বোস্টন ম্যারাথনে মারাত্মক বোমা হামলার পর প্রায় দুইদিন অতিবাহিত হইয়া গিয়াছে। কিন্তু এখনও দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় নাই। জানা যায় নাই ঘৃণ্য এই হামলার কারণ। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের রাজধানী বোস্টনে সংঘটিত এই বিস্ফোরণে শিশুসহ তিনজনের প্রাণহানি ঘটিয়াছে। আহত হইয়াছে প্রায় দুইশত নিরপরাধ নারী-পুরুষ ও শিশু। তন্মধ্যে হাত-পা বিচ্ছিন্ন হইয়া গিয়াছে বেশ কয়েকজনের। হতাহতদের প্রায় সকলেই উত্সবমুখর পরিবেশে ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। এক মুহূর্ত আগেও এমন ভয়াবহতার কথা তাহারা কল্পনাও করেন নাই। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে নাইন-ইলেভেনের বেদনাদায়ক স্মৃতি মনে করাইয়া দিয়াছে। শোকের তীব্রতাকেও ছাপাইয়া উঠিয়াছে ঘৃণা ও ক্ষোভ। এই ঘৃণা এই ক্ষোভ যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাহাও অস্পষ্ট নহে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলিয়া মন্তব্য করিয়াছেন এবং ইহার জন্য যে বা যাহারাই দায়ী হউক অচিরেই তাহাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করিয়াছেন। আমরা এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। গভীর সহমর্মিতা জানাই নিহতদের শোকাহত স্বজন এবং আহত ব্যক্তিবর্গের প্রতি।
সন্ত্রাস সর্বদাই ঘৃণিত ও নিন্দনীয়। যেইখানেই সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটুক এবং যাহারাই এই দুষ্কর্মে জড়িত থাকুক—সর্বক্ষেত্রেই ইহার প্রকৃতি ও পরিণতি অভিন্ন। নিশ্চিতভাবে নিরীহ নিরপরাধ মানুষকেই ইহার নির্মম শিকারে পরিণত হইতে হয়। তাত্ক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতিকেও ছাপাইয়া ওঠে ইহার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়া। সন্ত্রাস কোনো সমস্যার সমাধান তো করেই না, বরং সমাজে স্থায়ীভাবে বিষবৃক্ষের বীজ বপন করে। সেই বিষবৃক্ষটি হইল ঘৃণা ও বিদ্বেষের। দিনে দিনে তাহা মহীরুহে পরিণত হয়। সমাজের বোধবুদ্ধিকে গ্রাস করিয়া ফেলে। রক্ত আরও রক্তপাতের পথ সুগম করে। হত্যা ডাকিয়া আনে আরও হত্যাযজ্ঞকে। সর্বোপরি, সন্ত্রাসের সমর্থক ও অনুসারীরা ঘৃণা ও প্রতিহিংসার যেই আগুন প্রজ্বলিত করে—তাহারা নিজেরাও পুড়িয়া মরে সেই আগুনে। ইহার অজস্র দৃষ্টান্ত আমাদের চোখের সামনেই আছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হইল, তবু শুভবুদ্ধির উদয় হইতেছে না। রুদ্ধ হইতেছে না সন্ত্রাসের উন্মাদনা। বিশ্ব সম্প্রদায়ের সম্মুখে ইহাই যে এই মুহূর্তের সর্বাপেক্ষা বড়ো চ্যালেঞ্জ তাহাতে কোনো সন্দেহ নাই। স্ব স্ব অবস্থান হইতে সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসের এই দানবকে রুখিয়া দিতে না পারিলে কেহই যে নিরাপদ নহে—বোস্টনের বর্বরতা আমাদেরকে আবারও তাহা মনে করাইয়া দিল মাত্র।
