আলোকপাত

এ কোন অজানার পথে আমরা!

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৪৩
সবার মুখেই এক কথা, দেশ কোথায় যাচ্ছে। দেশ কি অনিশ্চয়তার অন্ধকারেই নিমজ্জিত হবে? রাজনীতিকরা বা অদৃশ্য দেশবিরোধীরা কি দেশটাকে নিঃশেষ করেই ছাড়বে? মানুষের শান্তি বলে কি কিছুই থাকবে না? মানুষ কি আতংকের মধ্যেই জীবন কাটাবে? মানুষ কি নির্বিঘ্নে আর নিরাপদে গন্তব্যে যেতে পারবে না? ঘর থেকে বের হতেই ভয় এসে আঁকড়ে ধরে, ঘরে কি আবার ফিরতে পারবে? এরকম অনিশ্চয়তার মধ্যেই বসবাস করছে মানুষ। রাজনীতির নামে এ কোন সহিংসতা চলছে! শেষ পর্যন্ত আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে? এমন হাজার প্রশ্ন আজ পথে হাটে ঘাটে পাড়া মহল্লায়। এর উত্তর কারো কাছে আছে বলে জানা নেই, এ মুহূর্তে তা বলাও কঠিন। তবে ঈশান কোণে অন্ধকার দেখে মনে হচ্ছে আলো বুঝি আর আমাদের ধরা দেবে না। কারণ পেশিশক্তি আর হিংস্র উন্মাদনা আমাদের চারপাশ দখল করে নিচ্ছে। পরিত্রাণ পাবার কোন লক্ষণ তো দেখছি না। প্রতিদিনই নিহতের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে সম্পদ। হিংস্রতার দিক দিয়ে যেন আমরা সোমালিয়া কিংবা আফগানিস্তান হতে আর বাকি নেই। চলমান এই অস্থিরতার কোন দিকনির্দেশনাও নেই। কে ভালো আর কে মন্দ তা বুঝার জ্ঞান-বুদ্ধিও যেন হারিয়ে ফেলছে মানুষ। সরকার ও বিরোধী দলের মাঝখানে অসংখ্য দৃশ্য -অদৃশ্য শক্তি আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং অপ্রাসংগিক ও অপ্রয়োজনীয় ইস্যু বানিয়ে যাচ্ছে। তবে শুধু এটুকুই বলা যায়, আজ আমরা কেউই ভালো নেই। কেউই স্বস্তিতে দিন যাপন করতে পারছি না। শান্তি আজ সুদূর পরাহত। তাহলে দেশটা কোথায় যাচ্ছে? এভাবে কি চলবে? এ দায় কার? সমাজের নিচু স্তর থেকে উঁচু স্তর পর্যন্ত একশ্রেণির মানুষ যারা প্রকৃতপক্ষে সুবিধাভোগী এবং হিংস্র তাদের সুবিধাগুলো চরিতার্থ করবার জন্য সমাজের কিছু মানুষরূপী কীট-পতঙ্গকে ব্যবহার করে তারা ব্যক্তিগতভাবে সত্যকে মিথ্যাচার করে নিজের আধিপত্য, নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। স্বাভাবিক সাধারণ জীবনে অভ্যস্ত মানুষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিপদগ্রস্ত করছে, পুরো সমাজটাকে কলুষিত করছে। সেই আদিকাল এবং আদিযুগ থেকে আমরা যারা স্বাভাবিক জীব হিসাবে হূদ্যতা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সেতুবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে, রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় না হয়েও গভীর আত্মীয়তায় একাত্ম হয়ে একই সমাজে বসবাস করছি, সেই স্বাভাবিক নিয়মটাকে ভূলুণ্ঠিত করছে ঐ শ্রেণির মানুষগুলো। আমরা এ থেকে পরিত্রাণ চাই, আমরা অপরাজনীতির হিংস্রতা থেকে মুক্তি চাই, আমরা চাই আমাদের পূর্ব পুরুষেরা যেভাবে আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে সৌহার্দ্য, সমপ্রীতির সোহানে একত্রে জীবনযাপন করে আসছিল, একে অপরের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় এগিয়ে গিয়েছিল, একে অপরকে সামনে এগিয়ে নিতে শক্তি যুগিয়েছিল আজকের এই একবিংশ শতাব্দিতে এসে আমরা সকল সংঘাত-হিংস্রতাকে পরিহার করে আধুনিক সভ্যতার আধুনিক সুযোগ-সুবিধাগুলো আত্মস্থ করে একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করে সহাবস্থান করে এগিয়ে যেতে চাই সামনের দিকে। মনে রাখতে হবে এদেশ আমাদের সবার। যদিও বলা হয়ে থাকে, গণতান্ত্রিক দেশে হরতাল হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এ কেমন হরতাল? যে হরতালে গাড়ি ভাঙ্গা হয়, গাড়িতে আগুন দেয়া হয়, সম্পদ ধ্বংস করা হয়, বোমাবাজি করা হয়, মানুষ মারা হয়। ঘরে থেকেও মানুষ আজ নিরাপদ নয়। সামপ্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় হরতালে প্রতিদিন ক্ষতি হয় প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা। এ অবস্থায় যদি আরো হরতাল ও অন্যান্য নাশকতামূলক সহিংসতা চলতে থাকে তা হলে দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ ভেঙ্গে দেশ অচল হয়ে যাবে। আমি একজন রফতানিকারক। গত ২০ বছরে হরতালে আমার রফতানি বন্ধ হয়নি। এবারের হরতালের সাথে হিংস্রতার কারণে আমি রফতানি করার সাহস পাইনি। রফতানি মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। বায়ারের চাহিদা মোতাবেক যথাসময়ে মাল পাঠাতে পারছি না। কারণ দেশের অভিভাবক ও বুদ্ধিজীবী মুক্ত চিন্তার মানুষকে এগিয়ে আসা উচিত। আমাদের সকলেরই বোঝা উচিত সবার উপরে দেশ। তাই আলোচনার সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে। আলোচনাই যে সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ সে কথাটি আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে। আলোচনা ছাড়া তো সমঝোতা আশা করা যায় না। গণতান্ত্রিক দেশে মতান্তর, চরম প্রতিহিংসা আলোচনার পথকে রুদ্ধ করে রাখতে পারে না। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশের ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আলোচনার টেবিলে বসে সমস্যার সমাধান করতে হবে—এই প্রত্যাশা আমাদের সবার। লেখক:এগ্রো ফুড প্রসেসর এসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন