শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৪
হিংসাত্মক রাজনীতি পরিহার করতে হবে বর্তমানে দেশে যে অস্থিরতা আর অচলাবস্থা বিরাজ করছে তার জন্য আমি মনে করি আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বহীনতাই দায়ী। এই অচলাবস্থার মাঝে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিরাজ করছে তাতে আমরা শুধু ক্ষমতাসীন এবং বিরোধি দলগুলোর মাঝে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এবং আত্মপক্ষ সমর্থন ছাড়া আর কিছুই দেখি না। ব্যঙ্গ কিংবা অমার্জিত ভাষা প্রয়োগ এবং ব্যক্তিগত বিষয়ে আঘাত করা যেন রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে, যা সুস্থ রাজনীতিতে কখনই কাম্য নয়। এতে একদিকে যেমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি কলুষিত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ আস্থা হারাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর উপর এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতার উপর। সেইসাথে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হওয়ায় এখানে দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনে জনগণ আস্থাবান নয়। তাই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য চাই হিংসাত্মক রাজনীতি পরিহার করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন নতুবা নির্বাচন কমিশনকে হতে হবে বাস্তবিক অর্থে নিরপেক্ষ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। কাজী রোকসানা ইসলাম রুমি শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা দেশ সেবার সুন্দর মানসিকতা ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য যে দু’টি আলাদা আলাদা ধারণা বা বিষয় লক্ষণীয় তা থেকে মনে হয় যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণের জন্য সরকার গঠন নয় বরং নিজেদের সুবিধার দিক থেকে দু’টি ভিন্ন বিষয় উত্থাপিত হচ্ছে যা দলগুলোর ক্ষমতাসীন হওয়ার অভিপ্রায় আর এখানে “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন” কথাটি অর্থহীন । “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন” কথাটি তখনি বিবেচ্য বা অর্থপূর্ণ হবে যখন সকল দলের মধ্যে একটি মাত্র মত বা ধারণা জন্ম নেবে জনগণের সরকার গঠনের জন্য। যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করছে তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পারস্পরিক আলোচনার মধ্যদিয়ে একটি সিদ্ধন্তে পৌঁছানো যা হবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের একটি মাত্র প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়া হওয়া উচিত নির্দলীয় কেননা এখানে কাউকে দোষারোপ করার কোন পথ খোলা নেই । “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন” এমন যেখানে পরাজিত দল পাবে বিজয়ী দল থেকে সান্ত্বনা এবং বিজয়ী দল পাবে পরাজিত দল থেকে অভিনন্দন, এটিই আমাদের কাম্য আর এর জন্য প্রয়োজন সুন্দর মানসিকতা। মনিরুল ইসলাম (মনির) বি এ অর্নাস, ৪র্থ বর্ষ, ইংরেজী বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আগামীতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য দরকার সহনশীল রাজনীতি যে কারণে আজ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, বাংলাদেশে কি আগামীতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে? জানি না আপনারা কি বলবেন? তবে আমি বিশ্বাস করি বর্তমান বিরাজমান অস্থিতিশীল ও হিংসাত্মক রাজনীতি দূর হলেই আগামীতে বাংলাদেশ দেখতে পারে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এখন হয়তোবা অনেকেরই প্রশ্ন হতে পারে যে, বর্তমান বিরাজমান হিংসাত্মক ও অস্থিতিশীল রাজনীতি দূর হবে কিভাবে? জবাব খুব সহজ কেননা এজন্য আমাদের বেশি ভাবতেও হবে না আবার নিজেদের পকেট থেকে টাকাও খরচ করতে হবে না কারণ শুধু সহনশীল রাজনীতি চর্চাতেই দূর হবে সকল প্রকার হিংসাত্মক ও অস্থিতিশীল রাজনীতি। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায় ৬ এপ্রিল ২০১৩ খ্রি: শনিবার হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত লংমার্চ কর্মসূচির কথা কারণ আমরা সবাই লক্ষ্য করেছি বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহনশীল রাজনীতির কারণে বিচ্ছিন্ন কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে হেফাজতে ইসলাম তাদের কর্মসূচি শেষ করতে পেরেছে। শুধুমাত্র তাই নয় আমি মনে করি সহনশীল রাজনীতি প্রতিষ্ঠা পেলে সরকার ও বিরোধী দল নেতার মধ্যে গোল টেবিল বৈঠক সম্ভব হবে এবং তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে সৃষ্টি জটিলতা দূর হবে আর এই জটিলতা দূর হলেই বেরিয়ে আসবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের রূপরেখা। তাই আমি বিশ্বাস করি সহনশীল রাজনীতিই পারে আগামীতে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে। তারেক রহমান স্নাতক সম্মান (বাংলা), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পূর্ব শর্তই হলো সমঝোতা ও সংলাপ সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, রাজনৈতিক অসহনশীলতা, অনুদারতা সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে আপোষহীন নীতি এসবই যেন এক অগণতান্ত্রিক চিন্তাধারার ফসল, যা প্রতিনিয়তই পারস্পরিক সংঘর্ষের সৃষ্টি করছে। ঘনঘন হরতাল, ভাংচুর, বিস্ফোরণ, পরীক্ষার্থীদের হয়রানি, ব্যবসায়ী, শ্রমিক তথা বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ আজ বড়ই ভোগান্তির শিকার। অর্থনৈতিক উন্নতি-অগ্রগতি পিছিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতালোভীরা ক্ষমতা পাবার লোভে একের পর এক টালবাহানা সৃষ্টি করছে। আর প্রাণ বিসর্জন দিতে হচ্ছে নিরীহ জনগোষ্ঠীকে। সময়ের স্রোতে নির্বাচনও ঘনিয়ে আসছে। নির্বাচনী হাওয়া জনমনে আশার সৃষ্টি করতে পারছে না। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলো বারংবার দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে; কিন্তু গণতান্ত্রিক সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করছে না। গণতান্ত্রিক সমঝোতা ও সংলাপ ছাড়া কখনই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হতে পারে না। সরকারি দলের নির্বাচনী রূপরেখা এবং বিরোধী দলের নির্বাচনী রূপরেখা উভয়ে গণতান্ত্রিক সংলাপে উপস্থাপন করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত, যাতে আগামী নির্বাচনে কোন বির্তক কিংবা সংঘাতের সৃষ্টি না হয়। মো. কবিরুল ইসলাম অর্থনীতি বিভাগ (২য় বর্ষ), দিনাজপুর সরকারি কলেজ দিনাজপুর হ্যাঁ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে সবাইকে থাকতে হবে উদার বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি যা দেখা যায় এতে কিছুদিন পরেই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করবে এই দেশ। পাশাপাশি কিছুদিন পরেই নির্বাচন। আমরা দেখেছি সবার ক্ষেত্রেই। যে যার ক্ষমতায়নে দেশকে একটু উন্নতির পথে নেয়ার চেষ্টা করে। তবে নির্বাচনের আগে আগে নানারকম সন্ত্রাসীমূলক কাজ করে সাবেক বাংলাদেশ করে দেয়, সোনার বাংলাদেশ আর হয়ে উঠে না। মাঝখান থেকে নেতারা হাতিয়ে নিয়ে যায় সব। আবার যখন তারা বিরোধী দলে থাকে তখন হাতিয়ে নেয়া টাকা দিয়ে আদালত নিয়ন্ত্রণ করে। তাই সবাইকে উদার মানসিকতা নিয়ে আগামী নির্বাচনে আসতে হবে এবং সাধারণ জনগণকে যোগ্য নেতা বাছাই করতে হবে। মো. আতিকুর রহমান সোহাগ শ্রেণি একাদশ (বাণিজ্য), বামনা সারওয়ারজান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, বামনা, বরগুনা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন