সময়ের অন্যতম আলোচিত প্রযুক্তি পণ্য হিসেবে শীর্ষেই স্থান করে নিয়েছে গুগল’র তৈরি চশমা। গুগল গ্লাস নাম নিয়ে এই বিশেষ চশমাটি বলা যায় চশমা নামে পরিচিত বস্তুটির ধারণাই পাল্টে দিয়েছে। চোখের সমস্যা বা কেবল ফ্যাশনের অনুষঙ্গই নয়, গুগল যে চশমাটি তৈরি করেছে, সেটি রীতিমতো একটি কল্পবিজ্ঞানের গ্যাজেট। ছবি তোলা থেকে শুরু করে এর মাধ্যমেই সকলের সাথে যোগাযোগের কাজও করা যাবে। চলতি বছরের শুরুতেই গুগল জানিয়েছিল, তাদের স্বপ্নের এই গ্লাস তৈরির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। আর খুব দ্রুতই পরীক্ষামূলকভাবে এটি ডেভেলপারদের হাতে পৌঁছে যাবে। গুগল’র ঘোষণা অনুযায়ী প্রথম লটের গ্লাসগুলো ডেভেলপারদের হাতে পৌঁছে যেতে শুরু করেছে।
যা আছে গুগল গ্লাসে
গুগল গ্লাসের প্রথম লটটি সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া শুরু হতেই গুগল তাদের এই গ্লাসের স্পেসিফিকেশন জানিয়ে দিয়েছে সকলকে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো আকৃতির মুখের সাথে সঠিকভাবে বসে যেতে এতে থাকছে নমনীয় ফ্রেম আর পৃথক পৃথক আকৃতির নোজপ্যাড। এতে যে হাই-ডেফিনেশন ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি ব্যবহারকারী থেকে ৮ ফুট দূরত্বে ২৫ ইঞ্চি এইচডি ডিসপ্লে প্রদর্শন করবে। এর সাথে স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে ক্যামেরা, যাতে ৫ মেগাপিক্সেল রেজ্যুলেশনের ছবি এবং ৭২০ পিক্সেল রেজ্যুলেশনের ভিডিও ধারণ করা যাবে। গান শুনতে এতে রয়েছে বোন কন্ডাকশন ট্রান্সডিউসার। সংযোগের জন্য এটি ব্লুটথের পাশাপাশি ওয়াই-ফাইও সমর্থন করে। গুগল ক্লাউড স্টোরেজ গুগল ড্রাইভের সাথে সিনক্রোনাইজ করে এটি ১২ গিগাবাইটসহ সর্বমোট ১৬ গিগাবাইট স্টোরেজ সমর্থন করে। গুগল জানিয়েছে, সাধারণভাবে ব্যবহার করলে এটি একবার চার্জ দিলে টানা একদিন চলবে। তবে হ্যাংআউট বা ভিডিও কনফারেন্সের মতো কাজে ব্যাটারি খরচ একটু বেশিই হবে। যেকোনো ধরনের ব্লুটুথ ডিভাইসের সাথেই সংযুক্ত হতে পারে এটি। এর জন্য তৈরি বিশেষ মাইগ্লাস অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্য অ্যান্ড্রয়েড ৪.০৩ বা তার চেয়ে আপডেট থাকতে হবে। এই অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্যে জিপিএস এবং এসএমএস চালু করা যাবে।
গুগল গ্লাসের ফিচার
গুগল গ্লাসের রয়েছে আকর্ষণীয় নানা ধরনের ফিচার। কল্পবিজ্ঞানের বইয়ে কিংবা সিনেমায় অনেক সময়েই আমরা নায়কের চোখে এমন গ্লাস দেখে থাকি, যেগুলো প্রায় সব ধরনের কাজ করতে সক্ষম। গুগল গ্লাসেও এমন অনেক সুবিধাই আছে। নিচে এর কিছু ফিচার তুলে ধরা হলো।
ছবি তোলা :ছবি তোলার শখ যাদের অনেক বেশি, তাদের জন্য আদর্শ হতে পারে গুগল’র এই গ্লাস। অনেক সময় দেখা যায় পকেটের ফোনটি বের করতে করতেই ছবির ফ্রেমটি নষ্ট হয়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যেই ছবি তুলতে অতুলনীয় এই গ্লাস। যেকোনো সময় কেবল চোখের ইশারাতেই এটি ছবি তুলে ফেলে নিমেষেই।
ভিডিও করা :ছবি তোলার মতো ভিডিও করতেও এই গ্লাসে বাড়তি কোনো কাজ করার প্রয়োজন নেই। চোখে পরিহিত অবস্থায় আপনি যা দেখছেন, তার সবই ভিডিও করতে পারবে এই গ্লাস। চোখের ইশারায় যেমন এটি ভিডিও শুরু করবে, তেমনি চোখের ইশারাতেই ভিডিও করা বন্ধও করে দিতে পারবে এই গ্লাস।
ভিডিও কনফারেন্স :আগেই বলা হয়েছে, এই গ্লাস সমর্থন করে ওয়াই-ফাই। আর অনেক ধরনের অ্যাপ্লিকেশনই রয়েছে এর জন্য। এরকম কিছু অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ভিডিও কনফারেন্স করা যাবে এই গ্লাস দিয়ে। আর এই ভিডিও কনফারেন্সে আপনার চারপাশের পুরোটাই দেখিয়ে দিতে পারবেন অন্যপাশের ব্যক্তিকে।
পথ নির্দেশিকা :নতুন কোনো জায়গায় গিয়ে পথ না চিনলেও কোনো সমস্যা নেই এই গ্লাস থাকলে। পথের নির্দেশনা দিতে এটি আপনার গ্লাসেই প্রদর্শন করবে রাস্তা। গুগল ম্যাপ এবং গুগল আর্থ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কোনো স্থানের দূরত্ব, সেখানে যাওয়ার পথ এবং আনুষাঙ্গিক অন্যান্য তথ্য আপনার গ্লাসের ডিসপ্লেতে প্রদর্শিত হবে।
কণ্ঠের ব্যবহার :কণ্ঠ ব্যবহার করেই গুগল গ্লাসের মাধ্যমে অনেক কাজ করা যাবে। চোখের ইশারার পাশাপাশি কথা বলেই সেটা ম্যাসেজ আকারে পাঠিয়ে দিতে পারবেন কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির কাছে। কেবল ম্যাসজে পাঠানোই নয়, কণ্ঠের মাধ্যমে সার্চও করতে পারবেন গুগলে। যেকোনো প্রশ্ন আপনি উচ্চারণ করলেই তা গুগল সার্চ করে প্রদর্শন করবে ডিসপ্লেতে। আবার আপনার উচ্চারিত কথাগুলো এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর করেও প্রদর্শন করবে এই গ্লাস।
গ্লাসটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে সব ধরনের মানুষই এটি পছন্দ করে। কেবল তাই নয়, এগুলো যেমন নমনীয়, তেমনি টেকসইও বটে। গুগল আশা করছে, মানুষের মধ্যে এটি নিয়ে যেমন উচ্চাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণও হবে।
