শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি হবে না, তা বলা যায় না
বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তপ্ততা ও অস্থিরতা অন্যান্য যে কোন সময়ের তুলনায় প্রকট আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থাহীন, অসহিষ্ণু ও অনমনীয় মনোভাবের কারণে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বেড়েই চলেছে। ফলশ্রুতিতে দেশ ও দেশের মানুষ আজ সংকটাপন্ন। প্রতিটি মানুষ চরম আতংক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এর সাথে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে সে বিষয়টাকে কেন্দ্র করে দেশের সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে একটি জাতীয় মতানৈক্য ছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব কি না, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করার জন্য বৃহত্তর দু’টি দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা বা সংলাপের প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমেই পারস্পরিক মতানৈক্য বা বিশ্বস্ততার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে, সংঘাত বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে কখনও সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশ ও মানুষের স্বার্থে আরো দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।
তৌহিদুর রহমান
শিক্ষার্থী, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
আগামী নির্বাচন হবে একটি সংঘাতপূর্ণ নির্বাচন
বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মূলে বিরাজ করছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিভাবে অনুষ্ঠিত হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই বিষয়ে সদা দেশ তথা জনগণ আজ উত্কণ্ঠিত। একদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না দেয়ার পক্ষে আওয়ামী লীগ তথা সমস্ত ১৪ দল অনড় হয়ে জেঁকে বসেছে। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। হরতালসহ নানাবিধ বিক্ষোভ সমাবেশের ফলে দেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া সমগ্র দেশ আজ যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ব্যাকুল ঠিক তখনই এক শ্রেণীর সন্ত্রাসীরা দেশে ব্যাপকহারে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে এসব হত্যাযজ্ঞ কতটুকু শোচনীয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সর্বোপরি দেশের জনগণ শান্তি চায়। কিন্তু আগামী নির্বাচন কতটুকু শান্তিপূর্ণ হবে সেটা এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং দেশের স্বার্থে, দেশের জনগণের স্বার্থে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার্থে প্রধান দু’দলের উচিত সমঝোতার মাধ্যমে নির্দলীয় সরকার গঠন করা এবং নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করে জাতিকে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেয়া।
মো. সাইফুল ইসলাম
স্নাতক (সম্মান), ১ম বর্ষ,
সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাক
নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছ হবে না
রাজনীতির ময়দানে অস্থিতিশীলতার প্রধান নিয়ামক নির্বাচনে দলীয় কিংবা নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার টানাপোড়েন চলছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সন্দেহমুক্ত নয়, আবার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য নয়। এ অবস্থার সমাধান হওয়া জরুরি, না হলে সংঘাত অনিবার্য। এ সংঘাত এড়ানোর একটা ভালো উপায় হতে পারে বিবদমান দলগুলোর মধ্যে সংলাপ। একটি রাষ্ট্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে সরকার ও বিরোধী দলের সহাবস্থান প্রয়োজন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যে তত্ত্বাবধায়ক নামে হতে হবে এমন কথা নেই, ভিন্ন নামেও হতে পারে। তাই কোন পদ্ধতিতে হলে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে জাতি আজ দ্বিধাবিভক্ত। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নির্বাচন, তাই নির্বাচন পদ্ধতিকে সব রাজনৈতিক দলের গ্রহণযোগ্য করাও বাঞ্ছনীয়।
আরিফুল ইসলাম
মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদ, লেভেল-২, সেমি.-১
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
আজকের অন্ধ-রাজনীতি নির্বাচনের কথা বলে না; ধ্বংসের বাদ্য বাজায়
আজকের এই অন্ধ-রাজনীতি নির্বাচনের কথা বলে না; ধ্বংসের বাদ্য বাজায়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে এরকম রাজনৈতিক অস্থিরতা আর কখনো সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হয় না। যে রাজনীতির অপনীতির ঘাড়ে ভর করে বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করে দেশকে প্লে-গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করে গণমানুষকে প্লেয়ার হিসেবে মাঠে নামায়, আর আইন প্রয়োগকারী অস্ত্রধারীরা রেফারির বেশে গণপ্লেয়ারের খেলাকে ভুল ধরে প্রকাশ্য শাস্তির ময়দান তৈরি করে হত্যার মাধ্যমে ভয়ংকর শাস্তি প্রদান করে, জনঅধিকার, জনমতামত রহিত করে সেখানে বিতর্কিত রাজনৈতিক নির্বাচনী মঞ্চ তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই হবে না। যা হবে সব আশায় গুড়েবালি। তাই দেশের এই চরম পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা করতে হবে, তত্ত্বাবধায়ক, অন্তর্বর্তীকালীন, নির্বাচন নির্ধারক সরকার যে কোন নামেই হোক না কেন একজন নিরপেক্ষ লোক ঠিক করতে হবে; যার অধীনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এগুলো যদি প্রধান দুই দল মেনে নেয় তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ হবে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হবে।
কামরুল হাসান (নাজমুল)
এলএল.বি (অনার্স) (শেষ বর্ষ), আইন ও বিচার বিভাগ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ঢাকা
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে না
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মূল শর্ত হচ্ছে একটি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ। আর আমাদের দেশের প্রধান দু’টি দল ক্ষমতায় যেতে মরিয়া, দেশের কি হল তা দেখার বিষয় নয়, নিজেরা ক্ষমতায় গেলাম কিনা সেটাই তাদের প্রধান বিষয়। যার জন্য সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা, হানাহানি। প্রতিনিয়ত ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ জনগণ। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, কিন্তু এর মূল নীতিকে মানি না, শুধুমাত্র নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বার্থে। যার জন্য আমাদের সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তবে আমি মনে করি আমাদের দেশে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কিছু নেই। আর তাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য উভয় দলেরই উচিত সংলাপে বসা। আমার মনে হয় সংলাপই পারে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে।
এস এম আবুল হাসনাত
অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, মিরপুর, ঢাকা
