অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। যদি এই রাজনৈতিক অস্থিরতা রোধে কোন পদপেক্ষ না নেয়া হয়, তাহলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কল্পনা করাও হবে অন্যায়।
কবির খন্দকার
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
