দল দেশে থাকতেই ব্যাপারটা বোঝা গিয়েছিল। চিকিত্সকরা বলেছিলেন, এখনও ‘হাফ-ফিট’ তামিম ইকবাল। ফলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তামিমকে পাওয়া যাবে না, এমন একটা শঙ্কা ছিল। গতকাল জিম্বাবুয়ে থেকে দলের ম্যানেজার তানজীব আহসান সাদ যা জানালেন, তাতে শঙ্কাটা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে—তামিমকে ছাড়াই আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্ট খেলতে নামতে হবে বাংলাদেশকে।
কাল টেলিফোনে হারারে থেকে দলের সাদ সে কথাই জানিয়েছেন, ‘তামিম অনিশ্চিত। তামিম ছাড়া দলের বাকি সব খেলোয়াড় ফিট রয়েছেন’।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তামিমকে ছাড়া নামা মানে চ্যালেঞ্জটা আরও একটু বেড়ে যাওয়া। এমনিতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজকে বাংলাদেশের ‘অ্যাশেজ’ বললে কম বলা হয় না। তারও পর এবার আবার বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে র্যাংকিংয়ে বেশ এগিয়ে যাওয়ার হাতছানি।
হারারের স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের লড়াইয়ের পাশাপাশি লড়াই হবে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও। সামগ্রিক পরিসংখ্যানে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে; কারণ সোনালী প্রজন্মের ইতিহাস হয়ে যাওয়া ফলাফল। কিন্তু খেলোয়াড় র্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে বাংলাদেশ। টেস্টে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং র্যাংকিং ২৯তম; সেখানে জিম্বাবুয়ের সেরা ব্যাটসম্যান অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলরের অবস্থান ৭০-এ। শুধু সাকিব নন, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, নাসির হোসেন, মোহাম্মদ আশরাফুল ও শাহরিয়ার নাফীসেরও র্যাংকিংয়ে উপরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সবকিছু নির্ভর করবে হারারের স্পোর্টস ক্লাব মাঠে দুই টেস্টে তাদের পারফর্মেন্সের উপর।
তামিমের বর্তমান র্যাংক ৩১। র্যাংকিংয়ে আরো উপরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তার। শ্রীলংকায় প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি পাওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলের অবস্থান ৬৯। র্যাংকিংয়ে উপরে উঠতে হলে তাকে দুই টেস্টেই ভালো করতে হবে। শুধু আশরাফুল নন, দলের সবাই ভালো খেলতে চান। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে হারারের বর্তমান আবহাওয়া। ঠান্ডা সেরকম না হলেও প্রচন্ড বাতাস রয়েছে সেখানে। দলের ম্যানেজার বলেছেন, ‘ঠান্ডার তুলনায় বাতাসের বেগ বেশি। কন্ডিশনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য খেলোয়াড়রা প্রতিদিনই অনুশীলন করে যাচ্ছেন। কাল (আজ) পুরো দল একসাথে অনুশীলন করবে’।
উইকেটের সাথে মানিয়ে নিতে মনোযোগী হচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা, স্বস্তিতে নেই বোলাররাও। ইনজুরির কারণে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ধার তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। দলের দুই মূল পেসার শফিউল ইসলাম ও মাশরাফি বিন মুর্তজা নেই। রুবেল হোসেনও পুরোপুরি ফিট নন। প্রত্যাশানুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি শাহাদাত হোসেন রাজিব ও রবিউল ইসলাম শিপলু।
তাই এই বিভাগের দুশ্চিন্তা নিয়েই কাল মাঠে নামবে বাংলাদেশ। হারারের পেসবান্ধব উইকেট অভিজ্ঞ পেস বোলারের সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ। সেদিক থেকে সাকিব আল হাসানকে পেয়ে কিছুটা উজ্জীবিত হতেই পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। টেস্ট বোলার হিসেবে র্যাংকিয়ে ১৫তম অবস্থানে রয়েছেন তিনি। এছাড়া বাকিদের অবস্থান র্যাংকিংয়ে ৬০ এরও পরে। জিম্বাবুয়ের সেরা টেস্ট বোলার কাইল জারভিসের অবস্থান ৫৮তম।
আর সাকিবের পর বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে একমাত্র সোহাগ গাজী রয়েছেন দ্বিতীয় অবস্থানে (৫৯)। তাই বাংলাদেশ চাইছে সাকিবকেই তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে। সাকিবের হারানো সিংহাসন পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকবে জিম্বাবুয়ে সফরে। জ্যাক ক্যালিস তাকে হটিয়ে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছেন। সাকিবের সাথে ক্যালিসের ব্যবধান মাত্র পয়েন্টের। হারারে টেস্টে ভালো করলেই হারানো আসন ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশি এই অলরাউন্ডারের। ৩২১ পয়েন্ট নিয়ে সেরা অলরাউন্ডারের শীর্ষদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ভারতের রবিচন্দ অশ্বিন।
কোচ শন জার্গুনসেন অবশ্য শ্রীলংকা থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা কাজে লাগাতে চাইছেন। স্থানীয় এক পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘শ্রীলংকায় ভালো খেলার কারণে দলের ভেতরে আত্মবিশ্বাস এসেছে। এটা জিম্বাবুয়ে সফরে কাজে লাগবে। ইনজুরি কাটিয়ে সাকিব ফিরেছেন, তামিমও দ্বিতীয় টেস্টে ফিরবেন। সবকিছু মিলে দল ভালো খেলবে বলে আশা করছি’। জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতেই গত ১১ এপ্রিল হারারে গেছে বাংলাদেশ দল। এই সফরে জাতীয় দলের কোন প্রস্তুতি ম্যাচ নেই। অনুশীলন করেই ১৭ এপ্রিল স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। টেস্ট র্যাংকিংয়ে মাত্র এক পয়েন্ট অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই দুই টেস্টে জিততে পারলে র্যাংকিংয়ের কিছু পয়েন্ট অর্জন হবে মুশফিকদের।
