অষ্টম বাংলাদেশ গেমসের পর্দা উন্মোচন

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৭
আজ নয়দিনব্যাপী অষ্টম বাংলাদেশ গেমসের পর্দা উঠিতেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে ইহার উদ্বোধন করিবেন। রাজধানী ঢাকার ২৭টি ভেন্যুতে একযোগে এই গেমস অনুষ্ঠিত হইবে। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বিশাল এই আয়োজনের সকল প্রস্তুতিই ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হইয়াছে। তবে ক্রীড়াবহির্ভূত যেই দুইটি বিষয় সবকিছুকে ছাপাইয়া উঠিয়াছে তাহা হইল— নিরাপত্তা ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা। তাহার কারণটিও সহজেই বোধগম্য। বেশ কিছুদিন যাবত্ হরতালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি চলিতেছে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা। সমপ্রতি বোস্টন ম্যারাথনে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ইহাতে নূতন মাত্রা যোগ করিয়াছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখিয়া নিরাপত্তার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হইতেছে। ইহার যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য। তবে যেই বিষয়টি এখনও উদ্বেগের কারণ হইয়া আছে তাহা হইল হরতালসহ সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি। আয়োজকদের পক্ষ হইতে গেমস চলাকালে হরতালসহ বড়ো ধরনের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আবেদন জানানো হইয়াছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতোটাই নাজুক যে এই আবেদনে কতটুকু সাড়া মিলিবে বলা মুশকিল। যাহাই হউক, দীর্ঘ বিরতির পর দেশের বৃহত্তম এই ক্রীড়া অনুষ্ঠানের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তিকর সংবাদ। আমরা ইহার সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করি। আমাদের ক্রীড়াবিদদের পথ কখনই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। তাহাদের পথে পথে দৃশ্য-অদৃশ্য অনেক বাধা। সর্বাপেক্ষা বড়ো বাধাটি হইল সম্পদের সীমাবদ্ধতা। আমাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে খুব কমই মিল ঘটে। তদুপরি রহিয়াছে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। তাহা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের ক্রীড়াবিদদের সাফল্য উপেক্ষা করিবার মতো নহে। ইতিমধ্যে তাহারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করিয়াছেন যে উপযুক্ত সহায়তা ও সমর্থন পাইলে কোনোকিছুই অসম্ভব নহে তাহাদের পক্ষে। তবে যতো মেধাই থাকুক এমনি এমনিই ভালো ক্রীড়াবিদ হওয়া যায় না। ইহার জন্য শারীরিক সামর্থ্য দরকার। সবচাইতে বেশি দরকার নিরন্তর চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এইসব ক্ষেত্রে খুব বেশিদূর আগানো যায় না। এই ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা যে একেবারে নাই তাহাও নহে। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হইলেও সরকারি-বেসরকারি কিছু কিছু উদ্যোগী প্রতিষ্ঠান অবশ্যই আছে। নূতন নূতন প্রতিষ্ঠান গড়িয়া তুলিবার লক্ষ্যে ক্রীড়াখাতে সরকারি ব্যয়বৃদ্ধি ছাড়াও নানাভাবে এই ঘাটতি পূরণ করা যায়। তন্মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও খুবই কার্যকর পন্থা হিসাবে বিবেচিত হইতে পারে বাংলাদেশ গেমসের মতো জাতীয়, বিভাগীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিভিন্ন ক্রীড়ানুষ্ঠান। বত্সরব্যাপী নিয়মিতভাবে এই ধরনের আয়োজন চলিলে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলি যেমন অধিকতর সক্রিয় হইয়া উঠিবে, তেমনি নূতন নূতন প্রতিষ্ঠানেরও অভ্যুদয় ঘটিবে। সেই সাথে আমাদের ক্রীড়াবিদরাও নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি উত্কর্ষ সাধনের সুযোগ পাইবে। এই দেশে তাহাদের যথোচিত পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মতো সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যে অভাব নাই তাহাও ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হইয়াছে। অপ্রিয় হইলেও সত্য যে বড়ো ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা একটি নিয়মিত ব্যাপার হইয়া দাঁড়াইয়াছে। অষ্টম বাংলাদেশ গেমস আয়োজনের ক্ষেত্রেও অসচ্ছতার কিছু অভিযোগ উঠিয়াছে। অভিযোগটি সত্য হইলে তাহা দুর্ভাগ্যজনকই বলিতে হইবে। এমনিতেই সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে বহু দরকারি কাজও আমরা সময়মতো সমাধা করিতে পারি না। সেইখানে অর্থ লইয়া কোনো প্রকার অনিয়ম-অস্বচ্ছতা কোনোভাবেই মানিয়া লওয়া যায় না। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে প্রতিবেশী ভারতেও এই ধরনের একটি আয়োজনের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠিয়াছিল। কিন্তু সরকারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত কঠোর। একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিও এই দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন। কাহাকেও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হয় নাই। আশা করি, আমাদের সরকারও এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করিবেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন